মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ১০ জুলাই ২০১১, ২৬ আষাঢ় ১৪১৮
টুঙ্গিপাড়া ও দিরাইয়ে সংঘর্ষ গুলি
দোকান ভাংচুর, লুট ॥ আহত অর্ধশতাধিক
নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ, ৯ জুলাই ॥ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিন গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গেও তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ৪ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও, সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডের ১০টি দোকানে হামলা, লুটপাট ও একটি ব্যাটারীচালিত টমটম গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকালে স্থানীয় সরকারী শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একটি কক্ষে বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গড়িয়ে পরবর্তীতে পাটগাতী ও গিমাডাঙ্গা গ্রামের অসত্মিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়। দু'গ্রামের লোকজন ইট-পাটকেল, লাঠিসোটা, ঢাল-সড়কি, রাম-দাুসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে মুখোমুখি হয়। এ সময় পাশর্্ববর্তী শ্রীরামকান্দি গ্রামের লোকজনও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাটগাতী গ্রামবাসীকে সমর্থন দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে ৪ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পাটগাতী ও শ্রীরামকান্দি গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুুড়তে থাকে। পরে, গোপালগঞ্জ শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
গুরম্নতর আহতদের মধ্যে আব্দুর রহমান, জুলফিকার আলী, বাকা শেখ, রিফাত, সিদ্দিক, আজিজ, মিটু, ডাবলু, সামছুল হক ও মিরাজসহ, শামসুুল হক, ইমান শেখ, আবুদার, ইসলাম ফকির, এমদাদ গাজী, মোমিনুল ইসলাম, একিন শেখকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ ও গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিলস্নাল হোসেনকে খুলনা ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা সুনামগঞ্জ থেকে জানান, জেলায় দিরাইয়ে দুই গ্রামবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন আহত এবং তিনটি দোকান ও দুটি মোটর সাইকেল ভাংচুর হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন দিরাই পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বিকেল সোয়া পাঁচটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামসুল হক পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, দিরাই কলেজের শ্রেণী কক্ষে বসা নিয়ে শনিবার দুপুরে চন্ডিপুর ও বাঘবাড়ীর ছাত্রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে বিকেলে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জি্বত হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরম্নু করলে পৌর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দিরাই কলেজ রোডে প্রতিপক্ষের তিনটি দোকান ও দুটি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত শামসুল হক ও থানার ওসি আবু জাফর মোঃ সালেহ জানিয়েছেন, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ থামাতে ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং পৌর-এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে।

বাগেরহাটে ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রম্নপের সংঘর্ষে আহত ১০
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট, ৯ জুলাই ॥ বাগেরহাটের কচুয়ায় ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রম্নপের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের হাজরাপড়া এলাকায় হাফেজ গ্রম্নপ ও মাহফুজ গ্রম্নপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় গ্রম্নপের সুমন শেখ, মাহফুজ শেখ, বক্কার শেখ, রিপন শেখ, তাজিম শেখ, নুপুয়ারা বেগম, হাফেজ শিকদার, সোহাগ শিকদার, ছদর শিকদার, জাহিদ শিকদার, মিনারা বেগম, ইনতাজ শিকদার আহত হয়। আহতদের কচুয়া ও বাগেরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য উভয় একে অপরকে দায়ী করেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে উভয় গ্রম্নপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা সদর ও ঘটনাস্থলে আরও সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, হাফেজ শিকদারের ছেলে সুমন শিকদার ও শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ শেখ উভয়ের ডিশ লাইনের ব্যবসা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলা সদরের হাজরাপাড়া এলাকায় সোহাগ শিকদার ও তার লোকজন একটি বাড়িতে ডিশ লাইন দিতে গেলে মাহফুজ শেখের দেয়া ডিশলাইন কেটে দেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সোহাগ শিকদার অপর ডিশ ব্যবসায়ী মাহফুজ শেখকে চড় মারে। এ খবর পেয়ে মাহফুজ শিকদারের ছেলে সুমন শিকদার তার দলবলসহ ঘটনাস্থলে যায়। তখন সোহাগসহ তার লোকজন সুমনসহ তার লোকজনকে মারপিট করে। এতে ঘটনাস্থলে কয়েকজন আহত হয়। পরে সুমন উপজেলা সদরে ফিরে এসে তার লোকজন নিয়ে সোহাগ শেখদের ওপর হামলা করে। এতে উভয় গ্রম্নপের ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনার পর দুই গ্রম্নপই দলবল নিয়ে মহড়া শুরম্নু করে। তখন বাজারের দোকানদার ও লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে কচুয়া থানার পুলিশ দ্রম্নত ঘটনাস্থলে আসে। তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন কার হয়েছে।

তানোরে কৃষকের
বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ভাংচুর, লুট
স্টাফ রিপোটর্ার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর তানোরে ধানৰেতে গরম্ন ঢোকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কৃষক পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে প্রতিপৰের সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় গুরম্নতর আহত কৃষক আমিনুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমিনুলের ভাই মইনুল ইসলাম বাদী হয়ে তানোর থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
তানোর পৌর এলাকার তালন্দ মধ্যপাড়া মহলস্নার প্রভাবশালী আবুল কাশেমের ৰেতে ঢুকে আমিনুলের গরম্ন ধান খেয়েছে বলে আবুল কাশেম শুক্রবার সকালে আমিনুল ইসলামের স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমিনুল ইসলামের স্ত্রী বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে সে আবুল কাশেমের কাছে জানতে চায় কেন তার স্ত্রীকে গালিগালাজ করা হয়েছে।
এ নিয়ে দু'জনার মধ্যে বাগ্বিত-া শুরম্ন হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আবুল কাশেম তার স্বজনদের জানায়। এ নিয়ে শুক্রবার থেকে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলে। এরই জের ধরে শনিবার দুপুরে আমিনুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুর করে প্রতিপৰের সন্ত্রাসীরা। এ সময় আমিনুল গুরম্নতর জখম হলে তাকে প্রথমে তানোর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রামেক হাসপাতালে স্থানানত্মর করা হয়।
আমিনুলের ভাই মইনুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভিতরে ঢুকে মালামাল লুটপাটও করেছে।