মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
বিজয়ের মাস
‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্তলাল, রক্তলাল/জোয়ার এসেছে জনসমুদ্রে, রক্তলাল/বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল।’ চূড়ান্ত সময় এসেছিল একাত্তরে সে বাঁধন ছিন্ন করার। সেই লাল সূর্য প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছিল ডিসেম্বরে। আজ ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিন। শুরু হলো বিজয়ের মাসের যাত্রা। বাঙালীর জাতীয় ইতিহাসের উজ্জ্ব¡লতম একটি মাস। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গৌরবের পথ ধরে এসেছিল বিজয়ের তূর্যধ্বনি। বীর বাঙালীর বিজয়ের মাসের সূচনার প্রথম দিনটি ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস।’ গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিকরা এ দিবসের উদ্যোক্তা। ইতিহাসের পথ বেয়ে এসেছিল একাত্তর। সুদীর্ঘ সময়ের আন্দোলন, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে, স্বাধিকারের দাবি হতে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পথ বেঁধে দিয়েছিল একাত্তর। শত সহস্র বছরের বাঙালীর জীবনে প্র্রথম স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা জ্বেলে দিয়েছিল একাত্তর। আর তা এসেছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়। পাকিস্তানীদের শাসন, শোষণের নিগড় ভেঙ্গে বাঙালীর মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ষাট দশকের মাঝামাঝি ঘোষিত হয় ছয় দফা। ছয় দফার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় ছাত্র সমাজের এগারো দফা।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে দেশের মানুষের সমর্থনে বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানী জান্তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। একাত্তরের ১ মার্চ হতে শুরু হয় স্বাধীনতার অভীষ্ট লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু করে ‘অপারেশন সার্চ লাইটের’ নামে। সুপরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসনের মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে এবং পাকিস্তানী কারাগারে আটক রাখে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় যুদ্ধ, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। বাঙালী যোদ্ধারা গেরিলা কায়দায় ও সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী হানাদারদের পর্যুদস্ত করতে থাকে। ডিসেম্বরে এসে ভারত যুক্ত হয় বাংলাদেশের যোদ্ধাদের সঙ্গে। যুদ্ধে হেরে যায় পাকিস্তানীরা এবং নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আসে বিজয় ১৬ ডিসেম্বরে। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা পত পত উড়তে থাকে। এই স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষকে জীবন দান করতে হয়। সম্ভ্রমহানি ঘটেছে লাখ লাখ মা-বোনের ।
নবীন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যাতে যথাযথ ও সঠিকভাবে অবহিত হতে পারে, সেজন্য ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সরকারীভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, হলে তার ব্যাপকতা আরও বাড়বে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত হবে, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হবেÑ বাঙালী জাতি তাই আশা করে। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের অটুট আন্তরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান।