মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
উচ্চ আদালতের নির্দেশ ॥ ফতোয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ
দুই ময়নাতদন্ত রিপোর্টে অমিল খতিয়ে
দেখার আদেশ ॥ ফতোয়াবাজ
গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ফতোয়ার পর নির্যাতনের শিকার হেনা আক্তারের লাশের দুই ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনের অমিল (অসঙ্গতি) তদনত্মের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিবকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অসদাচরণ রয়েছে কি না, তাও ওই কমিটিকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়ছে। আদালত গঠিত কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নড়িয়া থানার ইন্সপেক্টর একে আজাদ ও সাব-ইন্সপেক্টর আসলাম উদ্দিন দায়িত্বে অবহেলা করেছে কি-না, করলে ব্যবস্থা নিতে ১৫ দিনের মধ্যে আইজিপিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সালিশের বৈঠকে নেতৃত্বদানকারী ফতোয়াবাজ ইদ্রিস শেখকে (মেম্বার) আদালত তাৎৰণিক গ্রেফতারের আদেশ দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ফতোয়া একটি শাসত্মিযোগ্য অপরাধ এ বিষয়টি প্রচার চালাতে তথ্য মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ আদালতে এ নির্দেশ দেয়।
আদালত একই সঙ্গে ফতোয়ার ঘটনা আর যেন না ঘটে, তার ওপর নজর রাখতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে। হেনার বাবা ও পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা দেবার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত রায়ে আরও বলেছে, ফতোয়া দেয়াতে নিশ্চয় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। জীবন নষ্ট হচ্ছে। কোন অবস্থাতেই গ্রাম্য ফতোয়াকে গ্রহণ করা হবে না। যাতে বিচার বিভাগের গুরম্নত্ব নষ্ট হয়ে যায়। যে কোন ঘটনার বিচার করবে আদালত। ঢাকায় নতুন ময়নাতদনত্মে নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। দুই ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনের অমিল থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে উচ্চপর্যায়ের একটি তদনত্ম কমিটি করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের প্রতিনিধি এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়েছে। হেনার প্রথম ময়নাতদনত্মকারী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র দাসসহ অন্য তিন চিকিৎসকের কোন গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদনত্ম কমিটি খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে ময়নাতদনত্মের ক্ষেত্রে যে কোন ভুল এড়াতে সুপারিশমালা তৈরি করতেও তদনত্ম কমিটিকে বলা হয়েছে।
পুলিশ বিভাগের প্রতিও বেশ কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হেনার সুরতহাল প্রতিবেদন যিনি তৈরি করেছেন, সেই সাব-ইন্সপেক্টর আসলাম এবং এজাহার নথিভুক্তকারী ইন্সপেক্টর মির্জা একে আজাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বলা হয়েছে। তাদের বিরম্নদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। দেশে ফতোয়ার কোন ঘটনা যেন আর না ঘটে, তার ওপর ব্যক্তিগত পর্যায়েও নজরদারি রাখতে আইজিপিকে বলা হয়েছে। হেনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নড়িয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা ফতোয়া দিয়েছে এবং দোররা মেরেছে, তাদের বিরম্নদ্ধে নতুন মামলা করতে বলেছে হাইকোর্ট। মামলার অন্য আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। হেনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নড়িয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা ফতোয়া দিয়েছে এবং দোররা মেরেছে, তাদের বিরম্নদ্ধে নতুন মামলা করতে বলেছে হাইকোর্ট। মামলার অন্য আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার হেনার বাবা দরবেশ খা, বোন মিনু বেগম, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন, ডা. নির্মল চন্দ্র দাশ, ডা. হোসনে আরা, ডা. রাজেশ মজুমদার, নড়িয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর আসলাম উদ্দিন মোলস্না, ইন্সপেক্টর একে আজাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার, চামটা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইদ্রিস শেখ আদালতে বক্তব্য প্রদান করেন। জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে শুনানি শুরম্ন হয়। আদালত প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডাক্তার ও সিভিল সার্জনের বক্তব্য গ্রহণ করে। এরপর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইদ্রিস শেখ ও হেনার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় আদালত হেনার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা, ডাক্তার ও ইদ্রিস শেখকে ভর্ৎসনা করে বলে, আপনারা সত্য কথা বলবেন। মিথ্যা কথা বললে কেউ পার পাবেন না। আদালত পুলিশ কর্মকতর্া ও ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কার চাপে, কার প্রভাবে মিথ্যা কথা বলছেন। সত্য কথা বলুন, তা না হলে আপনাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
