মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৩ আশ্বিন ১৪২০
সম্পাদক সমীপে
আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেসে একদিন
বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে চালু হলো নেত্রকোনা জেলাবাসীসহ সুনামগঞ্জ হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বহুল প্রত্যাশিত আন্তঃনগর ট্রেন ‘হাওর এক্সপ্রেস’। ক’দিন পূর্বে রাতে সদ্য চালু হওয়া উক্ত ট্রেনে চড়ে দেশের বাড়ি গিয়েছিলাম। ট্রেনটির প্রথম শ্রেণীর কেবিনে ভ্রমণকালে নিরাপত্তাহীনতার যে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ও সাধারণের অবগতির জন্য কিছু বলতে চাই। বিশেষত মাননীয় রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তাগণ যাতে অবহিত হতে পারেন ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। ভবিষ্যতে যারা রাতের বেলায় এই ট্রেনটিতে প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণে ইচ্ছুক তাদেরও সতর্ক হওয়ার বিষয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণে উপকৃত হবেন।
সময় মধ্যরাত। ট্রেনটি জয়দেবপুর স্টেশন অতিক্রম করার পরপরই কেবিনের দরজায় ধাক্কা। দরজা খুলে দিতেই চার পাঁচজনের একটি দল কেবিন প্রবেশ করে। তাদের সবার বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে। তাদের আচরণ ও দৈহিক ভাষা সুবিধাজনক ছিল না। তাদের সঙ্গে ট্রেনের কর্তব্যরত ইউনিফর্ম পরা কয়েকজনও প্রবেশ করে। সম্ভবত তারা বেসরকারী কোন সংস্থা কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তবে তাদের কী কাজ আমরা জানতে পারিনি।
সিøপিং বার্থ কেবিনে কেন এত লোক ঢোকানো হলো তা জানতে চাওয়াতে প্রবেশকারী ঐসব ব্যক্তি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে শুরু করে। ট্রেনে কর্তব্যরত ওই ব্যক্তিরা যারা ইউনিফর্ম পরা তারা এদের আচরণের প্রতি নীরব ভূমিকায় সহায়তা করে। যা দেখে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তাদেরকে ঘুষের বিনিময়ে ঢোকানো হয়েছে। এ পর্যায়ে চতুর্থ সিটের কোন টিকেট আছে কি-না জানতে চাইলে ইউনিফর্মধারী ব্যক্তিদের মদদে অনুপ্রবেশকারীরা চড়াও হওয়ার মতো আচরণ করতে থাকে; সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। তাদেরকে প্রকৃতস্থ মনে হয়নি।
এরূপ পরিস্থিতিতে উপস্থিত কর্তব্যরত ব্যক্তিরা শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকাই পালন করেনি। তারা নীরব সমর্থকের ভূমিকাতেও অবতীর্ন হয়। তাৎক্ষণিক মানসিক দৃঢ়তায় ঐসব উচ্ছৃঙ্খল ও মাতাল ব্যক্তিদের মোকাবেলার চেষ্টা করি। আমাদের জিরো অবস্থানের কারণে ওদের মধ্য থেকে একজন ব্যতীত অন্যরা কেবিন ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু তাদের আচরণের ফলে এই গভীর রাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাকি রাত পার করতে হয়। এক কথায় বলা যায় যে, কোন স্বাভাবিক ভদ্র যাত্রী এই পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারে না।
এরশাদউদ্দিন আহমদ
বারহাট্টা, নেত্রকোনা।
আস্থার সঙ্কট

