মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০১১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪১৮
ব্রিজ দুটির ভবিষ্যত কী?
ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীতে ৪২ বছর ও নওগাঁয় পুঙ্গী খাড়ির ওপর ৯ বছর ধরে কাজ বন্ধ
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ২৯ নবেম্বর ॥ ৪২ বছরেও নির্মাণ হয়নি ঠাকুরগাঁওয়ের শ্রীকৃষ্টপুর শুক নদীর ব্রিজটি। ঠাকুরগাঁও রোড এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটি মোহাম্মদপুর ইউনিয়নকে শহরের সঙ্গে আলাদা করে দিয়েছে। ফলে আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কহরপাড়া, শ্রীকৃষ্টপুর, নারগুন, নিশ্চিন্তপুর, মোহাম্মদপুর, ফেসরাডাঙ্গী, মাতৃগাঁও, গিলাবাড়ি, রামপুর, হরিনারায়ণপুর এই ১০ গ্রামের সঙ্গে শহর এবং পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য ১৯৭০ সালে শুক নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ শুরু করে এলজিইডি। নদীর দু'তীরের কংক্রিট গার্ডার নির্মাণ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর পাশে স্থানীয়ভাবে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। তাও আবার টাকার বিনিময়ে পারাপার হতে হয়। আর বর্ষায় সেই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হওয়া যায় না। তখন চলাচল করে নৌকা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক ও স্কুলগামী শিশুরা। কৃষকরা ওই এলাকা থেকে তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজেই ঠাকুরগাঁও আড়তে আনতে পারেন না। তাঁদের প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে কৃষিপণ্য ঠাকুরগাঁও শহরের আড়তে আনতে হয়। আর শিশুরা পারাপার হয় ঝুঁকির মধ্যে।
গিলাবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান, মিনারুল হক ও আব্দুস সোবাহান বলেন, শাক সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য ঠাকুরগাঁও আড়তে নিতে অনেক পথ ঘুরতে হয়। এতে অনেক সময় পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। হরিনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম বলেন, শিশুরা স্কুলে যাতায়াত করে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে অভিভাকরা থাকেন আতঙ্কে।
ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান-ই- হাবীব ব্রিজটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ হলে এই এলাকার মানুষের হাজারো কষ্ট লাঘব হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি'র সদর উপজেলা প্রকৌশলী হরিকিঙ্কর মহন্ত ব্রিজটির গুরুত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ৪২ বছর আগের শুরু করা এ সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর ।
নিজস্ব সংবাদদাতা নওগাঁ থেকে জানান, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার পুঙ্গী খাড়ির ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ৯ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। শুধু অর্থাভাবে দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। মাঝপথে এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ হলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও ওই প্রকল্পে কোন অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। খাড়ির উভয় পাশে পাকা সংযোগ সড়ক থাকলেও পারাপারের জন্য ব্রিজ না থাকায় ওই সংযোগ সড়ক এলাকাবাসীর তেমন কোন কাজেই আসছে না। সড়ক দিয়ে দূরদূরানত্মের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগানত্মি পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে ওই খাড়ির মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৩টি পিলার।
বিগত ২০০৩ সালে এলজিইডির অর্থায়নে এ ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরম্ন হয়। কিন্তু অর্থাভাবে খাড়ির মাঝখানে ব্রিজের ৩টি পিলার তৈরির পর পরবর্তীতে আর কোন অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। ফলে, তখন থেকেই ওই ব্রিজ নির্মাণ কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ার ফলে জেলার সীমানত্মবর্তী আগ্রাদ্বিগুণ, শিবপুর, নিয়ামতপুর, ছাতড়াহাট, বড়গ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল, আড্ডা এবং রহনপুরের সঙ্গে নওগাঁ জেলা শহরের সরাসরি যানবাহন চলাচল শুরম্ন হচ্ছে না। মহাদেবপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের একটি সূত্র জানায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সংশিস্নষ্ট উর্ধতন কতর্ৃপৰ বরাবর একাধিকবার জানানো হলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও কোন সাড়া মেলেনি। অর্থ বরাদ্দ পেলেই প্রকল্পের কাজ শুরম্ন করা হবে বলেও সূত্র দাবি করে।