মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২৬ আশ্বিন ১৪২০
বেতন বোনাসের দাবিতে আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ
সংঘর্ষ, আহত ৫০
নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার, ১০ অক্টোবর ॥ বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়া থানার জিরানী বাজার এলাকায় ‘লির্বাটি ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড’ নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শিমুলিয়া-জিরানী সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অর্ধশত শ্রমিক, পুলিশ ও পথচারী আহত হয়। ঘণ্টা দুয়েক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কারখানা রবিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দু’মাসের বকেয়া বেতনের জন্য ওই কারখানার শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে কর্মবিরতি পালন ও একই সঙ্গে বিক্ষোভ করে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কবে বেতন পরিশোধ করা হবে-তা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। কিন্তু, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু না বলায় শ্রমিকরা কারখানার সামনে শিমুলিয়া-জিরানী সংযোগ সড়কে নেমে আসে। এ সময় তারা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে এবং কাঠের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলে। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরাও তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দফায় দফায় চলে শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশের ধাওয়ার মুখে শ্রমিকরা এলাকা ত্যাগ করে। দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া আর সংঘর্ষের ঘটনায় পথচারীসহ উভয়পক্ষের অর্ধশত আহত হয়। কারখানার কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এ ঘটনায় কারখানাটি রবিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে, স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন যে, পুলিশ অপ্রয়োজনে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সাধারণ মানুষের ওপর লাঠিচার্জ করে। ছোড়ে টিয়ারশেল। এর ফলে, ওই সকল বাসা-বাড়ির মহিলা ও শিশুরা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। টিয়ারশেলের গ্যাসে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।