মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
মিসর-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি, আন্দোলনে এবার ডাক্তার-আইনজীবী
ধর্মঘট চলছে ॥ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ কায়রোয় গুম বাড়ছে
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মোবারকবিরোধী আন্দোলনে নতুন করে গতিলাভ করায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর এখন দৃশ্যত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশটি এখন উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে। মিসরের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলেইমানের পর সর্বশেষ মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল গেইত জরম্নরী আইন তুলে নেয়ার মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, বন্ধুপ্রতিম একটি বড় দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তাঁর ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছে তা উচিত নয়। বিশেস্নষকরা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরম্নদ্ধে মিসরের এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কার আরও গতিশীল করার মার্কিন দাবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকচ করে দেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
ওমর সুলেইমান ওবামা প্রশাসনকে সামরিক অভু্যত্থানের হুমকি দেয়ার পর মোবারক সরকারের আরেক গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এ মনত্মব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর এখন মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। দুদেশের মধ্যে এ ফাটল কয়েকদিন আগে শুরম্ন হলেও তা দিন দিন বাড়ছে। তবে এ ফাটল আর কতটা গভীর হবে তা নির্ভর করছে মোবারকের পদত্যাগের ঘোষণা কতটা বিলম্বিত হবে তার ওপর। এদিকে অবিলম্বে মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মোবারকবিরোধী আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মিসরের শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট অব্যাহত ছিল। বৃহত্তম কারখানার শ্রমিকরা তিন সপ্তাহব্যাপী চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে এবং বেতন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট করছে। আন্দোলনের ্#২৫৩৫;্#২৫৪১;তম দিনে বৃহস্পতিবার শত শত ডাক্তার হাসপাতাল ছেড়ে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাসত্মায় বেরিয়ে আসেন। তিন সহস্রাধিক আইনজীবীও একই দিন কায়রোর রাসত্মায় মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে। বাস চালক, হেলপার থেকে শুরম্ন করে পরিবহন শ্রমিকরাও মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাসত্মায় মিছিল করে। এসব আন্দোলন মোবারকের ওপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। সেনাবাহিনীর বিরম্নদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে । ইতোমধ্যেই সাংবাদিকসহ বহু নাগরিককে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল গেইত বলেন, তড়িঘড়ি করে কোন রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আসা অত্যনত্ম ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এক সাক্ষাতকারে গেইত বলেন, "মিসরের মতো এত বড় একটি বন্ধু দেশ যে কিনা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তাকে যখন আপনারা বলেন_ এখনই, এ মুহূর্তে, অবিলম্বে এটা বা সেটা করতে হবে তখন তা কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার মতোই মনে হয়। আপনারা তার ওপর আপনাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছেন।" যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মিসরে অবিলম্বে জরম্নরী অবস্থা তুলে নেয়ার আহ্বানেরও তীব্র সমালোচনা করে গেইত বলেন, এতে তিনি ্তুবিস্মিত্থ হয়েছেন। আন্দোলনের দু'সপ্তাহে কায়রোর দৃশ্যপট কতখানি বদলে গেছে আর দেশটির ভবিষ্যতসহ মধ্যপ্রাচ্যে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কতটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সেকথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে মিসরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সংঘাত। মিসরের আন্দোলন জোরদার হতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বার বারই কায়রোয় সরকারকে আরও বেশি কিছু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' নেয়ার জন্য মিসর সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, সরকার এমন কোন 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' গ্রহণ করেনি_ যাতে করে জনগণ আশ্বসত্ম হতে পারে। আর এ দুঃখবোধ থেকেই বাইরে প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গিবস আরও বলেন, মিসরে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থাগুলোর কর্মকান্ড পর্যালোচনা করবে মার্কিন সরকার।