মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
মেহেদির রং না মুছতেই মুছে গেলেন রেখা
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ হাতে মেহেদি মেখে, লাল বেনারশি জড়িয়ে ১৭দিন আগে স্বামীর ঘরে গিয়েছিলেন রেখা খাতুন (২০)। কিন্তু মেহেদির রং মুছতে না মুছতেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন নববধূ রেখা। যৌতুক দাবিতে শনিবার রাতে তাকে ‘হত্যা’ করে বিষপানে আত্মহত্যা করে বলে প্রচার করছে স্বামী গৃহের লোকজন। নিহত রেখা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জলকা রোহিতা গ্রামের সালাম খাঁর মেয়ে ও শহরের খড়কি এলাকার মনা মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। এদিকে, রেখাকে মারপিটে হত্যার করার অভিযোগ করায় রাতেই যশোর হাসপাতাল চত্বরে তার পিতা ও স্বজনদের উপর হামলা করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার এসআই হেমায়েত রেখার প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর খড়কি এলাকার মনোয়ার ও মঞ্জুরুল ইসলামকে আটক করেছে।
রেখার চাচা ইস্রাফিল হোসেন বলেন, ১৭ দিন আগে রেখা ও জহিরুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুক না পেয়ে রেখাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের চারদিন পর জামাই জহিরুল ইসলাম এক লাখ টাকা ও ফার্নিচার দাবি করে। কিন্তু রেখার বাবা সালাম খাঁ দাবি রাখতে না পারায় বেজায় ক্ষিপ্ত হয় জামাই। এরপর রেখা শ্বশুরবাড়িতে গেলে তার উপর অত্যাচার শুরু হয়। একপর্যায়ে শনিবার তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান। ইস্রাফিল হোসেন আরও বলেন, শনিবার রাতে রেখা বিষপান করেছে বলে তাদেরকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেখা মারা যান। তার শরীরে কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হক জানান, রেখার পিতা ও স্বজনদের অভিযোগ তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছে, রেখা আত্মহত্যা করেছে। ফলে লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।