মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৭ জুলাই ২০১০, ২ শ্রাবণ ১৪১৭
চাঁপাইয়ে সরকারী গাছ লোপাট
প্রশাসন নীরব
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ জেলার পাঁচটি উপজেলাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের শত শত গাছ কেটে উজাড় করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। কিছু অসৎ কর্মচারীদের যোগসাজশে কখনও টেন্ডারের নামে আর কখনও গাছ শুকিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ওই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে যাচ্ছে। আর এতে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কিছুদিন ঘাপটি মেরে থেকে সম্প্রতি এ চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ বিষয়টি জানলেও কার্যকর পদৰেপ নিচ্ছে না। সমপ্রতি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের খড়গপুর-রঘুনাথপুর কাঁচা রাসত্মার ধার থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিশাল আকারের ৮টি কড়ই গাছ কেটে নিয়েছে চক্রটি। এক প্রভাবশালীর ইশারায় খড়গপুর গ্রামের জনৈক এমএ ইসলাম বাদশা দেওয়ান এ গাছ কাটার পর বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাঝে তোলপাড় পড়ে যায়। তারা বিএমডিএ থানায় মামলা দায়ের করে স্থানীয় একটি স' মিল থেকে কিছু কাঠ জব্দ করে। শিবগঞ্জ উপজেলা বিএমডিএ প্রকৌশলী জনকণ্ঠকে জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন সমবায় সমিতির প্যাড ব্যবহার করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে গাছ কাটার ভুয়া নির্দেশনামা এনে যেখান সেখান থেকে সরকারী গাছ কেটে নিচ্ছে। শিবগঞ্জ থানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও কেন এদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এমনকি ২০ লাখ টাকার কড়ই গাছ কাটার আসামি এমএ ইসলাম বাদশাকে আটক করেনি। সে এখনও একইভাবে প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় গাছ কেটে যাচ্ছে। অধিকাংশ গাছ বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিএমডিএর। বরেন্দ্র উন্নয়ন কতর্ৃপক্ষের এক শ্রেণীর কর্মচারী ও কর্মকর্তার যোগসাজশে কখনও টেন্ডারের নামে, আবার কখনও গাছ শুকিয়ে যাওয়ার অছিলা তুলে বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। অভিযোগ আছে, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টর আমিনুল হকের ভাই প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালীন সিংহভাগ কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছে। তারা জাতীয়তাবাদী ঘরানার। বর্তমানেও বিভাগটি নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এসব ঘরানার কর্মকর্তাদের দ্বারা। আর এরাই এভাবেই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে গাছখেকো সিন্ডিকেটকে মদদ দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০০১-২০০৬ পর্যনত্ম ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাসত্মার ধারের প্রায় ৮০ হাজার বনজ গাছ কেটে রেকর্ড সৃষ্টি করে এ চক্রটি। অধিকাংশ গাছ কেটেছে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত মাঠ পর্যায়ের ক্যাডার ও কর্মীরা। সেই সময়ে জেলার প্রতিটি থানায় একাধিক মামলা হলেও ফাইনাল রিপোর্টের মাধ্যমে আসামি খালাশ পেয়ে যায়। ধরা খেয়েছে বিএমডিএর উপজেলা প্রকৌশলীরা। কারণ তারাই বাদী হয়ে গাছ কাটার মামলা করায় উল্টো নানানভাবে নাজেহাল ও বদলির শিকার হয়েছে। কেউ কেউ নানানভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাতে। সেই গাছখেকো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। সড়কের পাশের শুকিয়ে যাওয়া মরা গাছ তথাকথিত টেন্ডারের নামে ডাক বা নিলাম করছে। গত ফেব্রম্নয়ারিতে শিবগঞ্জ উপজেলার ৫ গ্রম্নপে ১ হাজার ১১৫টি মরা গাছ ও ভোলাহাট উপজেলায় ৪ গ্রম্নপে ৭৪০টি মরা গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়। দরপত্রে শুধু মরাগাছ বিক্রি করা হলেও বরেন্দ্র কতর্ৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মরা গাছের আড়ালে দেদারসে জীবিত দামী গাছ কেটে নিয়েছে। জনসাধারণ তাদের জীবিত গাছ কাটতে বাধা দিলেও শেষ পর্যনত্ম সিন্ডিকেটের মসত্মান বাহিনীর হামলার মুখে পিছু হটে আসে। এ প্রসঙ্গে বিএমডিএর শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জীবিত গাছ কেটে নেবার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন। তারা বলেন, কোন ঠিকাদার টেন্ডার বহির্ভূত শুকনো গাছের বদলে জীবিত গাছ কাটলে তদনত্ম করে তাদের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিন মাস পেরিয়ে যাবার পরেও কেউ তদনত্মে নামেনি। গোমসত্মাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলী মামলা করলেও আসামি ও সাক্ষীর কোন নাম নেই। এদিকে বিষয়টি নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বিএমডিএর চেয়ারম্যান নূরম্নল ইসলাম ঠা-ুর কাছ পর্যনত্ম পেঁৗছলে দ্রম্নত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দেন। একইভাবে বরেন্দ্র অঞ্চল, নাচোল উপজেলার মুরাদপুর-বাজেহাকরইল কাটাকুড়ি, নেজামপুর-হাটবাকইল, খেসবা থেকে সিংরইল রাসত্মা ও খাড়ির ধারের কয়েক হাজার গাছ লোপাট করেছে গাছখেকোরা। খেসবা-সিংরইল খাড়ির দু'ধারে বিএমডিএর যে বনাঞ্চল গড়ে উঠেছিল তার ৬০% ভাগ কেটে নিয়েছে সিন্ডিকেট। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় উত্থাপিত হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে শুধু নাচোল অঞ্চলেই গত সাত বছরে ২৫ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়েছে।