মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০১০, ২৯ আষাঢ় ১৪১৭
জামায়াতে ইসলামী তিন ভাগ, নিশ্চুপ বিএনপি, তাই চরম হতাশ নিজামী
গাফফার খান চৌধুরী ॥ জামায়াতে ইসলামী তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়া এবং বিএনপির কাছ থেকে আশাতীত সহায়তা না পেয়ে রিমান্ডে গোয়েন্দাদের কাছে চরম হতাশা ও ৰোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী। নিজামী-মুজাহিদ দাবি করেছেন, জামায়াত-শিবিরের কোন সদস্য রগকাটতে জানে না। এসব মিডিয়ার সৃষ্টি। এমন দাবির মুখে ভিডিও চিত্র দেখে নিশ্চুপ হয়ে যান তিন নেতা। এমনই নিশ্চুপ থেকেছেন পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর সরকারের বিরম্নদ্ধে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের প্রচার প্রপাগাণ্ডা চালানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময়।
আজ জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেএমবি আমির মুফতি মাওলানা সাইদুর রহমানকে মুখোমুখি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিজামী ও মুজাহিদকে নিষিদ্ধ আনত্মর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মাওলাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে আগুনে পুড়িয়ে ফারম্নক হত্যা মামলায় নিজামীকে ৪ দিনের পূর্ব মঞ্জুরকৃত রিমান্ডে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে কদমতলী থানায় দায়েরকৃত মামলায় সাইদুর রহমানকে পূর্ব মঞ্জুরকৃত ৪ দিনের রিমান্ডে আজ ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর অভ্যনত্মরীণ কোন্দল চরমে। এ জন্য জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা গ্রেফতার হওয়ার পরও জামায়াত কোন বৃহত্তর আন্দোলনে যাচ্ছে না। দলটি তিনটি গ্রম্নপে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এরমধ্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারম্নজ্জামানের নেতৃত্বে একটি গ্রম্নপ বেশ কয়েক দফায় কতিপয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কামারম্নজ্জামান দলের সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চাচ্ছেন না গ্রেফতারকৃতরা আর আলোর মুখ দেখুক। গ্রেফতারকৃতদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এজন্য পরবর্তী সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার জন্য জামায়াতের বর্তমানে ৰমতাসীন অন্যদের সঙ্গে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতি টিকিয়ে রাখতেই এখন থেকে পুরনো জঙ্গী কানেকশন নতুন করে ঝালিয়ে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মীর কাশেম আলী জামায়াতে ইসলামীর আমির পদটি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এজন্য তিনি সম্প্রতি বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর আবার ফিরে এসেছেন। তিনিও কয়েকদফায় একটি মিডিয়া অফিসে গোপন বৈঠক করেছেন। তিনি দলের আমির হওয়ার জন্য জামায়াতের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে লবিং করে যাচ্ছেন। ইতোপূর্বে ১৯৯০ সালে টাকার জোরে এবং বলপূর্বক মীর কাশেম আলী জামায়াতের আমীর হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাসত্মবায়িত হয়নি। তাই তিনি এবার এ সুযোগ আর হাতছাড়া করতে রাজি নন। বর্তমানে তিনিই জামায়াতের ৰমতা গ্রহণ করতে মরিয়া। মীর কাশেম আলী একই সঙ্গে সমমনা অন্যদের সঙ্গে লিয়াঁজো করে টিকে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য দফায় দফায় তদ্বির করে যাচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারম্নল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে থাকা তৃতীয় গ্রম্নপটি নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে নানা আন্দোলন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ছাড়িয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ দলে রয়েছেন শিবিরের বর্তমান সভাপতি রেজাউল করিম। এজন্য বিএনপির সঙ্গে লিয়াজো করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি চারদলীয় জোটের শরিক দল হিসাবে বিএনপির ঘোষিত সব কর্মসূচীতেই আগে আগে থাকার চেষ্টা করছেন। এসব কর্মসূচীতে থাকার পাশাপাশি কর্মসূচীতে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে বিএনপির কাছ থেকে বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচী আদায়ের চেষ্টা করছেন। বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচীতে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিমকে। এজন্য রেজাউল করিম অস্ত্র গোলাবারম্নদ সংগ্রহ করছেন। বেশকিছু অস্ত্র গোলাবারম্নদ সংগ্রহ করেছে শিবির ক্যাডাররা।
একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, তলে তলে বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে। বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বন্ধু হিসাবে বিএনপির গায়ে থাকা দুর্গন্ধ সরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয়ভাবেও এ ভূত ঘাড় থেকে নামাতে আওয়ামী লীগের নেয়া উদ্যোগকে নীরবে সর্মথন করেছে। যদিও রাজনৈতিকভাবে বাইরে তা প্রকাশ করার কোন সুযোগ নেই। এজন্য বিএনপিতে জামায়াতের অবস্থান দিন দিন নাজুক হয়ে পড়েছে। জোটবদ্ধ হয়ে থাকার কারণে নামকাওয়াসত্মে বিএনপির তরফ থেকে কর্মসূচী ঘোষণা করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচীতে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে বিএনপির কাছ থেকে বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচী আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতের নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীপন্থী গ্রম্নপটি।
মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম মাওলা বলেছে, জামায়াতের সঙ্গে তাদের পুরনো সম্পর্ক। তাদের নির্দেশেই ধর্মভিত্তিক দলটি গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানের জামায়াতের কামারম্নজ্জামান হিযবুত তাহরীরের সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর জামায়াত-শিবির ও হিযবুত তাহ্রীর সরকারের বিরম্নদ্ধে নানা প্রপাগা-া চালিয়েছে। এসব প্রপাগান্ডা কেন চালানো হয়েছিল জানতে চাওয়া হয়েছিল নিজামী, মুজাহিদের কাছে। তারা নিশ্চুপ থেকেছেন। অস্থির হয়ে যান। রিমান্ডে নিজামী মুজাহিদ দাবি করেছেন, জামায়াত শিবিরের কেউ রগ কাটতে জানে না। এমন দাবির মুখে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের রগকাটার বহু ভিডিও চিত্র সামনে হাজির করে দেখানো হয়। এ সময় নিশ্চুপ হয়ে যান নিজামী মুজাহিদ। অধ্যাপক মাওলার দেয়া তথ্য সম্পর্কে নিজামী মুজাহিদ কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। এসব বিষয়ে কামারম্নজ্জামান বলতে পারবেন বলে তারা দাবি করেছেন। এদিকে দলের অভ্যনত্মরীণ কোন্দল ও বিএনপির বিমাতাসুলভ আচরণে নিজামী মুজাহিদ আফসোস করে বলেছেন, এজন্যই কি ৩৯ বছর রাজনীতি করেছি। আজ এই দিনেও বিএনপির তরফ থেকে না হাক, জামায়াতের তরফ থেকেও কোন প্রকার বড় ধরনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হচ্ছে না।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দৰিণ জোনের ডিসি মনিরম্নল ইসলাম জানান, জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেএমবির আমির মাওলানা সাইদুর রহমানের দেয়া জামায়াত-শিবিরসহ বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য খতিয়ে দেখতেই মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে নিজামী মুজাহিদ ও সাইদুর রহমানকে। মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি জনকণ্ঠকে জানান।