মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
২১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে আসার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সরকারের ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলতি মাসেই আসছে দু'টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ার ছাড়ার সময় ঠিক করে দেয়া হয়। সম্পত্তি পূর্ণ মূল্যায়নের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। লোকসান থাকায় ও ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকায় নতুন দু'টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসছে না।
বৃস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বৈঠকে এসব সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চলতি মাসেই মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির আরও শেয়ার বাজারে আসবে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে তিতাস গ্যাস কোম্পানি, ডেসকো ও শিপিং কর্পোরেশনের লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার আনার সময় বেঁধে দেয়া হয়। এছাড়া হোটেল শেরাটনের ২৫ শতাংশ শেয়ার ওই সময় আসবে।
টেশিস ও সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে এপ্রিলের মধ্যে আসার নির্দেশ দেয়া হয় এবং ৩০ মে'র মধ্যে রূপানত্মরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (সিএনজি), ৩০ জুনের মধ্যে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ও চিটাগং ড্রাইডক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (১০ শতাংশ), বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড, এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (সোনারগাঁও হোটেল ৩০ শতাংশ) ও প্রগতিকে আসতে হবে।
বাখরাবাদ গ্যাস ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এবং টেলিটক, বিটিসিএল সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং কর্ণফুলী পেপার মিলকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে শেয়ার ছাড়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেয়ারের পরিবর্তে বন্ড ছাড়বে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও পদ্মা সেতু যৌথভাবে আগামী জুন বা জুলাই মাসে বাজারে শেয়ার ছাড়বে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস টিএ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেডের সম্পদ মূল্যায়নে জটিলতা রয়েছে। এজন্য এসব কোম্পানিকে তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। সম্পত্তি সঠিক মূল্যায়নের জন্য এক মাস সময়ে দেয়া হয়েছে ওই তিনটি কোম্পানিকে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বেস্নড কোম্পানি ও জিইএম কোম্পানি লিমিটেড বাজারে আসছে না। তিনি আরও বলেন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সম্পদ মূল্যায়নের জন্য এসইসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। সম্পদ মূল্যায়নের পর কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান নেয়া হবে।
সরকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে গত দুই বছরে শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা পাওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় তা উপেক্ষা করে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর ২৬ প্রতিষ্ঠানকে ডিসেম্বর পর্যনত্ম সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যেও শেয়ার বাজরে আসতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানগুলো।
এবার সময় বেঁধে দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো না আসতে পারলে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগ করতে হবে। শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হওয়ার ব্যাপারে ফের অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বাজার স্থিতিশীল হবে। শেয়ারবাজারের বিষয়ে যারা রাসত্মায় নেমে ভাংচুর করছে তারা রাভিস। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এক চক্র এসব ভাংচুর করছে।
কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে করছে তাদের চিহ্নিত করা গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইডেন্টি ফাই করা যায়নি। তা করতে গেলে গোয়েন্দা সহায়তা নিতে হবে।
শেয়ারবাজার নিয়ে আপনি এক কথা বলছেন, ভিন্ন কথা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান। এতে বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এটি কেন হচ্ছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় কমিটির কাজ সুপারিশ করা, সিন্ধানত্ম নেবে সরকার।
বাজার বাজারের গতিতে চলবে। অনেক পদৰেপ নেয়ায় বাজার পরিবর্তন হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন এ সময় সরকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসার সঠিক সময় এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাইট টাইম এখন আসার।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই০-ইলাহী চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী জিএম কাদের, বিদু্যত প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানসহ সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।