মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৩ নভেম্বর ২০১০, ২৯ কার্তিক ১৪১৭
জজদের প্রতি প্রধান বিচারপতির হুঁশিয়ারি ॥ তোলা নেবেন না
০ প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে জজ ও নাজির মিলে টাকা-পয়সা লেনদেন হয়
০ দ্রুত রায় লিখতেও নির্দেশ দিলেন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বিচারিক আদালতের জজদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে কর্মচারীদের সঙ্গে আপনারা আর্থিক লেনদেন করে থাকেন। আমি অনেকের নামও বলতে পারি। আপনারা নাজিরের সঙ্গে টাকাপয়সা লেনদেন করেন। কোনভাবেই নিম্নপদস্থদের সঙ্গে ভালমন্দ শেয়ার করবেন না। বিচার বিভাগ এখন কাঠগড়ায়। এমনভাবে কাজ করম্নন যাতে জনগণ বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ফিরে পায়। শুক্রবার জেলা জজদের তিনদিনের কাউন্সিলের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি অধীনসত্মদের এ ধরনের পরামর্শ দেন। প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রম্নল হক অনেক বিচারকের বিরম্নদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন, যা বেশ কয়েকজন জজ স্বীকারও করেছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি আমাদের অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দ্রম্নত যাতে মামলার নিষ্পত্তি করা যায় সে বিষয়েও প্রধান বিচারপতি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জজ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, আমাদের (জজ) মধ্যে অনেকের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার যা বলেছেন তা সত্য। প্রধান বিচারপতি আমাদের সংশোধন হতে পরামর্শও দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রম্নল হক সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বলেন, আমার কাছে ইনফর্মেশন আছে, আপনাদের (জজ) অনেকে নাজিরের সঙ্গে টাকাপয়সা লেনদেন করেন। এ নিয়ে অভিযোগ আছে। আমি নামও বলতে পারব। কিন্তু আমি তা করব না। আদালত কর্মচারীদের (নাজির) কাছ থেকে টাকা নেয়ার ধরন তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা বদলির সময় ডিমান্ড করেন, তোমরা তো আমাকে একটা কিছু দিবে। কোরান শরিফ আর লাঠি না দিয়ে একটা ডিপফ্রিজ দিও। এ কাজটি করবেন না। নাজিরদের কাছ থেকে তোলা নেবেন না। নিম্নপদস্থদের সঙ্গে নিজেদের ভালমন্দ শেয়ার করবেন না। একই সঙ্গে বিচারকার্যে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং এ পেশায় মহিলাদের আগ্রহী করে তুলতে ও মহিলা সহকর্মীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করার জন্য জেলা জজদের প্রতি প্রধান বিচারপতি আহ্বান জানান।
উলেস্নখ্য, প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি ঢাকা জজ কোর্ট পরিদর্শনে যান সাধারণ জনগণ কিভাবে বিচার পায় তা প্রত্যৰ করার জন্য। পাশাপাশি সম্মেলনের প্রথম থেকে শুরম্ন করে সমাপনী দিন পর্যনত্ম জজদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনে জেলা জজদের আরও আনত্মরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে খায়রম্নল হক বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আমাদের নিয়োগ দিয়েছে। তারা আমাদের ওপর খুশি নয়। বিচার বিভাগ এখন কাঠগড়ায়। এই দায়িত্ব আমাদের সবাইকে নিতে হবে। উঁচু থেকে নিম্ন পর্যনত্ম আপনাদের কাজ, যোগ্যতা ও সততা নিয়ে জনগণ সনত্মুষ্ট নয়। আপনারা এমনভাবে কাজ করম্নন, যাতে বাংলাদেশের জনগণ বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ফিরে পায়। বিচারকদের বেতনভাতার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনাদের আমরা উপযুক্ত বেতন দিতে পারি না। কিন্তু একটি ন্যায়বিচার করলে আপনার সাতটি আকবরি হজের সওয়াব পাবেন। নাইবা হলো গাড়ি-বাড়ি।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকা জেলা জজ আদালত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খায়রম্নল হক বলেন, সাধারণ পোশাকে ঢাকার জেলা জজ আদালতে গিয়ে যা দেখলাম, তা খুশি হওয়ার মতো নয়। প্রচণ্ড গরম, অন্ধকার ও নোংরা পরিবেশ। আদালতের ডায়েরি ঠিক নেই। সাড়ে ১২টার মধ্যে অনেক বিচারক এজলাস থেকে নেমে গেছেন। অনেক বিচারকের পোশাক ঠিক নেই। অনেকক্ষণ থেকেও আমি যুক্তিতর্ক বুঝিনি। এক আদালতে মামলা বেশি থাকলে তা অন্য আদালতে পাঠিয়ে দিয়ে মামলাজট এড়ানোর পরামর্শ দেন প্রধান বিচারপতি।
কর্মস্থলে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান খায়রম্নল হক। এজন্য নিজেদের পরিবারকে সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। মামলার রায় এজলাসে বসে দেয়ার ওপর গুরম্নত্ব দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি। এ সম্মেলনে সুপ্রীমকোর্টের রেজিস্ট্রার মোঃ আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার কেএম শহিদ আহম্মেদ আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের রেজিস্ট্রার শাহিনুর ইসলামসহ সহকারী জজ, সহকারী বিচারিক হাকিম, জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম, যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম, অতিরিক্ত জেলা জজ, মুখ্য বিচারিক হাকিম ও জেলা জজরা অংশ নেন।