মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ৩ আশ্বিন ১৪২০
কমছে পানি, বাড়ছে ভাঙ্গন
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দুই দিনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার শেষ চিহ্নটুকু যমুনায় বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া মাদারীপুর শিবচরের চরজানাজাতের সাড়ে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, হাটবাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক পদ্মায় বিলীন হয়েছে। আমতলীতে পায়রায় বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শহরসহ ১৫ গ্রাম। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতাদের পাঠানোÑ

যমুনায় বিলীন চৌহালীর শেষ চিহ্ন
যমুনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে চৌহালী উপজেলা সদরের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেল। গত দু’দিনে যমুনার ভাঙ্গনে উপজেলা পরিষদ ভবন ও উপজেলা কোর্ট ভবন নদীতে বিলীন হয়েছে। এ দুটি ভবন ছিল চৌহালী উপজেলা পরিষদ পরিচিতির শেষ চিহ্ন।
গত দুই-তিন বছর যাবত চৌহালীতে ভাঙ্গন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে যুমনায় ড্রেজিং এবং নদী শাসন কাজ শুরু করা হলেও বাস্তবে তার কোন প্রভাব পড়েনি। পানি ও নদী বিশেষজ্ঞরা যমুনার পাড়ে ভাঙ্গন পরিস্থিতি দেখতে এসে প্রায়ই বলে থাকেন এই নদীর গতিপথ বড়ই বিচিত্র। আগে থেকে কোন পূর্বাভাস দেয়া যায় না।
গত দু’বছরে প্রমত্তা যমুনা চৌহালী উপজেলার প্রায় ৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বসতবাড়ি আবাদী জমি গ্রাস করেছে। গ্রাস করেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারী স্থাপনা। শুধু এ বছরই ১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন বিস্তার লাভ করে মানুষের সহায়-সম্পদ গিলে খেয়েছে। চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর চর, চাঁদপুর, বেতিল, আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি ও বাঈখোলা গ্রামের অংশবিশেষও যমুনাতে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, যমুনা নদীর চৌহালী পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করায় নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানছে উপজেলা পরিষদের ডরমেটরি, ডাকবাংলো, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবন, থানা কোয়ার্টার ও পুরাতন কোট ভবনে। যমুনা নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পানিতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে প্রথমে সীমানা প্রাচীর পরে মূল ভবন যমুনায় চলে যাচ্ছে। এভাবে চোখের সামনে প্রতিদিনই যমুনায় বিলীন হচ্ছে আবাদী জমি, ঘরবাড়ি। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা প্রশাসনের চেখের সামনেই পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনার লোহার গ্রিল, দরজা, জানালাসহ আসবাব খুলে খুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং পরিষদের পুরনো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসনের একশ্রেণীর অসাধু কর্তাব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে চলছে এ হরিলুট। সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় উর্ধতন কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শিবচরে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর পদ্মায়
কয়েক দিনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি কমতে শুরু কমেছে। পানি কমতে থাকায় চরজানাজাতের ৬টি গ্রামের সাড়ে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, হাটবাজার ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের মাঝে হাহাকার নেমে এসেছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ মানুষ পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতের মাঝেই পার্শ্ববর্তী চরের নিম্নাঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাতে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে পানি কমতে থাকায় ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে চরজানাজাতের রউফ ফকিরের হাটের ৪০টি দোকান, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমিহীন গ্রাম, ফজলু সরকারকান্দি ও ফকিরকান্দি গ্রামসহ ৬টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের তা-বে কয়েকটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জায়গা না পেয়ে চরাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।

হুমকির মুখে আমতলী শহরসহ ১৫ গ্রাম
পায়রা নদীতে ফের ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে আমতলী শহরের একাংশসহ উপজেলার ১৫ গ্রাম। নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হওয়াতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ৯০ দশকে পায়রা নদীর ভাঙ্গনের তীব্রতা ভয়াবহ আকারে রূপ নেয়। ভাঙ্গনে তালতলীর বগী বাজার, বালিয়াতলী, মৌপাড়া, জয়ালভাঙ্গা, চরপাড়া আমতলী পৌর শহরের পুরাতন বাজার একাংশ, শশ্মান ঘাট, বৈঠাকাটা, পশরবুনিয়া ও গুলিশাখালী বাজারের বহু দোকান, বসতঘর, কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ’৯৮ সালে তৎকালীন সরকার আমতলী পৌর শহরকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় ১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলা বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি করে। ২০১০ সালে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১শ’ ২৫ মিটার সিসি ব্লক ফেলতে পাউবো ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করে। এ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সেই ১শ’ ২৫ মিটারসহ ৩০০ মিটারের সিসি ব্লক সরে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বৈঠাকাটার ৮০০ মিটার পাউবোর বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙ্গে হাজার হাজার একর আমন ক্ষেত ধ্বংস হয়ে যাবে।