মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২৬ আশ্বিন ১৪২০
’৭৫-এর রক্তের ভেতর দিয়ে রাজনীতিতে এলেও নির্বাচনে তাঁকে হারাতে পারেনি কেউ
নীতিশ চন্দ্র বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ থেকে ॥ দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে গোপালগঞ্জবাসীকে আগলে রেখেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের ৬ বারের নির্বাচিত এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তার ¯েœহ, মমতা আর ভালবাসা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়। স্বাধীনতা উত্তর উন্নয়নবঞ্চিত গোপালগঞ্জকে তিনি ঢেলে সাজিয়েছেন উন্নয়নের জোয়ারে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এ কারণেই একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে সর্বত্র।
’৭৫-এর রক্তের ভেতর দিয়ে রাজনীতিতে এলেও নির্বাচনে তাঁকে হারাতে পারেনি কেউ। ১৯৮০ সালে উপনির্বাচনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হন। সেই থেকে তাঁর সর্ম্পক গড়ে ওঠে এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে। এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাঁর। তাঁর বিচক্ষণতা ও দক্ষ পরিচালনার ফলে এলাকায় নেই কোন রাজনৈতিক হানাহানি, নেই টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজি। অফিস আদালতেও নেই কোন দলীয় প্রভাব। প্রতিনিয়তই গভীর রাত পর্যন্ত সময় কাটান নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথা বলে এবং এলাকার যে কোন সমস্যা তিনি চেষ্টা করেন নিজে সমাধান করতে। গোপালগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মূল কারণই হলো সংখ্যালঘুদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা। আর এ কারণেই এ এলাকায় নেই কোন সাম্প্রদায়িক হানাহানি।
’৯৬-এর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যন থাকাকালীন রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ গোপালগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি গোপালগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে জেলার চিকিৎসাসেবার মান ও প্রসার ঘটিয়েছেন। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য চালু করেছিলেন কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম। বর্তমান সংসদে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গোপালগঞ্জের উন্নয়নে তিনি সদাজাগ্রত থাকার কারণে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এবং নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলেছে। তাঁর প্রচেষ্টায় শহরে নির্মিত হয় আন্তর্জাতিকমানের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম। ইতোমধ্যে এখানে চালু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। সংস্কার করে নয়নাভিরাম করে করা হয়েছে শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম। নির্মিত হয়েছে ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুত প্লান্ট। শহরের ওপর দিয়ে গড়ে উঠেছে গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নয়নাভিরাম মধুমতি লেক ও শিশুপার্ক, যা শহরের জীবনযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় ও উন্নত করেছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ডেন্টাল কলেজ। মধুমতি লেকের পাড়ে শেখ কামাল স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ ছাড়াও তাঁর অনবদ্য চেষ্টায় গোপালগঞ্জে গড়ে উঠছে সুইমিং পুল, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, শিশু একাডেমী, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, আবহাওয়া অফিস, সার্ভার স্টেশন, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের বসবাসের জন্য হাউজিং প্রকল্প, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ও এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ওষুধ কারখানাসহ ছোট-বড় বহু উন্নয়নমূলক কাজ। গোপালগঞ্জকে শিল্পাঞ্চল করার লক্ষ্যে হরিদাসপুর এলাকায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে নির্মাণ করা হচ্ছে বিসিক শিল্প পার্ক। এ সব উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো এ সরকারের মেয়াদের মধ্যেই সমাপ্ত করে চালু করার জন্য অনবদ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত আলী লেকু গর্বের সঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা গোপালগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে এমন একজন সৎ ও যোগ্য মানুষকে আমাদের নেতা হিসেবে পেয়েছি, যার মধ্যে কোন অহঙ্কার নেই।
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় চৌধুরী (পপা) বলেছেন, ‘শেখ ফজলুল করিম সেলিম একজন সাদা মনের মানুষ। তাঁর মতো একজন সাংসদ পেয়ে আমরা গর্বিত। তিনি আমাদের শান্তির প্রতীক।’