মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২৬ আশ্বিন ১৪২০
বাগেরহাটে দু’শতাধিক ম-পে দুর্গোৎসব
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট, ১০ অক্টোবর ॥ ধর্মীয় পার্বণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা নিয়ে তৈরি দুর্গাপুজোর বিশাল বিশাল ম-প বাগেরহাটে শারদীয় উৎসব নতুন মহিমায় আবির্ভূত হয়েছে। অপরূপ সাজসজ্জা আর আলোর খেলায় তা হয়ে উঠেছে মনোমুগ্ধকর। নানা রঙের আয়োজনে দেড়/দুই মতাধিক ম-প। সত্য, ত্রেতা, দাপর ও কলি যুগের ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার, পৌরাণিক কাহিনী ও পার্বণের ভিন ভিন্নœ দৃশ্যের পাশাপাশি সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন করে তোলার আয়োজনে মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। পুজো শুরু হয়েছে। ঢাক-বাদ্য বাজছে। চলছে আরতী। বাড়ছে মানুষের ভিড়। বৃহৎ এসব ম-প ঘিরে গ্রামীণ চারু-কারু, মৃৎ শিল্পের পাশাপাশি হরেক আঙ্গিকে বাহারি সব পসরা মিলেছে। চলছে দেদার বিকিকিনি।
জেলায় চলতি বছর ৫৭৮টি পুজো-ম-প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১ প্রতিমা নিয়ে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম দুর্গাপুজো ম-প, হাকিমপুরের দুলাল শিকদারের বাড়ি, চুলকাঠি বণিকপাড়া, পোলঘাট দুর্গমন্দির, ফকিরহাটের বেতাগার মমতলায় বৃহৎ ম-প তৈরি হয়েছে। ফকিরহাট সদরের ডিজিটাল পদ্ধতিতে লাইট কম্পোজিং দুর্গা-প্রতিমা ম-পও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে চুলকাঠির হাকিমপুর দুলাল শিকদারের বাড়িসংলগ্ন আঙ্গিনায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সর্ববৃহৎ পুজো-ম-প।
২০১টি প্রতিমা নিয়ে কাড়াপাড়া ও হাকিমপুর সিকদার বাড়ি মন্দিরে হিন্দু ধর্মের চার যুগ বিশেষ করে সত্য, ত্রেতা, দাপর ও কলিযুগের বিভিন্ন সময়ের ধর্মীয় কাহিনী, পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করেছেন। গত ২ মাস ধরে এসব মন্দিরে প্রতিমা শিল্পী ভাস্করগণ দিনরাত পরিশ্রম করে এ পুজো-ম-প তৈরি করেন। এখানে প্র্রতিমার নির্মাণশৈলী, বিভিন্ন দৃশ্যের বৈচিত্র্যতা, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে। ধর্মীয় কাহিনী ও পার্বণের চিত্রায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক ও শিক্ষণীয় বেশ কিছু বিষয়ের মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। মূর্তি নির্মাণ ও কারুকার্য-সাজসজ্জায় বৈচিত্র্য এনে তাকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। কাড়াপাড়া শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম দুর্গা মন্দিরের সভাপতি অসীম কুমার সিকদার, সম্পাদক তাপস সেন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত হাকিমপুর শিকদার বাড়ি দুর্গা ম-পের আয়োজক লিটন শিকদার ও তার সহধর্মিণী পূজা শিকদার আশা করছেন, সত্য, ত্রেতা, দাপর ও কলিযুগের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিস্থাপন করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বহুমূর্তি নিয়ে আঙ্গিক ও বৈচিত্র্যে অসাধারণ মন্দির দর্শন করে মানুষ উজ্জীবিত হবে।
বৃহৎ এ সকল পুজো-ম-প নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বৃহৎ এ আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-যুবা-বৃদ্ধ ছুটে আসছেন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মুঃ শুকুর আলী ও পুলিশ সুপার মোঃ নিজামুল হক মোল্যা জানান, শারদীয়া দুর্গোৎসব উদ্যাপনে শান্তি পূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।