মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৭ জুলাই ২০১০, ২ শ্রাবণ ১৪১৭
জলাবদ্ধতার কবলে গলাচিপা পৌর শহর, দুর্ভোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গলাচিপা ॥ গলাচিপা এখন জলাবদ্ধতার শহরে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার জনবহুল অধিকাংশ পাড়া মহলস্না থৈ থৈ করছে বর্ষার পানিতে। কোথাও হাঁটু পানি। আবার কোথাও তার চেয়ে বেশি পানিতে ডুবে আছে শহরের অধিকাংশ বাড়িঘর ও রাসত্মাঘাট। এমনকি সামান্য বর্ষায় ডুবে যায় পৌরভবন। পর্যাপ্ত পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং অপরিকল্পিত বাড়িঘর ও রাসত্মাঘাট নির্মাণ এর মূল কারণ বলে পৌর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও জলাবদ্ধতার কবল থেকে পৌরবাসীকে উদ্ধারে নেই তৎপরতা। ফলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসী। জলাবদ্ধতা পৌরবাসীর কাছে তাই প্রধানতম সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।
১৯৯৭ সালে গলাচিপা পৌরসভা গঠনের পরে শহরের লোকসংখ্যা বেড়েছে তিন-চারগুণ। সমানে পালস্না দিয়ে বেড়েছে বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাসত্মাঘাটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পৌরসভা দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও পৌর এলাকায় নেই বা গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। উপরন্তু শহরের পানি নেমে যাওয়ার জন্য অনেক আগে যে দুয়েকটি কালভার্ট ছিল তাও বন্ধ হয়ে গেছে। কালভার্টের দু' পাশের মুখ লোকজন মাটি দিয়ে ভরাট করে নিয়েছে। শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত খালটিও দু'পাড়ের বাসিন্দাদের অবৈধ দখলের শিকার হয়েছে। এক সময়ে যে খালটি দিয়ে লঞ্চ ও নৌকা চলাচল তা বর্তমানে রীতিমতো আবজর্নার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। শহরের অধিকাংশ পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে গেছে। তার ওপরে যে যেভাবে পারছে সে সেভাবে বাড়িঘর তুলছে। রাসত্মাঘাট তৈরি করছে। কোথাও নেই কোন ধরনের নীতিমালা। যে কারণে সামান্য এক ২ ঘণ্টার বর্ষাতেই তলিয়ে যাচ্ছে প্রায় গোটা পৌর এলাকা। বর্তমানে পৌর এলাকার আনন্দপাড়া, সবুজবাগ, আরামবাগ, চরখালী, রতনদী, পাঁচখালীসহ কয়েকটি পাড়ামহলস্নার জলাবদ্ধতা প্রকট আকার নিয়েছে। এসব এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ার কোনই ব্যবস্থা নেই। ফলে কয়েক হাজার বাড়িঘর ডুবে আছে পানির নিচে। পৌরবাসীর একটা বড় অংশকে প্রতিদিন পানির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। বাড়িঘরের পাশাপাশি এক দু'ঘণ্টা বর্ষা হলে শহরের বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, সদর রোড, দীঘিরপাড় সড়ক থেকে শুরম্ন শহরের অধিকাংশ রাসত্মা পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এমনকি খোদ পৌরভবনে প্রবেশ মুখের সড়কও তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে। এসব সড়ক দিয়ে লোকজনকে হাঁটুর ওপর কাপড় তুলে চলাচল করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে অসহনীয় দুর্ভোগ। এদিকে আবার জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ছে পোকামাকড় ও মশা মাছির উৎপাত। বেড়েছে সাপের উপদ্রব। বাড়ছে রোগ জীবাণুর আশঙ্কা। মরে যাচ্ছে গাছপালা।
জলাবদ্ধতা পৌরবাসীর প্রধানতম সমস্যা স্বীকার করে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী তরম্নণ কুমার ভক্ত বলেন, শহরে লোকসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে এ সমস্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এখনই এজন্য আগে ভাগে ব্যবস্থা নিতে হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধানে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। পৌর মেয়র আলহাজ আবদুল ওহাব খলিফাও সমস্যার ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন, পৌর এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য মাস্টারপস্নান নেয়া হয়েছে। যার কার্যক্রম আগামী বছর থেকে শুরম্ন হবে। তবে এ বছর আনন্দপাড়া-সবুজবাগসহ কয়েকটি পাড়ামহলস্নার পানি নিষ্কাশনে জরম্নরী কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন মাস্টারপস্নান কার্যকর করা গেলে পৌরবাসীকে আর জলাবদ্ধতার শিকার হতে হবে না।