মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
নির্বাচনে ৫১ পৌরসভায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেনা মোতায়েন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌর নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৫ জেলার ৫১ পৌরসভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। ওইসব পৌরসভায় নির্বাচনের দু'দিন আগে এক পস্নাটুন করে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি পৌরসভার জন্য প্রয়োজনীয় র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদেরও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতয়েন করা হবে। পুলিশের এক উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে ঝুঁকিপূর্ণ কোন্ কোন্ পৌরসভায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দু'দিন আগে থেকে মোট পাঁচদিন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ২০ পৌরসভা, খুলনা ও বরিশালের ৫ পৌরসভা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ২৬ পৌরসভায় এ বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
পৌরসভাগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, পাটগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, রাণীশঙ্কৈল, পীরগঞ্জ, নীলফামারী, জলঢাকা, সৈয়দপুর, হারাগাছ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ, হাকিমপুর, ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর, গোদাগাড়ী ও কাঁকনহাট, তানোর ও মুন্ডুমালা, কেশরহাট, চারঘাট, জয়পুরহাট, মনিরামপুর, কলারোয়া, পাইকগাছা, বাগেরহাট, মংলা পোর্ট, করিমগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ছাতক, দিরাই, জগন্নাথপুর, সেনবাগ, চৌমুহনী, চান্দিনা (প্রয়োজনে দাউদকান্দি), চৌদ্দগ্রাম, ছেঙ্গারচর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, সোনাগাজী, বারইয়ারহাট, মিরসরাই, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, বান্দরবান, লামা ও রাঙ্গামাটি।
কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের দু'দিন আগে থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত মোট চারদিন সীমানত্মবর্তী এলাকায় বিডিআর ও উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। এছাড়া কোন্ কোন্ পৌরসভায় সেনাবাহিনী কয়দিনের জন্য মোতায়েন করা হবে এবং তাদের কার্যপরিধি কী হবে সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভাগুলোতে সীমিত আকারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কমিশন। সেৰেত্রে পৌরসভার সংখ্যা ২৫/৩০টির বেশি হবে না।
নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে সংশিস্নষ্ট নির্বাচনী এলাকায় র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের ভ্রাম্যমাণ দল দায়িত্ব পালন করছে। আচরণবিধি ভঙ্গের কোন আলামত নজরে এলে বা নির্বাচনী অপরাধ সংঘটিত হলে এ দলটি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে। প্রয়োজনে বিচারের জন্য নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
গুরম্নত্ব বিবেচনায় প্রতিটি পৌরসভার জন্য প্রয়োজনীয় র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদেরও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হবে। পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই)/ সার্জেন্ট/এএসআই/ হাবিলদার) নেতৃত্বে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন হবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রধারী পাঁচ পুলিশসহ ১৯ এবং গুরম্নত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রধারী ছয় পুলিশসহ ২০ জন নিয়োজিত থাকবে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ১১-১৩ জানুয়ারি, খুলনা ও বরিশালে ১২-১৪ জানুয়ারি, ঢাকায় ১৬-১৮ জানুয়ারি, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পৌরসভাগুলোয় ১৭-১৯ জানুয়ারি তাদের নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পৌরসভায়ও একইভাবে তারা কাজ করবে। উলেস্নখ্য, আগামী ১২, ১৩, ১৭, ১৮ ও ২৭ জানুয়ারি দেশের ২৫৭ পৌরসভায় নির্বাচন হবে।