মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২৬ আশ্বিন ১৪২০
আবার গার্মেন্টসে আগুন
বাংলাদেশে আবার গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের আসওয়াদ নিট কম্পোজিট কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৯ শ্রমিক নিহত হয়। ঘটনাস্থলে থেকে শ্রমিকদের অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধারণা করছেন, অগ্নিকাণ্ডে আরও কিছু লোক মারা গেছে; তবে এখনও তাদের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, কারখানার বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ডাইং সেকশনসহ দুটি নিটিং ইউনিট, গুদামঘর ও গ্যাস লাইনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কয়েকমাস আগে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকা- ও রানা প্লাজা ধসে বিপুলসংখ্যক পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশে গার্মেন্ট কারখানায় আরও একটি অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটল। বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ ইতোপূর্বে গার্মেন্টসে সংঘটিত কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর পশ্চিমা দেশসমূহে আমাদের গার্মেন্ট কারখানার পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছে। সে সময় পশ্চিমা কিছু বিখ্যাত ক্রেতা কোম্পানি বাংলাদেশে গার্মেন্ট মালিকদের এ বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তখন থেকে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। সবাই আশা করেছিলেন, গার্মেন্ট মালিকরা হয়ত কারখানার পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেবেন। ঠিক এমনই একটি স্পর্শকাতর অবস্থায় গাজীপুরের গার্মেন্ট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের জন্য বিপদের বার্তা বয়ে এনেছে।
গত তিন দশকে এখানে গার্মেন্ট শিল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। এদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ নারী। বিপুল সংখ্যক নারী গার্মেন্টসে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দেশজুড়ে নারীর ক্ষমতায়নের ফলে অনেকাংশে এটা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং গার্মেন্টসকে অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং এর উন্নয়নে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থাই নেয়া দরকার। শ্রমিকদের অবস্থা ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে গার্মেন্ট মালিকরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এতকিছুর পরও গাজীপুরে গার্মেন্টসে অগ্নিকা- দেশের জন্য একটি বড় আঘাত।
গত তিন দশক ধরে অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প বিশ্বে একটি সম্মানজনক স্থান দখল করেছে। গার্মেন্টস রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে চীনের পরই অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গার্মেন্ট কারখানায় প্রতিটি ফ্লোরে যাতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন থাকতে হবে। সরকারী পর্যবেক্ষক দল যাতে বছরে দু’তিনবার এসব কারখানা পরির্শন করে, তা নিশ্চিত করা দরকার। এ বিষয়ে ন্যূনতম দুর্নীতি কাম্য নয়। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগা যেন একটি নিয়মিত ঘটনা। প্রতিটি কারখানার বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় যাতে এতটুকু ত্রুটি না থাকে সে লক্ষ্যে সর্বক্ষণিক নজরদারি দরকার। এবার গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে যে শ্রমিকরা মারা গেছেন আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। নিহত শ্রমিকদের পরিবারপরিজনকে অবশ্যই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।