মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০১১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪১৮
জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক কৌশল
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ২৯ নবেম্বর ॥ জামায়াতে ইসলামী এবার নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ইসলামী জালছা ও তাফসির মাহফিল শুরু করেছে। শীত মৌসুমে প্রতিটি জেলা উপজেলা ও ইউনিয়নে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচী। কর্মসূচী চলবে মার্চ মাস পর্যন্ত। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানের উন্নয়নের নামে এ জালছা চালানো হবে। এসব মাহফিলে জামায়াতের নির্দিষ্ট শতাধিক ওয়াজিনসহ দলের একদল প্রশিক্ষিত বক্তা সরকারবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা প্রতিটি মাহফিলে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতাদের অন্যায়ভাবে সরকার আটকে রেখে নির্যাতন করছে, এমন বক্তব্য রাখছেন।
জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এমন কয়েকজনের কাছ থেকে আরও জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধন বিশেষ করে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ উঠিয়ে দেয়া এবং নারী নীতির বিষয়ে জনগণকে তেঁতিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায় তারা। জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে অর্থ যোগান দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যারা লেনদেন করেন এমন কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। এছাড়াও অর্থের যোগান দিচ্ছে জামায়াত নেতাদের দ্বারা পরিচালিক বেশ কিছু বেসরকারী সংস্থা (এনজিও)। এসব বেশিরভাগ এনজিও এর অনুমোদন বা লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়। ওই সময় জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজহিদ ছিলেন সমাজ কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাবনা শহরের কাপড় পট্টিতে কাপড় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ইসলামী জালছায় প্রধান বক্তা ছিলেন দীগন্ত টেলিভিশনের ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওঃ আব্দুল্লাহ্ আল আমিন। তিনি জালছায় দীর্ঘ সময় ওয়াজ করেন। কোরান-হাদিসের আলোকে ওয়াজের পরিবর্তে তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। জামায়াতের নেতা যাদের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের তিনি পূতঃপবিত্র দাবি করেন এবং বলেন, আল্লাহর সৈনিক-সৎ ব্যক্তিদের অন্যায়ভাবে সরকার আটকে রেখেছে। এছাড়াও বর্তমান আওয়ামী লীগ জোট সরকারকে তিনি শয়তানের দোসর আখ্যা দেন। আরও বলেন, এই সরকারের হাতে ইসলাম ধর্ম নিরাপদ নয়। জালছায় জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতাদের বেশ তৎপর দেখা যায়। ধর্মীয় জালছায় এই ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা হওয়ায় আগের মতো শ্রোতা সমাগম হয় না। যারা ইসলাম ধর্মের আমল-আকিদা এবং হাদিস ও কোরানের আদেশ-নির্দেশসমূহ জানতে উপস্থিত হন তারা হতাশ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাবেশ ত্যাগ করেন।