মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ৩ আশ্বিন ১৪২০
বর্তমান সরকারের আমলে শেষ হচ্ছে না
ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক চার লেন
বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘন ঘন পরিদর্শনেও গতি বাড়েনি ঢাকা ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কাজ। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত ৩০ মাসে হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে আরও ১৫ মাস সময় লাগার কথা বলছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। ফলে বতর্মান সরকারের মেয়াদে শেষ হচ্ছে না বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কাজ। ৫৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এ কাজ চলতি সালের গত ১ আগস্ট শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে এক লেজেগোবরে অবস্থা। মহাসড়কের অনেক জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি, কাটাছেঁড়া ও গর্তসহ নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। যানবাহন চলাচল করছে বিকল্প পথে ধীরগতিতে। ফলে প্রতিদিন যানজট সৃষ্টির কারণে ৩ ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগছে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই গতি পাচ্ছে না চার লেন প্রকল্পের কাজ। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল ও ভালুকাসহ ময়মনসিংহ সদরের একটা বড় অংশই বেহাল। সদরের কাজির শিমলায় রাস্তার এক পাশ কেটে রাখা হয়েছে। আরেক পাশে আধলা ইট ফেলে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে যান চলাচল। ত্রিশালের কানহর ও বৈলরের অনেক জায়গায় এক পাশের মাটি কেটে এমন সরু করা হয়েছে- দুটি গাড়ি সাইড নেয়ার সময় ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় ইট সুরকি ও বালি মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। গর্তের অনেক স্থানে বৃষ্টির পানির জমে কাদাজলে একাকার হয়ে রয়েছে। রায়মনি থেকে ত্রিশাল সদর পর্যন্ত এক পাশের মাটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে কাজ। একই অবস্থা ভালুকার ভরাডোবা, কাঁঠালি, হাজিরবাজার, মেহরাবাড়ি ও সিডস্টোর নামক স্থানে। ভালুকা ডিগ্রী কলেজের সামনে থেকে ভালুকা সদর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত কাদাজলের ভাঙ্গাচোরা গর্তে আধলা ইট ও সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। চার লেন প্রকল্পের গোড়ার অংশ ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়ার প্রায় ৩০ মিটারজুড়ে ভাঙ্গা গর্তে ফেলে রাখা হয়েছে আধলা ইট। বৃষ্টি হলেই এ সব গর্তে পানি জমে তৈরি হচ্ছে মরণফাঁদ।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের নয়নপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু হয় গত ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। দুটি আলাদা প্যাকেজে এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ৫৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্যাকেজ-৩ তে নয়নপুর থেকে ত্রিশালের রায়মনি পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড এবং প্যাকেজ-৪ তে রায়মনি থেকে ময়মনসিংহ শহরর চরপাড়া মোড় পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শামীম-তমা এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি মতে চলতি সালের গত ১ আগস্টে এ কাজ শেষ করার কথা। প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, বাকি কাজ শেষ করতে আরও ১৫ মাস লাগতে পারে। ইতোমধ্যে সময় বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদনও করা হয়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ সময় মহাসড়ক সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্রকল্প কর্মকর্তা আরও জানান, বিদ্যুত বিভাগ রাস্তার পাশ থেকে খুঁটি সরাতে ১৫ মাস সময় নেয়ায় নির্ধারিত সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। প্রকল্প কর্মকর্তার এ রকম দাবিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে স্থানীয় বিদ্যুত বিভাগ। ময়মনসিংহের বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবীর জানান, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিদ্যুত বিভাগের ওপর এখন দোষ চাপানো হচ্ছে।