মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৩ আশ্বিন ১৪২০
ঈদে বন্ধ হোক চাঁদাবাজি
পবিত্র ঈদ-উল-আযহার বেশিদিন বাকি নেই। তাই এই ঈদকে সামনে নিয়ে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে নানা কর্মপন্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার মধ্যে একটি হচ্ছে পরিবহনে চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমন। ঈদের সময় যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেশি ভাড়া আদায়, টিকেট কালাবাজারি ইত্যাদি প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এর মধ্য দিয়েই যাত্রীরা দূর-দূরান্তে গমন করতে বাধ্য হন প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার তাগিদে। ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায় ট্রাকে-ট্রলারে গরু বহনকে কেন্দ্র করে। ফেরিঘাটে অন্যান্য পচনশীল দ্রব্যের ট্রাক পারাপারের ক্ষেত্রেও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে। কোরবানির ঈদে অধিকসংখ্যক গরুবাহী ট্রাক-ট্রলার নিয়ে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরে যাতায়াত করে কাক্সিক্ষত দামে গরু বিক্রির আশায় । বস্তুত গরু ব্যবসায়ীরা কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করেই তাদের সারা বছরের লাভের একটা বড় অংশ ঘরে তুলতে চায়। অথচ এ সময় তারা ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজির শিকার হয় বলে প্রতিবছর অভিযোগ ওঠে। আর পথে পথে, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির কারণে কোরবানির পশুর দামও বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। এতে অনেকেই পছন্দমতো পশু কোরবানি দিতে গিয়ে হিমশিম খায়; অনেকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কোরবানি দিতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ঈদে চাঁদাবাজির আশঙ্কাকে সামনে নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও কর্মপন্থা গ্রহণের বিষয়টি সময়োচিত ও যথাযথ। কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক উৎসবের উপলক্ষটি যেন নানা অনৈতিক কার্যকারণে ম্লান হয়ে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিতকরণে সরকারের দায়িত্বই যে প্রধান, তাতে কোন সন্দেহ নেই। নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ফেরিঘাটে গরুবাহী ট্রাক পারাপারে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু বৈঠকের সিদ্ধান্ত আর নির্দেশগুলো যেন কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের। গরুবাহী ট্রাক-ট্রলার চলাচলের সময় ব্যবসায়ীদের ফেরিঘাটে-নদীতে যেমন চাঁদাবাজদের কবলে পড়তে হয় তেমনি সড়ক-মহাসড়কেও সমস্যা কম নয়। বিগত সময়ে সড়ক-মহসড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির খবরও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ছদ্মবেশে অনেক স্থানীয় দুর্বৃত্ত সড়ক-মহাসড়কে গরুবাহী ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করেছে, এমন খবরও শোনা গেছে। কখনও কখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কিছু সদস্যের দিকেও অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে। ফলে গরুব্যবসীদের সমস্যা-ভোগান্তি শেষ হয়নি কখনও।
আগের বিভিন্ন সময়ে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে-ট্রলারে চাঁদাবাজির অভিজ্ঞতার আলোকে আগেভাগেই এবারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। সড়ক-মহাসড়কে, ফেরিঘাটে ও নদীতে ট্রলারে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিম মোতায়েনসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নিবিড় মনিটরিং বজায় রাখলে ঈদে পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।