মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ আগষ্ট ২০১০, ১৩ ভাদ্র ১৪১৭
যমুনার ভাঙ্গনে টাঙ্গাইলের মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে শুশুয়া গ্রাম
নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ যমুনার ভাঙ্গনে টাঙ্গাইলের মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে শুশুয়া গ্রাম। গত দুই সপ্তাহে এ গ্রামের সহস্রাধিক বসতবাড়ি, কমিউনিটি ক্লিনিক, তিনটি ফুটব্রিজ, ৭/৮টি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসাসহ অসংখ্য গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যমুনাগর্ভে হারিয়ে গেছে শুশুয়া গ্রামের একমাত্র হাই স্কুলটিও। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত। একইভাবে যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার একর ফসলী জমিও। চরম দুভের্াগে পড়া শুশুয়া গ্রামের অসহায় গৃহহীন অনেকেই খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, '৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর যমুনা নদীতে জেগে ওঠা বিশাল চরে মানুষ বসতি শুরম্ন করে। টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার অজর্ুনা ইউনিয়নে এ চরের একটি গ্রাম হলো শুশুয়া। পলি মাটির উর্বর জমিতে ফসল ও গাছপালায় যেন পরিপূর্ণ সাজানো গোছানো গ্রাম। ধীরে ধীরে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, কাঁচাপাকা সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসা। প্রতিবছর বষর্া মৌসুমে গ্রামের কিছু না কিছু অংশ যমুনার ভাঙ্গনের শিকার হলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত প্রায় পনেরো দিনের ভয়াবহ ভাঙ্গনে সব কিছুই নিঃশেষ হয়ে গেছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মানুষের ভিটেমাটি। গ্রামের একমাত্র শুশুয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত। বর্তমানে গ্রামের একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো করা চেয়ার টেবিলে কোন রকমে চলছে পাঠদান।
শুশুয়া গ্রামের সামছুল আলম জানান, এ গ্রাম ছাড়াও আশপাশের ১০/১৫টি গ্রাম ভাঙ্গন কবলিত হয়ে পড়েছে। পুরো গ্রামটি যমুনায় বিলীন হয়ে যাবার আশংকা করছেন তিনি। গ্রামের মাসুদুর রহমান, মফিজ উদ্দিন ও শাহাদৎ হোসেন জানান, সরকারী অথবা বেসরকারী সহযোগিতা না পেলে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে শুশুয়া গ্রামের মানুষের জীবনে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এম বজলুল করিম চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে ৪৬.৭২০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রসত্মদের গৃহনির্মাণ সহায়তার জন্য উর্ধতন কতর্ৃপক্ষের কাছে প্রসত্মাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থানানত্মরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।