মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০১১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ভোলায় পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ॥ আহত অর্ধশত
কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জের ॥ তিন শ' জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ২৯ নবেম্বর ॥ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জুয়েল (১৩) নামে এক প্রতিবন্ধীর লাশ কবর থেকে উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ৩ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের দুই এসআইসহ অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট লাশ উত্তোলন করতে গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে তাদের দ্বিতীয় দফা ফিরে আসতে হয়। বর্তমানে গ্রামজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ কয়েক শ' গ্রামবাসীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।
জানা যায়, ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার আবু বকরপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে গত ৯ নবেম্বর ভোরে সগির হোসেন পাটোয়ারীর মানসিক প্রতিবন্ধী পুত্র জুয়েল (১৩) পানিতে ডুবে মারা যায়। জুয়েলের বাবার অভিযোগ, তিনি মামলার ব্যাপারে কিছুই জানেন না, ওসি ও চেয়ারম্যান ভুল বুঝিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখেছেন। আবু বকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও আমিনাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সায়েদুর রহমান মিঠু এবং চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজ হোসেন প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যানদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য আসামি করে কৌশলে একটি হত্যা মামলা করায়। এতে বাদী করা হয় জুয়েলের বাবাকে।
সূত্র জানায়, গত ২০ নবেম্বর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেসবাহুল ইসলামের লিখিত অনুমতি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরম্নল হাফিজ ও চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজ হোসেন কবর থেকে লাশ তুলতে গেলে গ্রামবাসী ও মৃতের পরিবার বাধা দেয়। তখন লাশ না তুলে তারা ফিরে আসে। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে কুয়াশার মধ্যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চরফ্যাশন সহকারী ভূমি কমিশনার নুরম্নল হাফিজ পুনরায় কবর থেকে লাশ উত্তোলন করতে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ লাশ উত্তোলন করবে এমন সংবাদ পেয়ে মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসী আগে থেকেই রাত জেগে কবরের পাশে পাহারা বসায়।
পুলিশ গাড়ি থেকে নেমেই মৃতের চাচাত ভাই নশু পাটওয়ারী ও বসু পাটওয়ারীকে হাতকড়া লাগিয়ে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করার চেষ্টা করে। এ সময় আটককৃতদের চিৎকারে শত শত গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে লাঠিসোটা, ঝাড়ু নিয়ে ছুটে এসে লাশ তুলতে বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশ নির্বিচারে গ্রামবাসীর ওপর এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করতে থাকে। উত্তেজিত গ্রামবাসী তখন পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে পাল্টা ইটাপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বেলা ৮টা পর্যনত্ম দফায় দফায় চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। একপর্যায়ে পুলিশ মৃতের পিতা ও মামলার বাদী মোঃ সগির পাটওয়ারীকে বেধড়ক পিটিয়ে ধানক্ষেতে মুমূষর্ু অবস্থায় ফেলে রাখে। এতে গ্রামবাসী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের ওপর লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে ম্যাজিস্ট্রেট বাদীকে গাড়িতে তুলে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিতে বলে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সোয়া ৮টার দিকে পুলিশকে হটিয়ে কবরের দখল নিয়ে আবারও মাটি ফেলে পূর্বের অবস্থায় নেয়। তারা বলে, জান দিমু তবু কবর থেকে লাশ তুলতে দিমু না।
সংঘর্ষের ঘটনায় চরফ্যাশন থানার ওসি রিয়াজ হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম, হারম্নন-অর-রশিদ, আশরাফুল ইসলাম, রাজু আহমেদ, ফেরদাউস আহমেদ, এএসআই নজরম্নল ইসলাম, মনির হোসেন, মামুন, কনস্টেবল ফরহাদ, দিদারম্নল, হেমায়েত, মাইনুদ্দিন, আমেনা বেগম, ফারজানা রত্না এবং আনসার ইয়ানুর ও হালিমা বেগমসহ অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল, রাজু আহমেদ এবং কনস্টেবল হেমায়েত ও মাইনুদ্দিনকে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের জরম্নরী বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।