মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০১০, ২৯ আষাঢ় ১৪১৭
'এমন কোন জওয়ান পাওয়া যায়নি যে অস্ত্রহাতে বিদ্রোহে যোগ দেয়নি'
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। ওইদিন সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের অভিযুক্ত জওয়ানদের মধ্যে এমন কোন জওয়ান পাওয়া যায়নি যে অস্ত্রহাতে বিদ্রোহ করেনি। সকাল ৯টায় দরবার হলে বার্ষিক দরবার বসার পূর্ব নির্ধারিত সময় ছিল। কিন্তু পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসাবে নানা টালবাহানা করে সকাল সাড়ে ৯টায় দরবার বসানোর পরিবেশ সষ্টি করা হয়। দরবার বসার ৫ মিনিটের মধ্যে গেটের দায়িত্বে থাকা রেজিমেন্টাল পুলিশ বিডিআর সদর দফতরে ঢোকার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়। এমন বর্ণনার মধ্যদিয়েই বিশেষ আদালত-৬ এ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের অভিযুক্ত ৭৩৫ বিদ্রোহীর বিচার শুরম্ন হয়। ২০১১ সালের ২ ফেব্রম্নয়ারি অভিযুক্ত জওয়ানদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিডিআর সদর দফতরের বহুল আলোচিত দরবার হলে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৬ এ বিডিআরের সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের ৭৩৫ বিদ্রোহীর বিচার শুরু হয়। এর আগে অভিযুক্ত জওয়ানদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের প্রিজনভ্যানে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজিরার আগে কারাবন্দী ২৯৮ জনকে বিদ্রোহ মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। বাকি ৪৩৭ জনকে ইউনিট থেকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিচার শুরু হয়। তাঁকে সহযোগিতা করতে বিডিআর কর্মকর্তা লে. কর্নেল নুরুল আলম, মেজর মোঃ আলি মুসতাইন খান, এ্যাটর্নি জেনারেলের মনোনীত প্রতিনিধি ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল কাজী ইজাহারম্নল হক আকন্দ (সাগর), প্রসিকিউটর হিসাবে সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল বদরম্নল আলম, স্পেশাল প্রসিকিউটর হিসাবে সরকার কর্তৃক মনোনীত দু'জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের সুবেদার মেজর মুন্সী জাহাংগীর আলম আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউটর লে. কর্নেল বদরম্নল আলম আদালতকে জানান, বিডিআর বিদ্রোহের দিন এমটি সেকশনের ১৯৯ জন দরবার হলে উপস্থিত ছিল। দরবার চলাকালে জওয়ানরা 'জাগো' বলে হুংকার দেয়। এরপর বিদ্রোহের বিষয়টি আগাম জানা থাকা জওয়ানরা সদলবলে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের নির্দেশ অমান্য করে দরবার হল ত্যাগ করে। এরপর তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রাগারের দিকে অগ্রসর হয়। অস্ত্রাগার ভেঙ্গে অস্ত্র গোলাবারম্নদ লুটে নিয়ে সরাসরি বিদ্রোহে যোগদান করে। অভিযু্ক্তদের মধ্যে এমন কোন জওয়ান পাওয়া যায়নি যে ওইদিন অস্ত্রহাতে বিদ্রোহে অংশ নেয়নি।
এদিকে দরবার শুরম্নর ৫ মিনিটের মাথায় বিডিআরের প্রত্যেকটি প্রবেশ গেট বন্ধ করে দেয় গেটের দায়িত্বে থাকা রেজিমেন্টাল পুলিশ। গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট পরে এক সেনা কর্মকর্তা নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত গেট দিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে বিডিআর সদস্যরা তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়। এমন আচরণে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কাউকে না পেয়ে তিনি চলে যান। এতেই ভাগ্য খুলে তাঁর। প্রাণে বেঁচে যান তিনি। দরবার হলে এমটি সেকশনের ১৯৯ জওয়ান উপস্থিত ছিল। তারা দরবার হল ত্যাগ করে সেনা অফিসারদের মৃতু্যর মুখে রেখে অফিসারদের গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। ওইসব বিডিআরের বিদ্রোহী জওয়ান ঘুরে বেড়ায়। অস্ত্র গোলাবারম্নদ বহন করা হয়। বিদ্রোহের ইন্ধনদাতারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। অভিযুক্তরা সবাই ওইদিন ডিএডি তওহীদের নেতৃত্বে বিদ্রোহে অংশ নেয়। তওহীদের নির্দেশেই যাবতীয় কর্মকা- পরিচালনা করে। বিডিআর বিদ্রোহ পরিকল্পিত। কারণ জওয়ান রফিক গত ২৪ ফেব্রম্নয়ারি ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যায়। কিনত্ম ২৫ ফেব্রম্নয়ারি সকাল ৮টায় সে বিডিআর সদর দফতরে হাজির হয়। আধঘণ্টা পর্যনত্ম দরবার চলার পরেই শুরম্ন হয় গোলাগুলি। এরপর শুরম্ন হয় হত্যাযজ্ঞ। প্রসিকিউটর আদালতে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জওয়ানরা বিদ্রোহ মামলার তদনত্মে সহযোগিতা করেনি। বরং অনেক কিছুই গোপন করার চেষ্টা করেছে। অভিযুক্তদের নিজেদের অপরাধ ও ওইদিনের কর্মকা- সম্পর্কে অভিযুক্তরা কোন তথ্য দেয়নি। তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে। স্পর্শকাতর কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অভিযু্ক্তরা নীরব থেকেছে। তাদের স্পষ্ট জবাব, তারা কিছুই জানে না। প্রসিকিউটর মোহন কমরচাঁদ গান্ধীর (মহাত্মা গান্ধী) সেই বিখ্যাত উক্তি 'সহিংসা থেকে অর্জিত বিজয় পরাজয়ের শামিল। কেননা তা ৰণস্থায়ী' দিয়ে আদালতে বক্তব্য শেষ করেন।