আমরা সম্মানিত আলেমদের পেছনে নামাজ আদায় করি এবং ধর্মীয় বিষয়ে তাঁদের মতামত নিয়ে থাকি। একশ্রেণীর মাওলানা টাইটেলধারীর বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য পুরো আলেম সমাজকে যাতে অবিশ্বাসে ফেলতে না পারে সেজন্য আমার আজকের লেখা। ১৯৭০ সাল এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় একশ্রেণীর আলেম মসজিদে মসজিদে ইসলাম রক্ষার নামে পাকিস্তানীদের পক্ষে বিতর্কিত ফতোয়া দিতেন। কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের বিতর্কিত ফতোয়াকে ধূলিস্যাত করে দিয়ে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এ ধরনের আলেম তখন যে মুসলমানদের গাদ্দার, নাস্তিক ও কাফির বলেছিলেন মহান আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ ও মিথ্যাচারের কারণে তাদের ওপর মানুষের আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম
পূর্ব রামপুরা,ঢাকা


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচান
২০০৯ সালের ২৯নং আইনের বলে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং উত্তরবঙ্গের অনগ্রসর জনগণের জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র চার বছরের মধ্যেই চারটি চারতলা একাডেমিক ভবন, একটি বহুতল প্রশাসন ভবন, তিনটি আবাসিক হল, একটি লাইব্রেরী, চারটি ডরমেটরি, উপাচার্যের বাসভবন, মসজিদ, কাফেটারিয়া, ১০০০ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান কার্যক্রম চালু এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ বঙ্গবন্ধু তনয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আন্তরিকতার ফসল। এরই মধ্যে ছয়টি অনুষদের ২১টি বিভাগের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী ও ৯২ জন শিক্ষক সমন্বয়ে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা ও মুক্তজ্ঞান চর্চার তীর্থভূমি হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ও চেতনায় বিশ্বাসী সরকারের একান্ত আন্তরিকতায় অতি অল্পসময়ে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে অপরদিকে তেমনি দ্রুত সম্প্রসারিত একাডেমিক পরিকাঠামোর জন্য শিক্ষা উপকরণ ও জনবলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে পাল্লা দিয়ে। বর্ধিত অনুষদ ও বিভাগের জন্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ যেমন সময়ের দাবি তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল নিয়োগ অত্যন্ত জরুরী। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত পরিকাঠামোর অবকাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী যেখানে বর্তমান সময়ে এক হাজারের বেশি জনবল প্রয়োজন সেখানে ইউজিসি মাত্র ২৬০টি পদের অনুমোদন দিয়েছেÑযা অত্যন্ত হতাশাজনক ও যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব বলে আমরা মনে করি। তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অন্তরালে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের যোগসাজশে কিছু ব্যক্তি ও মহলের স্বার্থান্বেষিতা আর অরাজকতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পতিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত সময়ে হামলা-মামলা-অপপ্রচার আর ওই স্বার্থান্বেষী মহলের স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
একটি সামাজিক অনাচার

মানুষ রাগ হলে সে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে। রাগ প্রশমনের একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে গালাগালি করা। কারো ওপর রাগ হলে তাকে বকাবকি করলে রাগ অনেকটা কমে যায়। আমাদের দেশে প্রায় প্রত্যেকেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। যাঁরা অশিক্ষিত এবং গরিব তারা গালাগালি নিজের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে মনে করেন। একজন লেখক কৌতুক করে গরিবের গালাগালিকে গরিবের কবিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিভিন্ন দেশেও জনগণ গালাগালির মাধ্যমে রাগ প্রকাশ করে থাকেন। এ জন্য প্রত্যেক ভাষাতে কিছু বিশেষ নির্বাচিত শব্দ ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে অনেকে এমন অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন যা শুনে কানে আঙ্গুল দিতে হয়। তখন পরিবার-পরিজন সঙ্গে থাকলে ভীষণ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। গালাগালির মাধ্যমে রাগ প্রশমনের ব্যবস্থা একটি সামাজিক অনাচার। এ অনাচার থেকে সমাজকে মুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন। শালীনতা ও শিষ্টাচার ব্যতীত কোন জাতি ভদ্র বলে পরিচিতি লাভ করতে পারে না। সর্বজনীন শিক্ষা এ ব্যাপারে অনেক সহায়ক হবে বলে মনে করি। এ দিকটির প্রতি সমাজকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কবিতা চাক্লাদার
লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ,লক্ষ্মীপুর