মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ জুন ২০১০, ১৪ আষাঢ় ১৪১৭
ইংলিশদের স্বপ্ন চূর্ণ করে শেষ আটে জার্মানি
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে তবু কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার তার আগেই ছিটকে পড়ল ইংলিশরা। আগেরবার পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়া জেরার্ড, ল্যাম্পার্ড, রুনিরা এবার বাদ পড়ল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির কাছে চরম পর্যুদস্ত হয়ে। রবিবার ব্লুফন্টেইনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির কাছে ৪-১ গোলে শোচনীয়ভাবে হেরেছে ইংল্যান্ড। সেরা ১৬-র লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙ্গে সেরা আটে জায়গা করে নিল তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। কোয়ার্টার ফাইনালে ক্লোসে, পোডোলস্কি আর শোয়েনস্টেইগাররা খেলবে আর্জেন্টিনা-মেক্সিকোর বিজয়ীর সঙ্গে। বিশ্বকাপে ইংলিশদের বিরম্নদ্ধে বরাবর রেকর্ড ভাল জার্মানির। বস্নুমফন্টেইনে ৯০ মিনিটের লড়াইয়েও সে ছবিই ফুটে উঠল। ইতিহাস-পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা জার্মানি শুরম্ন থেকে একচেটিয়া প্রাধান্য বিসত্মার করে জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়ল। দ্রুতগতি আর দারম্নণ কার্যকর কাউন্টার এ্যাটাকের নিপুণ সমন্বয়ে ইংলিশদের বেসামাল করে প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানরা। পুরো খেলায় ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করলেও ইংলিশরা খেলা শেষে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর একটি যুক্তি অনত্মত পাবে। ইংলিশরা একটি গোল পায়নি। উরম্নগুয়ের রেফারি ইংলিশদের একটি গোল থেকে বঞ্চিত করেছেন। ঐ সময় স্কোরলাইন ছিল ২-১। ঐ গোল হলে খেলায় সমতা ফিরে আসত। তবে তার পরও ইংলিশদের শেষ রৰা হতো কি না সন্দেহ। কারণ দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল হজম করে কাপেলোর দল। উরম্নগুয়ের রেফারি লারিওন্ডার এ ত্রম্নটিপূর্ণ সিদ্ধানত্ম আরেক বড় বিতর্কের জন্ম দিল। জার্মানির হয়ে স্বপ্নের এই ম্যাচে দুটি গোলের দেখা পেয়েছেন থমাস মুলার। বাকি দুটি গোল মিরোসস্নাভ ক্লোসে ও লুকাস পোডোলস্কির। ইংল্যান্ডের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন উপসন।
আগেই উত্তাপ ছড়ানোর এই ম্যাচের শুরম্নটা ছিল উত্তেজনা দিয়েই। আক্রমণের দিক থেকে প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিল জার্মানি। ছন্দের বিপরীতে জার্মানদের গতির ফুটবলের রূপ প্রকাশ পেতে থাকে ম্যাচের ২০ মিনিট থেকেই। গোলরৰক ম্যানুয়েল নুয়ের উড়নত্ম লম্বা পাস জন টেরির মাথা ছুঁয়ে চলে গেল ইংল্যান্ডের ডি বঙ্রে দিকে। ওত পেতে থাকা অভিজ্ঞ মিরোসস্নাভ ক্লোসে উপসনকে কাটিয়ে শুয়ে পড়েই ডান পায়ের ক্রসে জালে বল জড়ান। এর ঠিক ১২ মিনিট পরই আবারও গোলের দেখা পায় জার্মানি। এবার লুকাস পোডোলস্কি। পোডোলস্কির দারম্নণ এই গোলে ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানি। খেলায় ফিরতে উন্মুখ তখন ইংলিশরা। পেয়েও যায় গোলের দেখা। ৩৭ মিনিটে রাইট উইং থেকে অধিনায়ক জেরার্ডের হাওয়ায় ভাসানো ক্রসে মাথা লাগিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন উপসন। খেলায় তখন তুমুল উত্তেজনা। এর ঠিক এক মিনিট পরই আবারও গোলের সুযোগ ইংল্যান্ডের। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দূরপাল্লার শট বারপোস্টে লেগে গোললাইনের ভেতরে পড়লেও উরুগুয়েন রেফারি লারিওন্ডা বাঁশি বাজাননি গোলের। ফলে নিশ্চিত এক গোল থেকে বঞ্চিত হয় ওয়েন রম্ননিরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেশ গোছালো আক্রমণ শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু জার্মানির কাউন্টার এ্যাটাক ম্যাচের চিত্র পুরোপুরিই বদলে দেয়। দারম্নণ এক গোলে ৬৭ মিনিটে জার্মানির গোল ব্যবধান ৩-১ করেন থমাস মুলার। এর ঠিক ৩ মিনিট পরই আবারও মুলার ম্যাজিক। কাউন্টার এ্যাটাকে ওজিলের দুরন্ত পাসে ইংল্যান্ডের জালে দ্বিতীয়বারের মতো বল জড়ান মুলার। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হিটলারের দেশ জার্মানি।
গ্রুপ পর্বের খেলায় দারুণ গতিতে ছিল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। উদ্বোধনী খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে ফিলিপ লামরা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই সার্বিয়ার কাছে হোঁচট খায় জার্মানরা। তারকা স্ট্রাইকার মিরোসস্নাভ ক্লোসের লাল কার্ড প্রাপ্তির দিনে সার্বিয়ানদের কাছে ০-১ গোলে হারে তারা। শেষ ম্যাচে অবশ্য আফ্রিকার ঘানাকে হারিয়ে গ্রম্নপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডের পথ পরিষ্কার করে হিটলারের দেশ।
অন্যদিকে জার্মানির মতো সূচনাটা ভাল ছিল না কাপেলোর দল ইংল্যান্ডের। শুরম্নতেই ১-১ গোলে ড্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। দ্বিতীয় ম্যাচেও অপেৰাকৃত দুর্বল দল আলজিরিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়ে ইংলিশ বাহিনী। তবে এই গ্রম্নপে দুরন্ত গতিতে থাকা সেস্নাভেনিয়ার সঙ্গে শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌছে ইংল্যান্ড।