মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৩ ফাল্গুন ১৪১৭
বাংলাদেশের বাকি ম্যাচগুলো জমাটি হবে ॥ বাশার
অনেক প্রতীৰার শেষে কোটি প্রাণে শিহরণ জাগানো বিশ্বকাপ ক্রিকেট এখন স্টেডিয়ামের সবুজ জমিনে। আনন্দে-উদ্বেলিত উপমহাদেশসহ গোটা পৃথিবীর ক্রীড়াপাগল মানুষ। ব্যাট-বলের লড়াই দর্শনে রোমাঞ্চ-শিহরণ-আবেগ হৃদয়ঘটিত সকল উপকরণই আজ উন্মুক্ত। প্রাণের সে ছোঁয়ায় রং চড়াতে নব সাজে সেজেছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ভারত-শ্রীলঙ্কার অনেক নগরী। না, এ সাজ বসনত্ম আগমনে নয়; ২০১১ বিশ্বকাপকে বরণ করে রঙিন শাড়িতে 'নববধূ'র ঘোমটা পরে রূপের পসরা সাজিয়েছে বঙ্গবন্ধু, শেরেবাংলা আর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম।
একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উত্তেজনায় কাঁপছে গোটা দেশ। সাবেক ক্রিকেটারদেরও ছুঁয়ে যাচ্ছে সে উত্তেজনা। নস্টালজিয়ায় ভর করে হাবিবুল বাশার সুমন যেন একটু বেশিই অধীর হয়ে আছেন। কারণ, গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে স্মরণীয় সাফল্য তুলে নেয়া এগারো টাইগারের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী পরিবারের এ কৃতী সনত্মান। বিশ্বকাপে তাঁর একানত্ম ভাবনা নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে কথা বলেন জনকণ্ঠের স্পোর্টস রিপোর্টার শাকিল আহমেদ মিরাজ।
শুরম্নতেই ২০০৭-এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ হতে ২০১১-এর বাংলাদেশ কল্পনার ভেলায় চড়ে হাবিবুল বাশার বলেন, 'হঁ্যা, ২০০৭-এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ আমার জীবনের স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটি। এবার ঘরের মাঠে সে স্মৃতি ফিরে আসার স্বপ্নে বিভোর আমি। এবারের বিশ্বকাপের জোরালো দাবিদার ভারত-ইংল্যান্ডসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে বি-গ্রম্নপে, গ্রম্নপের তিন দলই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও শাকিব-তামিমরা ভাল ক্রিকেট খেলেছে; আমাদের মনে রাখতে হবে ভারত-ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হতেই মিশন শুরম্ন করেছে। বাংলাদেশও ওয়ানডেতে ইদানীং চমৎকার ক্রিকেট খেলছে। আমাদের পরবতর্ী ম্যাচগুলো জমজমাট ম্যাচ হবে, এতে সন্দেহ নেই। তাই ঘরের দরজায় বিশ্বকাপ নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাকেও।' মাশরাফিকে নিয়ে অনেক তো নাটক হলো... এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'হঁ্যা, আমি একমত, মাশরাফিকে নিয়ে যা হলো, তাকে নাটকই বলতে হবে। আমি সিলেকশন কমিটিতে থাকলে মাশরাফিকে দলে রাখতে সম্ভাব্য সবকিছুই করতাম; যদি একবিন্দু সুযোগও থাকত তবে সেটি কাজে লাগাতাম। ঝুঁকি নিয়েই পনেরো জনের চূড়ানত্ম দলে রাখতাম। কারণ বাংলাদেশে মাশরাফি একজনই, অন্য কাউকে দিয়ে ওর অভাব পূরণ করা আদৌ সম্ভব নয়। বিশ্বকাপ শুরম্নর আগে কিছুদিন মাশরাফিকে নিয়ে এত কথা বলেছি যে এখন আর ভাল লাগছে না।' তার মানে পেস বোলিংয়ে খানিকটা ঘাটতি নিয়েই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ আসরে খেলতে নেমেছে, এমন প্রসঙ্গে বাংলাদেশে '০৭ বিশ্বকাপের সফল অধিনায়কের মনত্মব্য, 'অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে চিনত্মা করলে রবিউল-শফিউলরা খুবই তরম্নণ। তবে গত এক বছওে বেশিরভাগ ম্যাচেই মাশরাফি অনুপস্থিত থাকায় ওরা মাঠে পারফর্ম করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। সেটি কাজে লাগিয়ে তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের মেলে ধরেছে। তাই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও রিক্রুট হিসেবে শফিউল-নাজমুল খারাপ নয়। বাংলাদেশের পেস এ্যাটাক নিয়ে বলতে গেলে ঘুরেফিরে ওই মাশরাফি প্রসঙ্গই চলে আসে।' 