মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ আগষ্ট ২০১৩, ১৪ ভাদ্র ১৪২০
নরসিংদীতে স্বামী-স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ২৮ আগস্ট ॥ পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামের আরমান ভূইয়া ও তার স্ত্রী মোসলেমা বেগমের গলিত লাশ তাদের নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের নিজ ঘরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার পর লাশ তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাদের গলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। জানা গেছে, আরমান ভূইয়ার পর্তুগাল প্রবাসী ছেলে টিটু মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিন মোবাইল ফোনে বারবার কল করে বাবা মার সঙ্গে কথা বলতে ব্যর্থ হয়। ফোনে তাদের না পেয়ে তার আত্মীয়স্বজনদের বিষয়টি জানায়। বুধবার সকালে স্বজনরা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বাহির থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে তারা খবর দিলে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাদের লাশ উদ্ধার করে।
স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

সংবাদদাতা আমতলী থেকে জানান, বুধবার দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের স্বামী সেন্টু মিয়ার নির্যাতনে স্ত্রী মাসুমা বেগম নিহত হয়েছে। জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সেন্টুর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় স্বামী তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সেন্টু মিয়া বলেন, স্ত্রী মাসুমা তার সঙ্গে অভিমান করে বুধবার সকালে ঘরে রাখা কীটনাশক পান করেছে। তাকে বুধবার সকালে আমতলী হাসপাতালে আনলে দুপুরে সে মারা যায়। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার জানান, মাসুমার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার পাকস্থলীতে বিষের আলামত পাওয়া গেছে। আমতলী থানা ওসি শামসুল হক জানান, স্বামী সেন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল তালতলী থানার। তাই আইনগত ব্যবস্থা তারা নেবেন।

যৌতুকই কাল হলো হাসির
নিজস্ব সংবাদদাতা, নীলফামারী, ২৮ আগস্ট ॥ যৌতুক বাঁচতে দিল না নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের নিজ ভোগডাবুড়ি মাঝাপাড়া গ্রামের নববধূ হাসি বেগমকে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে শিকার হয়ে ১৪ দিন পর বুধবার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, নয় মাস আগে একই ইউনিয়নের নিজ ভোগডাবুড়ি গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় ভোগডাবুড়ি মাঝাপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের মেয়ে হাসি বেগমের। বিয়ের দেন মোহর ছিল ৫ লাখ ১০১ টাকা। বিয়ের পর থেকে ৪ লাখ টাকার যৌতুকের দাবি করে আসছিল হাসিবুলের পরিবার। যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালাত হাসি বেগমের ওপর। হাসির বাবা মনির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের টাকার দাবিতে ঈদ-উল-ফিতরের ৪ দিন পর ১৪ আগস্ট বিকেলে স্বামী, শ্বশুরসহ পরিবারের লোকজন হাসিকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। হাসিকে ডোমার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মারা যায় সে। ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট ডোমার থানায় স্বামী হাসিবুল, শ্বশুর সোলায়মানসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা নম্বর ১৫ দায়ের করেছেন হাসির বাবা মনির উদ্দিন।