মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ জুন ২০১০, ১৪ আষাঢ় ১৪১৭
কূটকৌশলে বাজিমাত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে বিএনপি নেতাকর্মীদের মালিকানাধীন অনেক যানবাহন রাস্তায় নামানো হয়েছে। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত ২০টি যানবাহনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। যাতে আতঙ্কে অন্যান্য যানবাহন রাস্তায় না নামে। আর তাতেই বাজিমাত। রাস্তায় যানবাহন নেই। মানেই হরতাল শতভাগ সফল। এমন অভিনব পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী যানবাহনে ভাংচুর অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়েই পালিত হলো বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। এ অভিনব পরিকল্পনার সঙ্গে মির্জা আব্বাস, এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ গ্রেফতারকৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শনিবার রাতে হরতাল সমর্থকরা ৯টি যানবাহনে ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হরতাল সমর্থক নয়াপল্টন মোড়ে এক চিকিৎসকের ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৪০৮৪ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার ভাংচুরের পর আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আগুনে প্রাইভেটকারটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ ছাড়া শনিবার রাতে নিউমার্কেট ওভারব্রিজের নিচে ঢাকা মেট্রো-জ-১১-২৫৮৫ নম্বরের চয়েজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে, মিরপুর-১০ নম্বরে গাজীপুর-জ-০৪-০২৯২ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাসে, মিরপুর সি বস্নকের পানির ট্যাঙ্কের কাছে ঢাকা মেট্রো-হ-১১-০৫১৬ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী রাইডার পরিবহনে হরতাল সমর্থকরা ভাংচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। হরতালের নির্ধারিত সময়ের আগেই হরতাল সমর্থকদের এমন তা-বের বিষয়টি অনুসন্ধান করে গোয়েন্দারা। পৃথক ঘটনায় বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিএনপির লোকজনের মালিকানাধীন যানবাহন রাসত্মায় নামিয়ে তাতে ভাংচুর অগি্নসংযোগ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এমন অভিনব কৌশলের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায় নয়াপল্টনে প্রাইভেটকারে অগি্নসংযোগের ঘটনার তদনত্মে। হরতালে পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যানবাহন মালিকদের সঙ্গে আগেই চুক্তি হয়। গাড়ি ৰতিগ্রসত্ম হলে ৰতিপূরণ দেয়া হবে। এমন চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত কিছু গাড়ি শনিবার রাতেই রাসত্মায় নামানো হয়। আর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে নিজেদের নামানো যানবাহনেই ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করা হয়। এমন ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাওয়ার পর রীতিমতো অবাক বাঘা বাঘা গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সাধারণত বিরোধী দলের ডাকা হরতালে সরকার সমর্থিত পরিবহন মালিকদের যানবাহন রাসত্মায় দেখা যায়। এবার সরকার ও বিরোধী উভয় দলের সমর্থক মালিকানাধীন যানবাহনগুলো রাসত্মায় নেমেছে। এর পর নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে চলাচলকালে হরতাল সমর্থকরা যানবাহনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। যাতে নগরবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারলে হরতাল আপনাআপনিই পালিত হয়ে যায়। কারণ শনিবারে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা গাড়ি মালিকদের মনে আলাদা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এমন আতঙ্ক থেকেই গতকাল রাসত্মায় তেমন কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। এটি ছিল আপনাআপনি হরতাল পালিত হয়ে যাওয়ার অভিনব কৌশল। বিএনপির এমন কূটকৈৗশলে অনেকটাই বোকা বনে গেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গ্রেফতারকৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এর সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।