মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ৭ আশ্বিন ১৪২০
মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার গৃহবধূ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন
নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২১ সেপ্টেম্বর ॥ পতিতা অপবাদে গ্রাম্য বিচারের নামে এক গৃহবধূর গোপনাঙ্গে কাঁচামরিচ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মহিলা ইউপি সদস্যসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিরা হলো, ইউপি সদস্য নারগিস পারভীন ও তার স্বামী মকসুদার রহমান, মোজাম্মেল হক, তোজাম, মজমুল হক, মর্জিনা বেগম, ছহেরা বেগম ও ছকিন।
জানা গেছে, জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত আসন ১,২,৩ ওয়ার্ড) নারগিস পারভীন তার প্রতিবেশী মদনপুর গ্রামের দিনমজুর তোফলে রহমানের স্ত্রী আমেনা বেগমের নামে অবাধ যৌনাচারের অভিযোগ করেন। তিনি কথিত এ অভিযোগে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দলবল নিয়ে দিনমজুর তোফলে রহমানের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে গ্রাম্য বিচার বসান। সে বিচারে যৌনাচারের শাস্তি হিসেবে দিনমজুরের স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। পরে উপস্থিত সঙ্গীয় নারীদের সহযোগিতা নিয়ে কাঁচামরিচ বেটে গোপনাঙ্গে ঘঁষে দেয়া হয়। তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে আদিতমারী হাসপাতালে পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গৃহবধূ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৫৩ নম্বর বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শুক্রবার মহিলা সদস্যসহ ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
চিকিৎসকরা জানান, গৃহবধূকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে। অর্থাভাবে দিনমজুর স্বামীর পক্ষে স্ত্রীর চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। স্ত্রীকে সুস্থ করতে সমাজের বিত্তবান, মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই মহিলা ইউপি সদস্য জামায়াতের একজন কর্মী। একটি প্রভাবশালী মহল মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।