মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২৯ মাঘ ১৪১৭
দরপতন আর বিক্ষোভ
পুঁজিবাজার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন এবং এর প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিৰোভ অব্যাহত রয়েছে। দিনভর ওঠানামার পর বৃহস্পতিবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক আরও ১৪৬ পয়েন্ট কমে গেছে। এ নিয়ে গত দু'দিনে সূচক ২৯৫ পয়েন্ট হ্রাস পেল।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, টানা দরপতনের পর অধিকাংশ শেয়ারই বিনিয়োগের ৰেত্রে ঝুঁকিমুক্ত অবস্থানে চলে এসেছে। কোম্পানিগুলোর বার্ষিক লভ্যাংশ ঘোষণা শুরম্ন হয়েছে। বাজারের ৭০ শতাংশ কোম্পানি ভাল মৌলভিত্তির হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এবার ভাল লভ্যাংশ পাবেন। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যশীল হতে হবে। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা অবশ্যই এ বাজার থেকে লাভবান হবেন।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরম্নতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর হ্রাসের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরম্ন হলেও ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তা বাড়তে শুরম্ন করে। লেনদেনের প্রথম ৫ মিনিটে সাধারণ সূচক কমে ১১৫ পয়েন্ট। কিন্তু ১৫ মিনিট পরে সূচক বাড়ে ২৫ পয়েন্ট। দিন শেষে সাধারণ সূচক বুধবারের চেয়ে কমে ১৪৬ পয়েন্ট। দিন শেষে কমেছে ২৩৩টি এবং বেড়েছে ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের দর। ডিএসইতে সারা দিনে ৫৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জেও (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। বৃহস্পতিবার সিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ২১৬.৪২ পয়েন্ট কমে ১২১১০.৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯টির, কমেছে ১৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি টাকা।
সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাজারে এ অস্থিরতা চলছে বলে মনে করেন বিশেস্নষকরা। চলতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসই সূচকের বড় ধরনের পতন হয়েছে। প্রথম দু'দিন পতনের পর মঙ্গলবার অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও শেষ দু'দিন আবারও বড় দরপতন ঘটেছে। বাজারের এই ধারাবাহিক নিম্নগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। ক্রমাগত দরপতনের বিৰুব্ধ হয়ে প্রায় প্রতিদিনই মতিঝিল এলাকায় বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।
শেয়ারের অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় বিক্ষোভ করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহের শেষদিনে ডিএসইতে লেনদেন শেষে দরপতনে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা রাসত্মায় নেমে আসে। তারা খ- খ- মিছিল নিয়ে ডিএসইর সামনে জড়ো হয়। বিক্ষোভকারীরা ডিএসইর সামনের রাসত্মা অবরোধ করে অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর, এসইসি চেয়ারম্যান এবং ডিএসই সভাপতির পদত্যাগের দাবি জানায়। এর আগে বিৰোভের আশঙ্কায় বেলা ২টা থেকে পুলিশ শাপলা চত্বর থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যনত্ম রাসত্মায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ বিনিয়োগকারীদের রাসত্মা থেকে সরিয়ে দিলে পুনরায় যান চলাচল শুরম্ন হয়।