মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
অপরাধবিরোধী অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন করবেন না
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযানকালে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বুধবার তাঁর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ-২০১১ উপলৰে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণকালে আরও বলেন, অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়। খবর বাসসর।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ বাহিনীকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সেবায় পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে আপনাদেরকে পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন যে, জনগণের ট্যাক্সে টাকায় আপনারা বেতন পাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বেসামরিক প্রশাসন ও দেশের মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা পুনসর্্থাপন করা হচ্ছে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ। এ প্রসঙ্গে তিনি সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের জাতির স্বার্থে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কঠোর পদৰেপ নেয়ার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে জনগণকে সেবাদান ও তাদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে বর্তমান সরকারের প্রধানতম লৰ্য।
তিনি বলেন, আমরা জনসেবার জন্য ৰমতায় এসেছি, ব্যবসায় বা অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত, নিরাপদ ও শানত্মিপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে জনগণের আশা-আকাঙ্ৰা বাসত্মবায়নে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। জনগণের শানত্মিপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এসব কর্মসূচী বাসত্মবায়নে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সনত্মোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর পদৰেপের কারণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনত্মরিক প্রয়াসের জন্য পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশের বিভিন্ন দাবির কথা উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেবে। তিনি পুলিশ বাহিনীর সকলের জন্য ঝুঁকিভাতাসহ প্রয়োজনীয় সকল দাবি বাসত্মবায়নের আশ্বাস দেন। এই বাহিনীর আবাসন ও যানবাহন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ৰেত্রে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি শহিদুল হক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিএলসিএস সদস্য ড. হেরাল্ড ব্রিককির সৌজন্য সাক্ষাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর অফিসে বুধবার ইউএন কমিশন অব দ্য লিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল শেলফ (সিএলসিএস) সদস্য হেরাল্ড ব্রিককি সৌজন্য সাক্ষাত করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামুদ্রিক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে জাতিসংঘে উপস্থাপিত একটি পরিকল্পনা তৈরিতে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়ার জন্য ড. ব্রিককিকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র সীমার স্বার্থ সুরৰায় তার পরামর্শ অচিরেই বাংলাদেশের জন্য বিশাল সহায়ক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব এমএ করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোলস্না ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।