মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১ পৌষ ১৪১৮
নিম্নমানের উপকরণে বাঘায় সড়ক নির্মাণ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর বাঘায় এককোটি ২৮ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশিস্নষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশের নির্দেশনা উপেৰা করে উপজেলার বাউশা ইউনিয়নে ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছেন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপৰ (বিএমডিএ)'র আওতায় কাজটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন অভিযোগ করে বলেন, আর কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো কাজটির প্রথম অংশের কাজ শেষ হবে। কিন্তু এখন পর্যনত্ম যে অংশ সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর ইট খোয়া উঠে যাচ্ছে। রাসত্মা দেখে চেনার উপায় নেই যে, এটি নতুন রাসত্মা। ইটগুলোও নিম্নমানের। তিনি অভিযোগ করেন, ভালভাবে সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার টাকা খরচ করছে। অথচ বরাদ্দ টাকার তিন ভাগের একভাগও খরচ হচ্ছে না। লোক দেখানো কাজ করা হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের সদস্য আকরাম আলী অভিযোগ করেন, 'কাজটির শুরম্ন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক অনিয়ম করে আসছে। রাসত্মায় ওয়ার্ক পারমিট অনুযায়ী বালু এবং কার্পেটিংয়ে খোয়া দেয়া হচ্ছে না। এসব অনিয়মের অভিযোগ বিএমডিএ প্রকৌশলীদের অবগত করার পরও তারা এ বিষয়ে কোন পদৰেপ নিচ্ছে না।'
জানা যায়, চলতি বছরের ৮ জুন বিএমডিএ 'সুমন ট্রেডার্স' নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের গেদুর মোড় থেকে অমরপুর সাধুর আখড়া পর্যনত্ম ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার রাসত্মার কাজ শুরম্ন করে। বর্তমানে এই রাসত্মার কাজ শেষ পর্যায়ে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাজ তদারকিতে সেখানে সরকারী কোন প্রতিনিধি নেই। কার্যাদেশ অনুযায়ী ডাবস্নুবিএম ৫ ইঞ্চি দেয়ার কথা থাকলেও ৩ ইঞ্চির বেশি দেয়া হচ্ছে না। বালু মাটি আর সামান্য খোয়া দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সড়ক। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এভাবে সড়ক করলে তিনমাসের মধ্যে সব উঠে যাবে। কিন্তুু ঠিকাদারের অনুমতির বাইরে তাদের কিছুই করার নেই।
অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপৰের সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হক বলেন, এ ব্যাপারে স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমরা এখনও রাসত্মাটি বুঝে নেই নি। তিনি বলেন, রাসত্মা ভাল না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় রাসত্মা নির্মাণ করে দিতে হবে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স সুমন ট্রেডার্সে'র পরিচালক সিরাজুর ইসলাম খোকন দাবি করেন, কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। তিনি বলেন, কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ চলছে।