মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ১০ জুলাই ২০১১, ২৬ আষাঢ় ১৪১৮
ভারত সরকার প্রদত্ত ঘরের চাবি হস্তান্তর ॥ বাগেরহাটে সিডরবিধ্বস্ত গৃহহীনদের দেড় হাজার ঘর বিতরণ
দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ম্ভর মঙ্গা নেই, দুর্ভিৰ নেই ॥ খাদ্যমন্ত্রী
বাবুল সরদার, বাগেরহাট ॥ খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মঙ্গা নেই, নেই অভাব। ওএমএস, ফেয়ার প্রাইস, ৪০ দিনের কর্মসূচী, ভিজিডি, টিআর, কাবিখা এবং কৃষকবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এসব সম্ভব করেছে। আগামীতে দেশের ৭৭ লাখ পরিবারের চার কোটি মানুষকে ২৪ টাকা কেজি দরে চাল ও ২০ টাকা কেজি দরে আটা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এ পর্যনত্ম সুখেদুঃখে ভারত সরকার বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। সিডর বিধ্বসত্ম এলাকায় গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়ে সে বিষয়টি আবারও তারা প্রমাণ করেছে। শনিবার বিকেলে শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুল চত্বরে ভারত সরকারের দেয়া গৃহহীনদের মাঝে আনুষ্ঠানিভাবে ঘরের চাবি ও সনদ হসত্মানত্মর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। উপজেলার রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুল চত্বরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্র, সাবেক হুইপ হারম্নন অর রশিদ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, ত্রাণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জহিরম্নল হক ও শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন, হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনিল কুমার রায়, এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সোমনাথ ঘোষ, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার, খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, শরণখোলার ইউএনও খন্দকার জহিরম্নল ইসলাম প্রমূখ।
সভায় প্রধান অতিথি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, জোট সরকারের আমলের ৫ বছরে এক মেগাওয়াট বিদু্যত উৎপাদন করতে পারেনি। অথচ, গত আড়াই বছরে ১৪শ' মেগাওয়াট বিদু্যত আওয়ামী লীগ সরকার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে এবং আগামী আড়াই বছরে বিদু্যত সঙ্কট যা আছে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। জনগণ ভোট না দিলে পরবর্তী নির্বাচনে আমরা ক্ষমতায় আসব না। কিন্তু কোন হুমকি ধমকি ও হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও পাঁচ বছরের পূর্ণ হওয়ার আগে আমরা ক্ষমতা ছাড়ব না। ভরতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্র সিডর বিধ্বসত্ম গৃহহীনদের মধ্যে ঘর হসত্মানত্মরকালে বলেন, ঘর হসত্মানত্মরের মধ্য দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের আরেকটি মাইলফলক উন্মেচিত হলো। আমরা শুধু চাবি দিয়ে কাজ শেষ করব না বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ দুর্দশায় ভারত সরকার বাংলাদেশের পাশে থাকবে। হসত্মানত্মর করা প্রতিটি ঘরে সোলারের মাধ্যমে যাতে বাতি জ্বালানো যায় তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া, ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি বিদু্যত পস্ন্যান্ট তৈরি করবে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত, এদিন প্রথম পর্যায়ের ১৫ শ' ঘর হসত্মানত্মর করা হয়। বাকি ১৫শ' ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হলে হস্থানত্মর করা হবে বলে জানা গেছে। উলেস্নখ্য, ২০০৭ সালের ১৫ নবেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর দুর্গত শরণখোলা পরিদর্শনে এসে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী শরণখোলার গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহনির্মাণের আশ্বাস দেন। এই প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী পরবর্তীতে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে 'কনস্ট্রাকশন অব কোর শেল্টার ফর সিডর ফেকটেড এরিয়াস অব বাংলাদেশ আন্ডার গবর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া এইড' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় দুই হাজার আট শ' ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
এই প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং পস্ন্যানিং কনসালটিং লিমিটেডের (ইপিসি) দলনেতা (টিম লিডার) মতিউর রহমান জানান, চারটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।