মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে বেড়েছে সরিষা চাষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৩০ নবেম্বর ॥ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র-যুমনা নদীবাহিত পলির বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ হচ্ছে। উঁচু এলাকার জমির চাইতে চরাঞ্চলের উর্বর জমিতেই এ বছর সরিষা চাষে সাফল্যে আশানুরপ সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে মঙ্গা প্রবণ এসব এলাকার দরিদ্র কৃষকরা রবি মৌসুমে সরিষা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা করছে।
জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর তীরবর্তী তারাপুর, দহবন্দ, বেলকা হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের জেগে ওঠা চরে এ বছর কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে সরিষা চাষ শুরু“ করে। এছাড়া জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার চর অঞ্চলগুলোসহ গোটা জেলাতেই এ বছর ৪ হাজার ৮শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। তবে গত বছর জেলার স্থলভূমিতে সরিষা চাষ বেশি হলেও এবছর অনেক হ্রাস পেয়েছে। সেক্ষেত্রে চরাঞ্চলগুলোতে সরিষা চাষ হয়েছে বেশি। ইতোমধ্যে সরিষা গাছগুলোতে হলুদ ফুলে ফুলে ভরে ওঠায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া চরাঞ্চলের কৃষক তৈয়ব মিয়া জানান, এ বছরই তিনি প্রথম চরাঞ্চলের জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তার জমিতে সরিষার গাছগুলো যেভাবে লকলকিয়ে উঠেছে এবং হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে তাতে তিনি এ বছর সরিষার ভাল ফলন পাবেন বলে আশাবাদী হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জানান, উঁচু এলাকাগুলোর চাইতে চরাঞ্চলের নদীবাহিত পলি সমৃদ্ধ বেলে-দোয়াশ মাটিতে সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ ভাল হচ্ছে। কারণ চরাঞ্চলের জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর। এ থেকে মঙ্গা প্রবণ এ সমস্ত দুর্গম এলাকার কৃষকরা রবি মৌসুমে মরিচ, সরিষা, ছিটানো পিঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, ডাল, ভুট্টা, ধনিয়া পাতা, আলু ও মিষ্টি আলু, বাদামসহ বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শুরু“ করেছে। যা চরাঞ্চলের চিরায়ত অভাব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।