মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
নীলফামারীতে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে প্রতারণা
লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ বিভিন্ন বাসাবাড়ির রান্না ঘরের সামনে বিশ্বনন্দিত এ্যাওয়ার্ড মাদার তেরেসা ২০১০ শ্রেষ্ঠ সমাজ সেবক হিসেবে ম্যান অব দ্য ইয়ার কথাগুলো লিখে আলো বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড এখন শোভা পাচ্ছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে। অভিযোগ উঠেছে, মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড কে পুঁজি করে ফেমাস বাংলা সোসাইটি (ফেবস) এ্যান্ড ফেবস সোর্র্সিং লিমিটেড নামে একটি এনজিও’র বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা শহরের কদমতলী এলাকায় ৩ মাস আগে অফিস খুলে বসে এই এনজিওটি। তারপর শুরু হয় তাদের আকাশছোঁয়া সুবিধা প্রদানের কথা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ পৌরসভায় ৬শ’ স্কুল তৈরি করবেন। সেগুলো হবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত রস্ক প্রকল্পের আনন্দ স্কুলের মতো। প্রতিস্কুলে ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে থাকবেন একজন করে শিক্ষক। স্কুলের নামকরণ করেছে আলোর ছায়া। এই নামে গ্রামে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাইনবোর্ড স্থাপন করে এনজিওটি।
আর এ সব স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং ১১ সুপারভাইজার নিয়োগে ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি ওই সব স্কুলে ভাল মানের শিক্ষা ব্যবস্থার ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আবার গুনতে হবে ২শ’ ২০ টাকা ছবি তোলা বাবদ। এনজিওটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং সুপারভাইজারদের ছবি বিদেশে পাঠানো হবে। এতে ওই সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং সুপারভাইজারদের জন্য বিদেশ থেকে মোটা অঙ্কের সাহায্যসহ বিভিন্ন সহযোগিতা চলে আসবে। এমন প্রচারণায় শিক্ষক, সুপারভাইজার পদে চাকরি পেতে এবং আলো ছায়া বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করতে অভিভাবকরা ভিড় করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাস্তবে ফেবসের কর্ম এলাকায় কোন স্কুল নেই। বালাগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার মমতা বেগম, হাজী পাড়ার মাজেদুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন মাস হলো তাদের কাছ থেকে ফেবস অফিসে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের জন্য প্রত্যেকের কাছে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এখনও কোন নিয়োগপত্র কিংবা টাকা গ্রহণের রশিদ প্রদান করেনি। কাঁঠালী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার জামিয়ার রহমানের ছেলে মামুনার রশিদ জানায়, তিনি শিক্ষক পদে চাকরি নিয়ে বেতন এখনও পায়নি। উল্টো শিক্ষকদের কাছে আরও ৪ হাজার ৪ শ’ টাকা জমা করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ফেবস অফিসের দায়িত্বে থাকা আবু রায়হান ফেরদৌস (রানা) জানান, এখান থেকে গোটা জেলায় কার্যক্রম চলবে। আমাদের হেড অফিস উত্তরা, ঢাকায়। দাতাসংস্থার নাম মাদার তেরেসা। এর বেশি কথা বলতে তিনি রাজি হননি। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হেড অফিসের মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
ফেবস শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কোন তথ্য নেই উপজেলা শিক্ষা অফিসে। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান বলেন, আমার কাছে এ রকম কোন তথ্য নেই এমনকি অফিসে কোন রকম কোন তথ্য প্রদান করেননি সংস্থাটি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।