'রকিবুল ধীরগতির ব্যাটিং করে'_ এমন অভিযোগ থাকার পরও চূড়ানত্ম দলে টিকে যাওয়া ও ওয়ানডেতে অভিজ্ঞ হয়েও অলককে বিবেচনায় না আনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে পজেটিভ মনোভাব প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'রকিবুল বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। এটা ঠিক যে, ওয়ানডেতে স্পীডি ব্যাটিংয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে ওর কিছুটা সমস্যা হয়। তবুও বলব দলের বিশেষ প্রয়োজনীয় মুহূর্তে এমন টেকসই ব্যাটসম্যানের প্রয়োজন রয়েছে। রকিবুলের কথা বলতে গিয়ে কাপালিকে টেনে আনা সমীচীন মনে করছি না। কারণ দু'জনের পজিশন এক নয়; অলকের ৰেত্রে ম্যাচের মধ্যে না থাকাটাই নেগেটিভ হিসেবে কাজ করেছে। হয়ত সে নির্বাচকদের পরিকল্পনাতেই ছিল না!' অলকের বাদ পড়ার পেছনে আনত্মর্জাতিক ম্যাচের অনুপস্থিতিকে বড় করে দেখছেন। কিনত্ম সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ ম্যাচে খারাপ করার পরও আশরাফুল কিভাবে টিকে গেলেন, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশের লিটল মাস্টার সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন ছিল এ রকম_ 'আশরাফুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অনেক জয়ই এসেছে ওর ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে। তাঁর মতো একজন ব্যাটসম্যানকে কেবলমাত্র ফর্ম দিয়ে বিচার করা যায় না। গত বিশ্বকাপে আমরা যে তিনটি ম্যাচ জিতেছিলাম তার দুটিই ছিল আশরাফুলের ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্ট, বড় প্রতিপক্ষের বিরম্নদ্ধেই আমরা আসল আশরাফুলকে দেখতে পাই। তাই ওঁর দলে থাকাটা খুব স্বাভাবিক। বরং বলব মাশরাফির ব্যাপারাটা আশরাফুলের মতো করে দেখলে অত ঝামেলা হতো না।' আইসিএল ট্র্যাজেডির পর বিশ্বকাপের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ আসরে টিকে গেছেন শাহরিয়ার নাফীস; এটা তাঁর ও বাংলাদেশের জন্য কতটা পজেটিভ? 'নাফীসের ফিরে আসায় অবশ্যই দলের ব্যাটিং গভীরতা অনেক বাড়বে। এ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে নাফীস একজন ভাল ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ও দলে থাকায় বাংলাদেশের জন্য ডিফারেন্ট একটা সুবিধা বয়ে আসতে পারে, সেটা হচ্ছে এক থেকে তিন নম্বর পজিশনে যারা খেলবেন_ টিকে থাকার জন্য তাদের মধ্যে ভাল করার বাড়তি একটা তাগিদ থাকবে; সবার ভেতর থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসবে।' দলে স্পিনারদের আধিক্য সম্পর্কে তার মূল্যায়নও বেশ ইতিবাচক_ 'সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের দলে কিন্তু ওভাবে বিশ্বমানের কোন ফাস্ট বোলার নেই। সুতরাং সোহরাওয়াদর্ী শুভকে দিয়ে হয়ত মাশরাফির অভাব পূরণে বিকল্প একটা চেষ্টা করা হয়েছে। এ কথা সত্যি যে, ভারতের মতো বাংলাদেশও বিশ্বকাপে ভাল কিছু করতে স্পিন এ্যাটাককে সামনে রেখেই এগুবে। ইতোমধ্যে যে প্র্যাকটিস ম্যাচগুলো হয়েছে সেদিকে তাকালেও 'স্পিন তত্ত্ব'র সত্যতা মেলে। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে প্রায় সব দেশের স্পিনাররাই ভাল করছে। এবারের আসরে বাংলাদেশের হয়ে কে তারকা হয়ে উঠতে পারেন, এ বিষয়ে সুমন বলেন, 'সবাই যা ভাবছে আমিও যুক্তিসঙ্গত কারণে তা-ই ভাবছি; আমাদের সুপার হিরো শাকিব-তামিম জ্বলে উঠবে। প্রস্তুতি ও প্রথম ম্যাচেই আপনারা সেটি দেখতে পেয়েছেন। আরেকটু যোগ করতে চাই, আশরাফুল যদি সময়মতো জ্বলে ওঠে, তাহলে সেও বিশ্বকাপের সেরা তারকা হয়ে উঠতে পারে। সুযোগ রয়েছে নাফীস-রাজ্জাকেরও। বিশ্বকাপকে বাড়তি চাপ হিসেবে না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক নৈপুণ্য মেলে ধরতে পারলে বাংলাদেশের পৰে একাধিক ক্রিকেটারের তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।' তিনি অনেকবারই বলেছেন, বিশ্বকাপে তাঁর প্রিয় দল বাংলাদেশ; কোন্ দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাশার বলেন, 'শক্তির বিচারে ওয়ানডেতে এখন বড় দলগুলোর মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে তাই 'অল টিম ওয়ার্ল্ডকাপ' বলা যায়। এককভাবে কোন দলকেই এগিয়ে রাখতে পারছি না। তবে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে 'হ্যাপি' হব।