মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
স্পীকার কার্যালয়ের সামনে বিএনপি এমপিদের অবস্থান কর্মসূচী পালন
সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালন শেষে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। জোর করে স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করার সময় সংসদে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। এদিকে বেতন-ভাতা, গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণসহ সব কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়েও সংসদে না এসে অবস্থান কর্মসূচীর নামে সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে সরকারী দলের প্রধান হুইপ উপাধ্যৰ আবদুশ শহীদ অভিযোগ করেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের এ আচরণ সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
কর্মসূচী পালন শেষে ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের পৰ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিরোধী দলের সংসদে ফেরার ইচ্ছে থাকলেও সরকার নানাভাবে তা বাধাগ্রসত্ম করছে। এবারও যখন বিএনপি সংসদে ফেরার চিনত্মা করেছে, তখনই সরকার আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর বিরম্নদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিরোধী দলকে সংসদে ফিরতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে। তার পরও জনগণের স্বার্থে বিরোধী দল সংসদে যাবে। সংসদ ভবনের বাইরে প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে বিএনপি-জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্যরা মিছিল করে সরকারবিরোধী নানা সেস্নস্নাগানও দেয়।
অন্যদিকে অধিবেশন শুরম্নর পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির এই অবস্থান কর্মসূচী সম্পর্কে সরকারদলীয় চীফ হুইপ উপাধ্যৰ আবদুশ শহীদ অভিযোগ করেছেন, সংসদে না এসে স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে জোর করে অবস্থান কর্মসূচী পালনের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সচিবালয়ের সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে অশোভন আচরণ করেছে তা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি-জামায়াত জোট প্রমাণ করেছে তারা গণতান্ত্রিক শাসন, পরিবেশ ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চায় না। তাদের এ আচরণ গণতন্ত্রের বিপৰে, অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করবে।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বিএনপির নেতৃতা্বধীন চারদলীয় জোটের সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যনত্ম জাতীয় সংসদের স্পীকারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করেন। বিরোধী দল আহূত গত ৭ ফেব্রম্নয়ারি হরতালের সময় ও এর আগের দিন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাকমর্ীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে, দলীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার সুযোগ প্রদানসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে এই কর্মসূচী পালন করা হয়। এ নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারম্নকের নেতৃত্ব বিএনপি-জামায়াতের সংসদ সদস্যরা স্পীকারের কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে সার্জেট এ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। তারা এ সময় এ কর্মসূচী পালনে স্পীকারের অনুমতি আছে কিনা তা দেখতে চান। তিনি সবাইকে 'স্যার' সম্বোধন করে চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা ৰিপ্ত হয়ে নানা মনত্মব্য ছুড়লে এ সময় দু'পৰের মধ্যে মৃদু কথা কাটাকাটি হয়। ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সেখানে বক্তৃতা করেন। পরে তাদের পৰ থেকে স্পীকার বরাবর লেখা একটি স্মারকলিপি স্পীকারের পিএস আব্দুল হাইয়ের কাছে হসত্মানত্মর করা হয়। কর্মসূচী পালন শেষে সংসদ সদস্যরা সেস্নস্নাগান দিতে দিতে মিডিয়া সেন্টারে গিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। তারা বলেন, গত ৭ ফেব্রম্নয়ারি হরতালের সময় ও এর আগের দিন বিরোধীদলীয় সাংসদ, নেতাকমর্ীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরম্ন হলে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চীফ হুইপ উপাধ্যৰ আব্দুশ শহীদ ওই কর্মসূচীর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্পীকারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের নামে বিরোধী দলের ২০/২২ সংসদ সদস্য যা করেছে তা কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসসহ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের এই আচরণের কথা কোনভাবেই বলা সম্ভব না। এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ অধিবেশনে আসছেন না। তবে কমিটির মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। সরকারী বেতন-ভাতা, বিদেশ ভ্রমণসহ সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। ট্যাঙ্ ফ্রি গাড়িও আমদানি করেছেন। অথচ সংসদে যোগদানের পরিবেশ নেই বলে বাইরের দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্দোলনের নামে হরতাল ডাকছেন, পুলিশ হত্যা করছেন।
বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধান হুইপ আরও বলেন, কোন বিষয়ে বক্তব্য থাকলে সংসদে এসে বলুন, জনগণের ভোটের মূল্যায়ন করম্নন। নিজেরাই এমন ফাঁদ তৈরি করবেন যাতে সংসদ সদস্য পদ রৰায় আপনারা সংসদে আসতে বাধ্য হন।
বিএনপির ব্রিফিং অবস্থান কর্মসূচী শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারম্নক অভিযোগ করেন, যখনই বিএপি সংসদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, চিনত্মা করে; তখনই সরকার তাদের বাইরে রাখতে চায়। সরকার আনত্মরিক হলে ও সংসদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা সংসদে ফিরব।
বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী সরকার আনত্মরিক পরিবেশ না করলে দলটির সদস্যরা পদত্যাগ করবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়টি দলীয় সিদ্ধানত্ম নিতে হবে।' তবে দলীয় সংসদ সদস্যের সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে 'আইনগত বিষয়টি' তাদের মাথায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিরোধী দলের চীফ হুইপ বলেন, আমরা অনেক মুলতবি প্রসত্মাব দিয়েছি একটিও গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের মুলতবি প্রসত্মাব গ্রহণ করা হলে সংসদে যাওয়ার কথা ভাবব। হরতালের সময় রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমপিদের ওপর হামলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচী চলাকালে বিরোধী দলের ৮ জন সদস্য সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তারা হলেন বিরোধী দলের চীফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারম্নক, বরকত উলস্নাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, সৈয়দ আফিয়া আশরাফি পাপিয়া, জেডআইএম মোসত্মাফা আলী মুকুল ও জামায়াতের এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। হরতালের সময় পুলিশের হামলা-নির্যাতন, খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে মামলা, শেয়ারবাজার লুট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন তারা।