আদালতে প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডা. নির্মল চন্দ্র বলেন, আমরা হেনার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাইনি। এ সময় আদালত তাকে ভর্ৎসনা করে বলেন তা হলে ঢাকার রিপোর্ট কি মিথ্যা? তখন ডাক্তার নিশ্চুপ থাকেন। আদালত বলেন মিথ্যা কথা বলবেন না। সত্য কথা বলেন তা না হলে জেলখানায় যাবেন। ডাক্তার বলেন, হেনা সুস্থ হয়ে বাড়িতে যায়। বাড়িতে গিয়ে সে পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার হিস্টিরিয়া ছিল। আদালত তখন তাকে প্রশ্ন করেন, ইনজুরি রিপোর্ট ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট দিয়েছেন। রোগীকে যখন পরীৰা করেন তখন কি তার কোন ইনজুরি ছিল? ডাক্তার জানান, তার কোন ইনজুরি ছিল না? আদালত পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসা করেন হেনাকে কে নিতে এসেছিল। আর ৩৪ ঘণ্টার মধ্যে কিভাবে সে মারা গেল। সেখানে রাজনৈতিক নেতারা কে কে ছিলেন। ঠিক করে বলেন নতুবা সবার বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এমন সময় অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান বলেন শরীয়তপুর ডিসি অফিসে আইনশৃঙ্খলা সভায় বলা হয়েছে সাংবাদিকরা বাড়িয়ে রিপোর্ট করেছে। তখন আদালত সিভিল সার্জনকে ঘটনা সম্পর্কে বলতে বলেন। তিনি বলেন, না আমি এ ধরনের কিছু বলিনি। আদালত বলেন, তা হলে সাংবাদিক কি করে লিখলেন। কোন পত্রিকার সাংবাদিক লিখেছে, তার সঙ্গে কি আপনার (সিভিল সার্জন) শত্রম্নতা আছে। আপনারা যা বলছেন সব মিথ্যা। সাংবাদিকরাই সত্য কথা লিখেছে। তাঁদের (সাংবাদিক) কারণেই মূল রহস্য বেরিয়ে এসেছে। আদালত আবার প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডাক্তারকে বলেন, ৩৪ ঘণ্টার মধ্যে হেনা কিভাবে মারা গেল। আদালত পুনরায় বলেন, তা হলে কোন ময়নাতদনত্ম ঠিক। প্রথম ময়নাতদনত্মকারী ডাক্তার জানায় তাদের তদনত্ম ঠিক। আদালত পাল্টা প্রশ্ন করেন তা হলে ঢাকার তদনত্ম রিপোর্ট ভুল? তখন ডা. নির্মল চন্দ্র চুপ থাকেন। তিনি জানান, ঢাকায় উন্নত পদ্ধতি আছে। আদালত জানান, তা হলে এতদিন আপনারা যে রিপোর্ট করে আসছেন তা ভুল। ডাক্তার জানান_ না, এটা সঠিক নয়।
এরপর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিকারী দারোগা আসলাম আদালতে রিপোর্ট পড়তে থাকেন। তিনি বলেন, হেনাকে উল্টোপাল্টে দেখা গেছে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। শুধু বাম চোখের পাশে একটু আঘাতের চিহ্ন ছিল। তখন আদালত তাকে ভর্ৎসনা করে বলেন, আপনি সেখানে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে গেছেন। তা না করে তদনত্ম করেছেন। হেনার সঙ্গে মাহবুবের প্রেম আছে কি নাই তা লিখেছেন। আপনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা পড়েছেন। সেখানে কি উলেস্নখ আছে। এরপর আদালতে হেনার বাবা দরবেশ খাঁ জবানবন্দী দেন। তিনি বলেন, হেনাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, মেম্বার ইদ্রিস শেখের নির্দেশে হেনাকে দোররা মারা হয়। আবার হাসপাতাল থেকে আনার জন্য ইদ্রিস শেখ তার ওপর হামলা করে। হেনা মারা যাবার পর সাড়ে তিন লাখ টাকায় আপোস করার প্রসত্মাব দেয়। আদালতে ইদ্রিস শেখ এ অভিযোগগুলো বেমালুম অস্বীকার করেন।
উলেস্নখ্য, ৩১ জানুয়ারি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামে ধর্ষণের শিকার কিশোরী হেনা আক্তারকে (১৪) সামাজিক বিচারে ১শ' দোররা মারা হয়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই দিন রাতেই হাসপাতালে মারা যায়। বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকল জাতীয় দৈনিকেই সংবাদটি প্রকাশ হয়। এ প্রক্ষিতে সুপ্রীমকোর্টের দুই আইনজীবী পৃথকভাবে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ ঘটনায় রম্নল জারি করে। এর মধ্যে হেনার ময়নাতদনত্মের রিপোর্ট দেয়া হয়। সেই রিপোর্টে বলা হয়, হেনার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পত্রিকায় রিপোর্ট আসার পর আদালত দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদনত্মের নির্দেশ দেয়। দোররার