মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
সম্পাদক সমীপে
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই
চাঁদপুর সদরের ছোট গ্রাম চাপিলার অধিবাসী আমি হারুন অর রশিদ তালুকদার। পিতা মৃত হাজী হাছান আলী তালুকদার জীবদ্দশায় ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। অভাব অনটন ছিল না বললেই চলে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাকামী-মুক্তিকামী বাঙালী জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ল পাক হানাদারের বিরুদ্ধে। বসে থাকতে পারিনি আমিও। ঘরে ছোট এক শিশু সন্তান রেখেই চলে গেলাম ভারতের সরিলাম প্রশিক্ষণ শিবিরে। ক্যাপ্টেন শর্মার প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হয়ে মুক্তিবাহিনীর দল বৃত্তি ফৌজে যোগ দেই। কঠোর সংগ্রামের পর পেয়ে গেলাম একটি স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু হায়! মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় কোথায়ও আমার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরও আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সাত সন্তানের পরিবার নিয়ে সুখেই আছি আমি। পরিবারে অভাব-অনটন নেই। সকল সন্তানই ভাল আছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোন সুযোগ-সুবিধার দরকার নেই আমার। জীবনের শেষ মুহূর্তে যা দরকার তা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ওই অঞ্চলের সকল মুক্তিযোদ্ধা এমন কি সকল জনগণ। প্রমাণ নেই শুধু রাষ্ট্রীয় তালিকায়। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার আবেদন করলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ এর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস একটিবারের জন্যও যোগাযোগ করেনি। তাই জীবনের শেষ সময়ে এসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই।

হারুন অর রশিদ তালুকদার
ফারাক্কাবাদ, চাঁদপুর




আকুল আবেদন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির জনক। জাতির জনক হলো দেশের সব মানুষের জনক। জাতির জনককে কি লিয়ভাবে ব্যবহার করা কি ঠিক? সমীচীন? দলীয়ভাবে ব্যবহার করলে তো তিনি দলীয়ই রয়ে গেলেন। দলীয় সভায়, দলীয় মিছিলে, দলীয় পোস্টারে, ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং স্লোগানে বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করা কি ঠিক?
সদ্য এ জাতি দেখাল দলীয় কিছু লোক একটি জায়গা দখল করে সেখানে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি গেড়ে একটি খুঁটিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং আপনার ছবি টাঙ্গিয়ে রেখেছে। এইভাবে বঙ্গবন্ধুকে যেখানে সেখানে ব্যবহার করা কি বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা এবং দলীয় গণ্ডিকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়? আপনার নিকট অনুরোধ যেভাবে ব্যবহার করলে বঙ্গবন্ধু জাতির জনক আসনে সম্মানের সঙ্গে আসীন থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থা করুন।
আমির হোসেন
লক্ষ্মীপুর

শিশুদের বাঁচান

দার্শনিক থেলিস বলেন, পানি থেকে জগতের উৎপত্তি এবং পানিতে জগতের পরিণতি ঘটবে। কিন্তু জগতের পরিণতির পূর্বেই আমরা একটু অসচেতনতার জন্য পানি দ্বারা নিজেদের জীবন হারাচ্ছি। ছোট শিশুরা যখন বসা থেকে দাঁড়ানো শেখে বাড়ির আঙিনা দিয়ে ছোট ছোট পায়ে হাঁটে তখন আমরা বাবা মা, দাদা দাদিরা শিশুদের রেখে নানান কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। বাড়ির পাশে পুকুর বা ডোবাতে শিশুরা মনের অজান্তে চলে যায় এর পরিণতিতে ঘটে মৃত্যু।
তার পরও সচেতনতার অভাব আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। শিশুদের যখন পুকুরে বা ডোবাতে পাওয়া যায় তখন আমরা শিশুদের ক্লিনিক বা বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাই। অনেক সময় অনভিজ্ঞ ডাক্তার শিশুদের একটু নড়াচড়া করান এবং শিশুদের মৃত্যু বলে ঘোষণা দেন। পানিতে পড়া শিশুদের অনেক সময় দম বা শ্বাস আটকে থাকে। আমরা লবণ দিয়ে হাত বা পা মেসেজ করলে অনেক সময় দেখা যায় শিশু নড়ে উঠে। তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু আমাদের জানা উচিত যে, প্রাথমিকভাবে আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে পারি। শিশুদের পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করতে পারি। বড়দের মাথায় নিয়ে ঘুড়িয়ে পানি বেড় করে আমরা শিশুদের বাঁচাতে পারি।
সর্বোপরি আমাদের সচেতনতাই আমাদের শিশুদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে। আমরা পুকুর বা ডোবার পাশে বেড়া দিয়ে শিশুদের পুকুরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারি। আমরা সর্বদা শিশুদের প্রতি খেয়াল রেখে যতœ নিয়ে শিশুদের পানি থেকে দূরে রাখতে পারি।
জিএএ মুবিধ
ঠাকুরগাঁও

জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ
করতে হবে

বাংলাদেশে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে ভয় হয় এই ছোট্ট জায়গাতে এত মানুষকে সুন্দরভাবে বসবাস করার সুযোগ হবে কি? সরকার চীনের মতো বাংলাদেশের জনসংখ্যা রোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে যদি বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করে। পাকিস্তান আমলে পরিবার-পরিকল্পনা কর্মীদের বাসায় যেয়ে জনসংখ্যা রোধে মহিলাদের উপদেশ পরামর্শ শুধু দিতেন না জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিনা পয়সায় বিতরণ করতেন। এটা এখন দেখা যায় না। রেললাইনের পার্শ্বে বা রাস্তাঘাট ও ফুটপাতে এমন কি বস্তিতে বস্তিতে যে হারে বাল্যবিয়ে হচ্ছে আর পাশাপাশি জন্ম নিচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু। অথচ এদের কাছে কোন পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী যায় না। পরিবার-পরিকল্পনা অধিদফতরের কাজ কি? এই বিভাগটি প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে এক্ষেত্রে প্রাইমারি স্কুলের মহিলা শিক্ষিকাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। আরও পারে মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম ও শিক্ষকদের।
মনে রাখা উচিত আমাদের দেশের দিন দিন জনসংখ্যা যে হারে বেড়েই চলছে তাতে চাষাবাদের জমি কমছে, কমছে উৎপাদন খাদ্য রফতানির পরিবর্তে করতে হবে আমদানি। বেকারত্ব বাড়বে বিধায় অপরাধীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পরবে। অসৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে উঠবে। নিরাপত্তার অভাবে জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। বস্তিতে সন্ত্রাসী বাড়ছে। সরকারকে পুলিশের এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে কমিটি গঠন করে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। দেশে কোন ক্ষেত্রে
যেন অপরাধীর সংখ্যা বাড়তে না পারে সেজন্য থানায় থানায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। অপরাধীদের যেই প্রশ্রয় দেবে তারই ক্ষতি হবে বেশি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য থানা পুলিশকে আজ এগিয়ে আসতে হবে।
এক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। উপায় নেই এই দেশকে দ্রুত উন্নতি করতে হলে জনসংখ্যা রোধ করার কোন বিকল্প নেই। জনসংখ্যা রোধে চীনের উদ্যোগকে কাজে লাগাতে হবে। চীনে আজ গরিব লোকের সংখ্যা থেকে বিত্তশালী প্রচুর। নেই কোন অপরাধ। কারণ তাদের মধ্যে দেশ-বিদেশে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে চীন আজ শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর গড়ে উঠেছে। আমরাও একদিন পারব যদি জনসংখ্যা কমাতে পারি।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
ফরিদাবাদ, ঢাকা

প্রসঙ্গ ভারতীয় ছবি

ঢাকায় নির্মিত ছবিগুলো দেশে বাজার পাবে না বলে ১৯৬৫ সালের পর থেকে আমাদের দেশের সর্বত্র প্রতিটি ছবি ঘরে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনী বন্ধ রয়েছে। ঢাকার চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্র তারকা, কলাকুশলীদের ঘোর আপত্তির কারণেই ভারতীয় ছবি দেশের কোন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনীর আর কোন সুযোগ নেই। বছর দুই আগে কথা উঠেছিল, ‘ভারতীয় ছবি আসছে’Ñ এ সংবাদটি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার চলচ্চিত্র জগতের সবাই সেদিন সোচ্চার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের প্রতিবাদের কারণে ভারতীয় ছবি আনার বিষয়টি ওখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে কথা হলো, কতিপয় দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতার দ্বৈত আচরণ দেখে।
ইদানীং পত্রিকায় প্রকাশÑ ভারতীয় চিত্র তারকা ‘পাওলি দামকে’ এনে ঢাকার এক চিত্র নির্মাতা ছবি নির্মাণ শুরু“ করে দিয়েছেন। ভারতীয় ছবি আসতে দেয়া হবে নাÑএরাই বলে আর এরাই কিনা ভারতীয় তারকা এনে ছবি নির্মাণ করছেন। এতে কি আমাদের দেশের চিত্র তারকাদের ভাত মারা হচ্ছে না? ভারতীয় চিত্র তারকা পাওলি দাম ওই দেশে ‘বি-গ্রেডের’ তারকা।
অশ্লীলতার প্রতিকৃতিও বলা হয় তাকে। তাহলে অশ্লীল তারকা এনে ঢাকায় ছবি নির্মাণ কেন? এর বিরুদ্ধে দেশের চিত্র তারকারা কেন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন না, কেনই বা হচ্ছেন না সোচ্চার। যারা ভারতীয় তারকা এনে ছবি বানাচ্ছেন তাদের ছবি যেন দেশের কোন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে না পারেÑ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন কী? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের স্বার্থে শিল্পীদের স্বার্থে বিষয়টি তলিয়ে দেখুন।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা