মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
পিলখানায় হত্যা, লুটের ৮০১ আসামি আদালতে
বকশীবাজারের অস্থায়ী কোর্টে বিচার শুরু ॥ ৩ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠন
কোর্ট রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলা দু'টি বিচারের জন্য আমলে নিয়েছে আদালত। মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার বকশীবাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগার ও আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন নবকুমার ইনস্টিটিউট মাঠের অস্থায়ী আদালতে এ বিচারকাজ শুরু হয়। মামলা দু'টি বিচারের জন্য আমলে নেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক। এজলাসে উঠেই তিনি বলেন, এ ধরনের ও এত বড় মামলা বিশ্বে এই প্রথম। আমি আপনাদের শতভাগ ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
মামলাটি আমলে নেয়ার পর ৭২ জনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করা হয়। জামিনের আবেদন করেন বিএনপির সাংসদ নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও। আদালত শুনানি শেষে বিকেলে তা নাকচ করে দেয়। অভিযুক্তরা মামলার সার্টিফায়েড কপি পাচ্ছেন না আইনজীবীদের এমন দাবির মুখে বিচারক বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৫৯ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ২ হাজার ৫৩টি। অভিযোগপত্র, সাৰীদের জবানবন্দী, জব্দতালিকা সব মিলিয়ে সকল আসামিকে মামলার নথি সরবরাহ করতে হলে ১ কোটি ৬০ লাখ পৃষ্ঠা ফটোকপি করতে হবে। তা কোন দায়রা আদালতের পৰে সম্ভব নয়। সরকার পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট আনিসুল হক, মোশাররফ হোসেন কাজল, আবদুলস্নাহ আবু, শাহআলম তালুকদার, সাইদুর রহমান প্রমুখ। আসামিদের পৰে জামিন শুনানি করেন। শুনানি করেন ঢাকা বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট সানালস্নাহ মিয়া, আমিনুল ইসলামসহ ২৫/৩০ জন আইনজীবী। তবে দুই শ'রও অধিক আ্ইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে ৮০১ জন আসামিকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ্যাডভোকেট কাজল জানান, বাকি ২৩ আসামির ২১ জন পলাতক। ও দুই জন মারা গেছে। পিলখানা হত্যাকা-ের ১ বছর সাড়ে ৪ মাস পর গত ১২ জুলাই হত্যা, লুটপাট, অগি্ন সংযোগের ঘটনায় দ-বিধি আইনে দায়ের করা মামলায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ৮২৪ জনকে ও ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় ৮০৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। ১৫০৪ আসামির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় হতে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। মামলাটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ১৫০৪ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলার সাক্ষী করা হয়েছে ১ হাজার ২১৫ জনকে। এদের মধ্যে ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের, বিডিআর সদস্য, সাংবাদিক, ম্যাজিস্ট্রেট, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও তিনবাহিনীর প্রধানও রয়েছেন।