মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ আগষ্ট ২০১৩, ১৪ ভাদ্র ১৪২০
নয় বছর বন্দীজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরল মাটি
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ২৮ আগস্ট ॥ নাম তার মাটি। ছয় বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলা দেখতে গিয়ে শিশু পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে ভারতে পাচার হয়ে যায় সে। এখন সে ১৫ বছরের কিশোর। আদালতের নির্দেশে মাটিকে কিশোর সংশোধানাগারে রাখা হয়েছে। পাচার হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতে থাকায় মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি তাকে শিখতে হয়েছে হিন্দী ভাষা। কাজ করতে হয়েছে মাদক ও অস্ত্র কারখানায়। সেখানাকার বন্দিদশা থেকে কৌশলে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সে। এখন সে বাবা-মার বুকে ফিরে যেতে চায়। কিভাবে সে ভারতের একটি মাদক কারখানায় দীর্ঘ নয় বছর বন্দিজীবন কাটিয়েছে হিন্দী ও বাংলা ভাষায় তার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই সব বেদনাদায়ক কথাগুলো পাবনার চাটমোহর থানা পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানায় মাটি। পুলিশ জানায়, চারদিন আগে ভারত থেকে পালিয়ে বেনাপোল সীমান্তপার হয়ে খুলনা চলে আসে সে। রবিবার খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠে। কিন্তু ট্রেনে ঢাকা যাওয়ার পথে টিকেট না থাকায় তাকে পাবনার চাটমোহর রেলস্টেশনে নামিয়ে দেন ট্রেনের টিটিরা। পরে তাকে চাটমোহর থানায় সোপর্দ করে স্থানীয়রা। পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে মাটি বলে, ছেলেবেলা থেকেই মা-বাবা আমাকে মাটি বলেই ডাকতেন। তখন থেকে জেনেছি আমার নাম মাটি। আমার বাবার নাম জসিম খান। বাবা কাঠমিস্ত্রীর কাজ করতেন। বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে। এছাড়া আর কিছু বলতে পারছে না সে। তিন মাস আগে মাদক তৈরির কারখানা থেকে পালিয়ে আসার পথে কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয় সে। তিন মাস কারাভোগের পর আদালত তাকে মুক্তি দিলে সে পুলিশের সহায়তায় বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে আসে। চাটমোহর থানার ওসি জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার তাকে আদালতের অনুমতিতে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। মাটি জানায়, বাবা-মাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। আমি বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু কিভাবে আমি তাদের সন্ধান পাব তা জানি না।