মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
গ্রীষ্মে বিদ্যুতের ঘাটতি হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট
সংসদে প্রতিমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার ॥ আগামী বছরের শেষদিকে বিদু্যতের উৎপাদন চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশে বিদু্যতের ঘাটতি হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট। আর ২০১৩ সালের মধ্যে দেশ বিদু্যত ঘাটতি ও লোডশেডিংমুক্ত হবে। এছাড়া দেশে দিনে গ্যাসের ঘাটতি হচ্ছে ৫শ' মিলিয়ন ঘনফুট।
বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয় বেসরকারী সদস্য দিবসের প্রশ্নোত্তরপর্বে বিদু্যত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক সংসদে এ তথ্য জানান। সরকারী দলের শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শেষ পর্যনত্ম সরকারী খাতে ৮৫১, বেসরকারী খাতে রেন্টাল ১০৫ এবং কুইক রেন্টালে এক হাজার ২৩৮ মেগাওয়াটসহ দুই হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট ৰমতার বিদু্যত উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি ফেব্রম্নয়ারি মাসে সর্বোচ্চ বিদু্যত চাহিদা পাঁচ হাজার ৬শ' মেগাওয়াটের বিপরীতে গ্যাস সঙ্কটের কারণে গড় বিদু্যত উৎপাদন তিন হাজার ৮শ' থেকে চার হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে ঘাটতি কিছুটা কম। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির প্রেৰিতে ঘাটতি হবে দেড় হাজার মেগাওয়াট।
মেহের আফরোজ চুমকির প্রশ্নের জবাবে বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের বিদু্যত সঙ্কট নিরসন ও ঘরে ঘরে বিদু্যত সুবিধা পেঁৗছে দেয়ার লৰ্যকে সামনে রেখে এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। আগামী ২০২০-২০২১ সালের মধ্যে সরকার প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট ৰমতার বিদু্যত উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কাজী কেরামত আলীর প্রশ্নে তিনি বলেন, আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলোতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যনত্ম অধিক বিদু্যত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। যে কোন সেচপাম্পে যখন বিদু্যত দেয়া হবে তা যেন কমপৰে একটানা দুই ঘণ্টা চালু থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া একটি সেচ এলাকা সপ্তাহে একদিন লোডশেডিংমুক্ত রাখা হবে।
মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যনত্ম দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসৰেত্র হচ্ছে ২৩টি। এসব গ্যাসৰেত্রের সম্ভাব্য ও প্রমাণিত উত্তোলনযোগ্য মোট মজুদ ২২ দশমিক ৩৪ টিসিএফ। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যনত্ম ক্রমপুঞ্জিত মোট ৯ দশমিক ৯৭ টিএসএফ গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। অবশিষ্ট গ্যাস মজুদের পরিমাণ হচ্ছে ১২ দশমিক ৪৭ টিসিএফ।
তিনি আরও জানান, দিনে ৫শ' মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজি আমদানির লৰ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাতারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাৰর করেছে। এছাড়া বর্তমানে দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা হচ্ছে আড়াই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। আর উৎপাদনের পরিমাণ হচ্ছে দিনে দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।
মোছাম্মৎ ফরিদা আখতারের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩ হাজার ৮৮৬ মেগাওয়াট ৰমতার তাপভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্র আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে স্থাপনের লৰ্যে কার্যক্রম চলছে। এর জন্য ব্যয় হবে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইতোমধ্যে ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।