শিকার হয়ে মারা যাওয়া হেনা আক্তারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে পুনর্ময়নাতদনত্মে। তবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণে হেনার মৃতু্য ঘটেছে। এটি অপরাধজনক নরহত্যা। হেনার শরীরের আটটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ আঘাতের জায়গাগুলোতে জমাট বাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অণুজৈবনিক পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেনার বুকের বাম পাশে নিচে-ওপরে, বুকের ডান পাশে ওপরে, তলপেটের পেছনে বামপাশে, তলপেটের পেছনে মেরম্নদ-ে ডানে ও মাঝখানে, বাম উরম্নর মধ্যে আর বুকের পাশে ডানদিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো এক ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি জায়গাজুড়ে রয়েছে। ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, আগের প্রতিবেদনে কোন আঘাতের চিহ্নের কথা উলেস্নখ না থাকলেও নতুন প্রতিবেদনে হেনার শরীরে আটটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। নতুন ময়নাতদনত্ম প্রতিবেদন দেখে আদালত বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত বলেছে, ইয়াসমিন হত্যার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছিল।
হেনার মৃতু্যর পর তার বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যাতে ১৮ জনকে আসামি করা হয়। সেখানে হেনার বাবা ধর্ষণের কথা বললেও এজাহারে তা উলেস্নখ নেই। এমনকি এজাহার পড়ে শোনানো হয়নি হেনার বাবাকে। হেনার সঙ্গে চাচাত ভাই মাহবুব হোসেনের সম্পর্কের ঘটনায় ঐ সালিশ বসে। মামলার প্রধান আসামি মাহবুবসহ পাঁচ জনকে এর আগে গ্রেফতার করা হয়। প্রথম ময়নাতদনত্মে হেনার দেহে কোন নির্যাতনের চিহ্ন না পাওয়ার কথা বলা হলে সোমবার আদালত নতুন করে ময়নাতদনত্মের নির্দেশ দেয়। দোররার শিকার হয়ে মারা যাওয়া কিশোরী হেনা আক্তারকে উত্ত্যক্ত করতেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহবুব। হেনার বাবা ও বোন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে এজাহারের বর্ণনা দেন। এজাহারে দেয়া অভিযোগ হেনার মৃতু্যর পর নড়িয়া থানায় ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা দরবেশ খাঁ। প্রধান আসামি মাহবুবসহ ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় এক মাস আগে মাহবুব হেনাকে ফুসলিয়ে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২৩ জানুয়ারি রাতে মাহবুব ঢাকা থেকে এসে হেনাদের ঘরের বাথরম্নমের সামনে দাঁড়িয়ে হেনার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় মাহবুবের স্ত্রী শিল্পীসহ আরও কয়েকজন তাদের দেখতে পায়। তখন তারা হেনাকে মুখে কাপড় চেপে ধরে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যায়। ২৩ জানুয়ারি হেনাকে বেধড়ক মারধর করে মাহবুবের স্ত্রী শিল্পী, হেনার চাচি মোরশেদাসহ আরও কয়েকজন। সেদিনই হেনা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় রবীন্দ্র ডাক্তার নামে একজনকে ডেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। ২৪ জানুয়ারি সালিশে তাকে দোররা মারা হয়। ২৫ জানুয়ারি তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, হিস্টিরিয়ার সমস্যা নিয়ে হেনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে মূলত হিস্টিরিয়ার চিকিৎসাই দেয়া হয়েছে। তবে মারধরের ইতিহাস থাকার কারণে তাকে সেজন্যও চিকিৎসা দেয়া হয়।
হেনার বাবা দরবেশ খাঁ সাংবাদিকদের বলেন, একটি লম্বা গামছা পেঁচিয়ে গোল করে পাকিয়ে (ভেজা) তা দিয়ে মাহবুবকে ১৫/১৬টা দোররা মারে তার বাবা রবিউল খাঁ। আমার মেয়েকে মারে ১২/১৫টা। এরপর মুখে ফেনা তুলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে হেনা। দরবেশ খাঁ বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে হেনাকে উত্ত্যক্ত করার কারণে একবার সালিশে মাহবুবকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কয়েকদিন পরে মাহবুবেব বাবা রবিউল খাঁ তার কাছে ক্ষমা চাইলে সেই জরিমানা তিনি মাফ করে দেন। এর আগে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ায় মাহবুবকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানান রহিমা খাতুন নামে হেনাদের এক প্রতিবেশী। দরবেশ খাঁর চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে হেনা সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। কৃষক দরবেশ খাঁর নিজের জমি আছে মাত্র ২০ শতক। সারাবছর অন্যের জমিতেই কাজ করে টেনেটুনে সংসার চলে তার। শুনানিতে সরকার পৰে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসেন।