মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৭ জুলাই ২০১০, ২ শ্রাবণ ১৪১৭
সাইফ পাওয়ার টেকের ছ'কর্মী গ্রেফতার
বন্দরে পণ্য চুরি
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে পণ্য চোর ও পাচারকারী চক্র। অসাধু কিছু কর্মকর্তা এবং বন্দর সংশিস্নষ্ট বেসরকারী সংস্থার যোগসাজশে ঘটছে পণ্য গায়েব করার ঘটনা। সর্বশেষ গত বুধবারও বন্দর অভ্যনত্মর থেকে প্রায় কোটি টাকার কাপড় চুরির অপচেষ্টা চলে। বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ এ ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্যে ৬ জনই সিসিটিতে (চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল) নিযুক্ত অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেডের কমর্ী। বাকি ২ জন হচ্ছে কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপার। বৃহস্পতিবারই তাদের পুলিশে সোপর্দ করে মামলা দায়ের করা হয়।
বন্দর থানা সূত্রে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেডের স্ট্রাডল কেরিয়ার চালক মনির, চেকার জামাল এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের চার শ্রমিক জামশেদ, হারম্নন, শহীদ ও আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া কাভার্ড ভ্যান চালক মোঃ সাগর ও জয়নাল আবেদিন এ চুরির চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে। বৃহস্পতিবারই এ ৮ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।
উলেস্নখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যনত্মর থেকে ৭২১ রোল কাপড় চুরির চেষ্টাকালে গত বুধবার একটি কাভার্ড ভ্যান ধরা পড়ে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা কমর্ীরা এ কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান আটক এবং এর সঙ্গে জড়িত ৮ জনকেও গ্রেফতার করে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সুরমা ট্রান্সপোর্টের একটি পরিবহন ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে বন্দর অভ্যনত্মরে ঢুকে পড়ে। কাভার্ড ভ্যানটি সিসিটিতে থাকা একটি কন্টেনারের পাশে অবস্থান নেয়। ঐ কন্টেনারে ছিল ৭২১ রোল কাপড়। আমদানিকৃত এসব কাপড় ভ্যানে লোড করার প্রস্তুতিও শুরম্ন হয়। কিন্তু যানবাহন ও এর সঙ্গে সংশিস্নষ্টদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় নিরাপত্তা কমর্ীরা এটিকে আটক করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। নিরাপত্তা কমর্ীরা এ ঘটনায় চার জনকে আটক করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, আটক পণ্য এবং চুরির চেষ্টার সঙ্গে সংশিস্নষ্টদের বিরম্নদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, এ পণ্যের আমদানিকারক ঢাকার মেসার্স এসএস ট্রেডার্স। সিমসন রোডস্থ বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি মার্কেটে এর অফিস। পণ্যগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর গত ২৩ মার্চ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে। ঘোষণার সঙ্গে বাসত্মবের গরমিল থাকায় কাস্টমস এগুলো আটক করে গত ২৮ মার্চ। তখন থেকে তা বন্দর অভ্যনত্মরেই রক্ষিত থাকে। এ পণ্যের ক্লিয়ারিং এজেন্টের দায়িত্বে ছিল চট্টগ্রামের বুলবুল এন্টারপ্রাইজ।


অবশেষে ফুলছড়ির সরদারের চর সরকারী বিদ্যালয়টি নদীতে ভেঙ্গে পড়ল

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ অবশেষে সকল উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কাকে সত্যে পরিণত করে ফুলছড়ির সরদারের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে ভেঙ্গে পড়ল। সেই সাথে মঙ্গাকবলিত জনপদের প্রায় ৫শ' শিশু শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে গেল।
ফুলছড়ির চরাঞ্চলে চিরায়ত নদীভাঙ্গনের বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সরদারের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই আগ্রাসী ব্রহ্মপুত্র উক্ত এলাকার বসতভিটা, জমিজমা বিলীন করে ধেয়ে আসতে থাকে নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবনের দিকে। গত দু'বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও এবার বষর্ার শুরম্নতেই ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গন পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র বিদ্যালয় ভবনের নিকটবতর্ী হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিযয়টি উপজেলা প্রশাসনেকে অবহিত করলে উপজেলা শিক্ষা কমিটির প্রধান উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিবর্গ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকগণ বিদ্যালয়ভবনটি নিলামে বিক্রির সিদ্ধানত্মের পরির্বতে নদীতে গাছপালা নিক্ষেপ করে ভাঙ্গন ঠেকানোর প্রয়াস চালায়। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষপর্যনত্ম বিদ্যালয়ভবনটি নিলামে বিক্রির সিদ্ধানত্ম নিয়ে টেন্ডার আহ্বান করে ১২ জুলাই সিডিউল বিক্রির দিন ধায্য করা হয়। কিন্তু তার ১ দিন আগেই অর্থাৎ ১১ জুলাই বিদ্যালয় ভবনের একাংশ নদীতে ভেঙ্গে পরে। যথাযথ কতর্ৃপক্ষের দোদুল্যমানতা সিদ্ধানত্মহীনতার কারণে যথাসময়ে নিলাম ডাকের ব্যবস্থা না করায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলো বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। এদিকে ভাঙ্গনকবলিত বিদ্যালয় ভবনটির আশপাশে কোন এলাকাবাসীকে দেখা না গেলেও কয়েক গ্রাম পুলিশকে পাহারারত অবস্থায় দেখা গেছে।