মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ জুন ২০১০, ১৪ আষাঢ় ১৪১৭
চিলি কি রুখতে পারবে ব্রাজিলকে?
কাকাবাহিনীর শৈল্পিক ফুটবল উপভোগের প্রত্যাশায় অগণিত ফুটবলপ্রেমী
কোচ বিয়েলসা কি চেয়েছিলেন ব্রাজিলকে_ হয়ত না। ব্রাজিল কোচ ডুঙ্গাও সম্ভবত চাননি অতিপরিচিত প্রতিবেশী চিলিকে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিয়তিই আজ সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দুই পরিচিত প্রতিপক্ষকে। যারা একই এলাকা থেকে বাছাই পর্ব খেলে জায়গা করে নিয়েছে মূল আসরে। বাছাই পর্বে পরাশক্তি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয় নেই দুই ম্যাচে। হোম এ্যান্ড এ্যাওয়ে_ অর্থাৎ ঘরে-বাইরে দুই জায়গাতেই পরাজিত হয়েছে চিলি। রিওডি জেনিরোতে ৩-০ আর সান্টিয়াগোতে ৪-২ গোলে হার। সম্প্রতি পরাজয়ের এই তিক্ততা নিয়ে আজ আবার ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে চিলি। সঙ্গত কারণে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের এই 'ডু অর ডাই' ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সামনে দাঁড়াবে তা প্রত্যাশা করেননি চিলির আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। ব্রাজিল জয় মানে অটল হিমালয় অতিক্রম। বিয়টা ভালভাবেই জানা চিলি কোচের। যদিও এক যুগ পর চিলিকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে গেছেন বিয়েলসা। ব্রাজিলের কাছে বাছাই পর্বে টানা দুই ম্যাচ হারলেও বিগত সময়ের তুলনায় এবারের দলটি বেশ পরিণত। ফলে ব্রাজিলের ঠিক পরেই দৰিণ আফ্রিকার টিকেট নিশ্চিত করে এই দলটি। এইচ গ্রুপে জয়ের সূচনা করে আমেরিকান প্রতিপক্ষ হন্ডুরাসকে এক গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচেও দুর্দান্ত জয় সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই গোলে। টানা দুই জয় প্রি-কোয়ার্টারের দোরগোড়ায় নিয়ে যায় চিলিকে। প্রমাণ করে নিজেদের শক্তিমত্তা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারকাসমৃদ্ধ স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরেও দ্বিতীয় দল হিসেবে জায়গা করে নেয় ষোলো দলের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। আর এখানে এসেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকার এই দলটি। চিলিকে নিয়ে আগে আলোচনা এই কারণে যে, সন্দেহ নেই ম্যাচে ফেবারিট ব্রাজিল। তবে গ্রুপ সেরা হতে পারলে সুবিন্যস্ত ব্রাজিলকে এড়াতে পারত তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতায় খেলতে হচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রতিপৰের বিরুদ্ধে। যদিও ব্রাজিল কোচ কার্লোস ডুঙ্গা খাটো করে দেখছেন না চিলিকে। গতকাল অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বললেন, সব প্রতিপৰই আমার কাছে সমান। চিলি-ব্রাজিল একসঙ্গে খেলে দক্ষিন আফ্রিকা পাড়ি জমালেও বাছাই আর মূল পর্বের লড়াইয়ের মধ্যে বিস্তার ফারাক। বাছাই পর্বে চিলিকে আমরা কোন ম্যাচে জিততে দেইনি ঠিকই। কিন্তু আসল লড়াইয়ে এসে তারা যে আমাদের হারাতে পারবে না এই গ্যারান্টি দেয়া যায় না। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই চিলিকে দেখছি আমরা। মাঠেও সতর্ক হয়ে খেলবে ফুটবলাররা। আমার এই কথায় আবার এমনটি ভাববেন না কেউ যে ব্রাজিল ভয় পাচ্ছে। ব্রাজিলকে স্বরূপে দেখা যাবে আজকের ম্যাচেও। জয়ের লক্ষেই মাঠে নামব আমরা। আশা করি জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ব। দলের ফর্মেশন আগের মতোই ৪-৪-২। গোলপোস্টে জুলিও সিজার, রৰণভাগে অধিনায়ক লুসিও, মাইকন, জোয়ান, বাস্তোস। মধ্যমাঠে কাকার সঙ্গে ফিলিপে মেলো, গিলবার্তো ও নিলমার। উল্লেখ্য, ইনজুরির কারণে আজকের ম্যাচেও অনিশ্চিত মিডফিল্ডার এলানো। তার জায়গায় নিলমার। আর স্ট্রাইকিংয়ে যথারীতি লুইস ফ্যাবিয়ানো ও রবিনহো।
প্রসঙ্গত, গ্রুপের শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিরুদ্ধে কাকা ছিলেন দর্শক, আগের ম্যাচে লালকার্ড পাওয়ায়। আজ খেলবেন দলের অন্যতম, তথা বিশ্বনন্দিত এই তারকা ফরোয়ার্ড। ফলে পূর্ণশক্তির ব্রাজিলকে আজ মোকাবেলা করবে চিলি। এদিকে ব্রাজিলের ম্যাচ সামনে রেখে উৎসবের শহরে রূপ নিয়েছে এলিস পার্ক। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত সাড়ে ১২টায়। প্রথম পর্ব শেষে খেলার সংখ্যা কমছে। কিন্তু উত্তাপ বাড়ছে বিশ্বকাপের। প্রথম পর্বের ষোলো ও প্রি-কোয়ার্টার থেকে তিন, মোট ১৯টি দল ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ, ফুটবলপ্রেমী দর্শক বাড়ছে তাতাম বিশ্বের দুই জনপ্রিয় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কারণে। দাপটে লড়ছে এই দুই লাতিন আমেরিকান জায়ান্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গ লাগোয়া এলিস পার্ক ব্রাজিল সমর্থকে ঠাসা। খেলা দেখার নানা প্রস্তুতি-টিকেট না পাওয়াদের জন্য রয়েছে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিন। এখানে খেলা দেখতে আসা দর্শকের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন_ বাহারি খাবার, পানীয় সবই।
ম্যাচ সামনে রেখে মিডিয়াকে দেয়া সাৰাতকারে চিলি কোচ বিয়েলসা বললেন, আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দলটিই আমাদের সামনে। ম্যাচ বাঁচাতে বা পরবর্তী পর্বে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে আজ ভাল খেলার বিকল্প নেই। খেলোয়াড়রা প্রস্তুত। মানসিকভাবে তৈরি সবাই ব্রাজিলকে মোকাবেলায়। বাছাই পর্বে পরাজয়ের বদলা নেয়ার চিনত্মা কাজ করছে ফুটবলারদের মধ্যে। কোচ বিয়েলসা জানালেন দলের ফর্মেশন হবে ৫-৩-২। ব্রাজিল বলে কথা। একটু রয়েসয়ে খেলাই শ্রেয় মনে করছেন চিলি কোচ। দলে কাকা, রবিনহো, ফ্যাবিয়ানোর মতো তারকা না থাকলেও আলেক্সি সানচেজ, মার্ক গঞ্জালেস, এস্ত্রাদা, জারার মতো কুশলী, পরিশ্রমী ফুটবলার রয়েছে চিলি একাদশে। তারা নিজেদের সামর্থ্য ঢেলে খেলতে পারলে ব্রাজিলকে হারানো সম্ভব বলে মনে করেন কোচ বিয়েলসা। এখন সময় ভাল বলতে পারবে চিলির ভাগ্যে কি ঘটবে_ ব্রাজিলীয় ছন্দে ম্লান না কি চমক?