মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
আধা ঘণ্টায় পতন ৯২ শতাংশ, বিক্ষোভ ভাংচুর
শেয়ার মার্কেট
দিনশেষে সূচক উর্ধমুখী হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ধারাবাহিক দরপতনে পুঁজি হারানোর আতঙ্কে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা আবারও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, ভাংচুর ও অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। বুধবার দিনের লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিৰোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা কাগজপত্র পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেন এবং ডিএসইর মূল ফটকে ইটপাটকেল নিৰেপ করেন। এ সময় মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা দুইটার দিকে পুলিশ-র্যাব এসে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিৰেপ এবং জলকামান ব্যবহার করে রঙিন পানি ছিটিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাসত্মা থেকে সরিয়ে দেয়। লেনদেনের শেষ দিকে শেয়ারবাজারে সূচক উর্ধমুখী হয়ে উঠলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। আধা ঘণ্টায় ৯২ শতাংশ শেয়ারের দরপতন ॥ আগের দু'দিন ডিএসই সাধারণ সূচক ৩২৩ পয়েন্ট কমার পর বুধবার লেনদেনের শুরু থেকেই সেই ধারা অব্যাহত ছিল। দর হ্রাসের এই ধারা কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাপক রূপ ধারণ করে। আগের দিন (মঙ্গলবার) লেনদেন হওয়া ২৪৬টি ইসু্যর মধ্যে ২১১টির দরপতনের পর বাজারের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন তারা। কিন্তু বিক্রির চাপ বাড়লেও ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ শেয়ারের দর উলেস্নখযোগ্য হারে কমে যেতে থাকে। লেনদেন শুরম্নর পর প্রথম আধা ঘণ্টায় লেনদেন হওয়া ৯২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায়। ওই সময় মোট ২১৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১২টি কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল আগের দিনের তুলনায় বেশি। এর বিপরীতে দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৯৬টি। এর ফলে সাধারণ সূচক ১২০ পয়েন্ট কমে যায়। আরেকটি বড় ধসের আশঙ্কায় মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারীরা বিৰুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা লেনদেন বন্ধ করে দেয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের চাপ দেন। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠানই লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। পরে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী রাসত্মায় নেমে বিৰোভ শুরম্ন করেন। তারা গাড়ি ভাংচুর, ডিএসই ভবনে ইটপাটকেল নিৰেপ, রাসত্মা অবরোধ এবং কাগজ, টায়ার জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে শেয়ারবাজারসংশিস্নষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি নির্দেশনা বাতিলের দাবি জানান। এ সময় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর এবং ডিএসই নেতাদের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সেস্নস্নাগান দিতে থাকেন। এ সময় ইত্তেফাক মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যনত্ম রাসত্মায় যান চলাচল এবং দু'পাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা ডিএসই ভবনে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দুপুর দেড়টার দিকে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন শেয়ার মার্কেট ইনভেস্টরস ফোরামের কয়েক প্রতিনিধি দরপতন নিয়ে ডিএসই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। তবে তারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আলোচনার দাবি জানালে ডিএসই কর্তৃপক্ষ তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিনিয়োগকারীরা বাইরে চলে আসেন।
মৃদু লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিৰেপ
বিৰোভের শুরম্ন থেকেই ডিএসই কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যরা বিনিয়োগকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় বিৰোভকারীরা বেশ কয়েকবার যানবাহনে ইটপাটকেল নিৰেপ করে এবং ভাংচুরের চেষ্টা চালান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার পর বেলা পৌনে দুইটার দিকে জলকামানসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের রাসত্মা থেকে সরে যেতে বললে তারা আরও বিৰুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেলও নিৰেপ করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা বিৰোভকারী ও পথচারীদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জ করেন। এতে তিন-চার জন সামান্য আহত হন। এ সময় মধুমিতা ভবনের ওপরে অবস্থানকারী কিছু বিনিয়োগকারী পুলিশের ওপর ইট ও কাঠের টুকরা, টিউবলাইট, পানির বোতল ছুড়তে থাকলে পুলিশ ওই ভবন লৰ্য করে দুই রাউন্ড টিয়ার শেল নিৰেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ রাসত্মা ফাঁকা করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে বিৰোভকারীরা তাতে বাধা দেন। এ সময় পুলিশ আরেক দফা লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিৰেপ করে বিনিয়োগকারীদের রাসত্মা থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সৰম হয়।
এদিকে রাজশাহী থেকে জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার জানান, পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিৰোভ ও ভাংচুর করেছেন ৰুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন বন্ধ রেখে রাসত্মায় নেমে এসে বিৰোভ মিছিল করেন। মিছিলটি নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট হয়ে কুমারপাড়াস্থ আইসিবি কার্যালয়ের সামনে এসে বিৰোভ সমাবেশ করে। এ সময় তারা আইসিবি কার্যালয়ে ভাংচুর চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এর পর বেসরকারী শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে গোপনে লেনদেন চালু রাখার খবর পেয়ে বিনিয়োগকারীরা সেখানে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের পদত্যাগ দাবি করেন।