মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
শিল্প ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সীমিত আকারে গ্যাস সংযোগ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উৎপাদনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এবং নিত্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান কমিটির প্রথম বৈঠকে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বর্তমান চাহিদা, গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি, নতুন গ্যাসকূপ খনন, গ্যাস উত্তোলনের নিকট ভবিষ্যত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নীতিমালা চূড়ান্ত করতে আরও এক মাস সময় প্রয়োজন হবে।
সূত্রমতে, ডিমান্ড নোটের বিপরীতে জামানতের অর্থ পরিশোধকারী এবং সংশিস্নষ্ট কোম্পানির ভাণ্ডার থেকে সার্ভিস লাইনের মালামাল উত্তোলন করেছে, ডিমান্ড নোটের বিপরীতে ব্যাংকের টাকা পরিশোধকারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে নতুন করে আবাসিক গ্রাহকদের কোন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ করা হয়। এর কিছুদিন পর গ্যাসের উৎপাদন ২২০ কোটি ঘনফুট না হওয়া পর্যনত্ম আবাসিক গ্রাহকদের সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। তবে বুধবার দেশীয় এবং আইওসি মিলিয়ে গ্যাসের উৎপাদন ছিল ১৮৯ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বৈঠকের পর জানান, নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, সদস্য সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অপর এক বৈঠকে শিল্প উদ্যোক্তারা উৎপাদনের জন্য শতভাগ প্রন্তুুত শিল্প কারখানায় গ্যাসের সংযোগ দেয়ার দাবি জানান। উদ্যোক্তারা ওই সভায় জানান, শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা উৎপাদনের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়ার পরও নতুন সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না। এখন বেশি দরে বিদু্যতের সংস্থান করা গেলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে আসতে পারছে না। এতে উদ্যোক্তাদের বিনা উৎপাদন ও মুনাফা ছাড়াই প্রতিমাসে কোটি টাকার ঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন সচল না থাকায় যন্ত্রপাতিও অকেজা হতে শুরম্ন করেছে। ওই বৈঠকে উৎপাদনমুখী এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন সংযোগ দেয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করে পেট্রোবাংলা।