মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০১০, ২৯ আষাঢ় ১৪১৭
রোজার আগেই ওএমএস চালু হচ্ছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রমজানের আগেই ওএমএস কর্মসূচী চালু হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে খোলাবাজারের মাধ্যমে চাল ছাড়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ কথা বলেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে দু'দিনব্যাপী কর্মশালার প্রথম দিনে মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী থেকে বাংলাদেশ ৩৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার সহযোগিতা পেয়েছে। এ সহযোগিতা অর্জনে এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম দেশ। খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কারণে এ সহযোগিতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ দ্বিপাৰিক ও অন্যান্য উৎস থেকে আরও সহযোগিতা পাবে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নীতি গবেষণা বিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ মূল্য বৃদ্ধি রোধে সরকার শীঘ্রই খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি কর্মসূচী শুরম্ন করবে। এ বছর চালের পরিবর্তে গম দিয়ে ভিজিএফ, টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বাসত্মবায়ন করা হবে। এতে চালের ওপর চাপ কমবে। এরপরও খাদ্য সঙ্কট কাটাতে চার থেকে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হবে। এতে আগামী অক্টোবর ও নবেম্বর পর্যনত্ম চালের সঙ্কট মোকাবেলা করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকারী অর্থের পাশাপাশি দ্বিপাৰিক ও অন্যান্য উৎস থেকে তহবিল পাপ্তির লৰ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সকল পরিকল্পনার আলোকে বাংলাদেশের কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিমানের উন্নয়নে আনত্মর্জাতিক সংস্থাসমূহের তহবিল থেকে উলেস্নখযোগ সাহায্য পাবে বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও অন্যান্য নীতিমালার বিষয়ে সমপ্রতি ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশানত্ম মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা বিনিয়োগ ফোরামে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরা এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় অধিক বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক মির্জা ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃব্য রাখেন, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি এড স্পাইকার্স, মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ. মরিয়ার্টি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ব্রিয়ান ফোরে, এফএও সদর দফতরের পরিচালক কোস্টাস স্ট্যামুলিস, এনএফপিসিএসপি'র চিফ টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার চিরো ফিওরলিস্নও এবং এফপিএমইউ'র পরিচালক রম্নহুল আমিন তালুকদার।
এ কর্মশালায় খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সরকারী কর্মকর্তা, বেসরকারী গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪০০ জন অংশ নিচ্ছেন।