মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১১ আশ্বিন ১৪২০
রূপগঞ্জে স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২৫ সেপ্টেম্বর ॥ রূপগঞ্জে তালাকের কাগজে স্বাক্ষর না করায় স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে পাষ- স্বামী। তাকে শিকলে বেঁধে অন্ধকার একটি কক্ষে তিনদিন আটক রেখে উপর্যুপরি আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে থেঁতলে দেয়াসহ চেষ্টা চালায় চোখ উপড়ে ফেলা। ৪ বিয়ের পর ৫ম বিয়ের জন্যই এই নির্যাতন বলে জানায় আহত স্ত্রী। বুধবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন তাঁকে। উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
নির্যাতনের শিকার মর্জিনা জানান, তাঁর পিতা আব্দুল খালেক একজন নৌকার মাঝি। ৬-৭ বছর পূর্বে অনেক কষ্টে ৪০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে একই এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে জামানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন বাবা। বিয়ের পর থেকে তাঁদের সংসারে কোন সন্তান হয়নি। বিয়ের কিছুদিন পরই জামান জুয়া খেলা শুরু করে। টাকার জন্য শুরু করে মর্জিনার উপর নির্যাতন। দরিদ্র পিতা জামানের দাবিকৃত যৌতুক দিতে না পারায় একে একে শিরিনা, নিলুফা ও নুরজাহান নামে আরও ৩ মেয়েকে যৌতুক নিয়ে জামান বিয়ে করে। এদিকে জুয়া খেলে জামান তার বসতভিটা বিক্রি করে দিলে ২ স্ত্রী তাকে ত্যাগ করে চলে যায়। মর্জিনা আশ্রয় নেয় জামানের বোনের বাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইছাপুরা এলাকায়। গত রবিবার জামান তার বোন সাজি আক্তারের বাড়িতে গিয়ে মর্জিনাকে ৫ম বিয়ে করার জন্য তালাক নামায় স্বাক্ষর করতে বলে। এতে মর্জিনা অস্বীকার করলে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে তাঁকে অন্ধকার একটি কক্ষে আটক করে রাখে। এ সময় জামান বার বার মর্জিনাকে এলোপাতাড়িভাবে লাঠি ও ভোতালোহা দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। পাষ- জামান স্টিলের চামচ দিয়ে মর্জিনার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। পরে প্রতিবেশীদের কাছে সংবাদ পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক সামসুল (২) জামানের বোন সাজি আক্তারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বন্দিদশা থেকে মর্জিনাকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।