মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৩ আশ্বিন ১৪২০
অব্যাহত নারী নির্যাতন
ঘটনাগুলো যেন একই। আগেও ঘটেছে। এখনও ঘটছে। পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখতে গেলে হয়ত কখনও কম, কখনও বেশি হতে পারে। কিন্তু হিসাব-নিকাশের পাল্লায় সেটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঘটনা যে এখনও ঘটছে সেটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে এই কারণে যে, আগে এখনকার মতো এত সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। তখন বিষয়টি সর্বমহলে তত গুরুত্ব পায়নি। এখন মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। তার পরও যে ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
অবাক করার মতো। কেন এমন হচ্ছে? কেন এখনও অতীতের মতো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলবে? বিষয়টি নারী নির্যাতন। বিষয়টি একই সঙ্গে বেদনার, দুঃখের এবং লজ্জার। কিন্তু এগুলোই আসল কথা নয়। আসল কথা হচ্ছে বিষয়টি অপরাধের। নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সমাজের বিবেকবান সবাই দুঃখ পাবেন। ব্যথিত হবেন, সমাজে আজও যে এমন ঘটনা ঘটছে সেটা বুঝে লজ্জাও অনুভব করবেন। তবে সবাই একবাক্যে এটাই বলবেন, এটা বন্ধ হোক। যেভাবেই হোক নারী নির্যাতন বন্ধ হোক, নারীদের ওপর নির্যাতনকারীদের অপরাধের বিচার হোক, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। এক কথায় নির্যাতনকারীদের বিচার করতে হবে আইনমাফিক এবং নির্যাতিতদের পাশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাঁড়াতে হবে, তাদের পূর্ণ সম্মান মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই হচ্ছে সচেতন সবার প্রত্যাশা তথা দাবি। নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সে খবর পত্রপত্রিকায় আসে। পত্রিকার পাতায় মাঝে মধ্যেই এ ধরনের খবর দেখা যায়। এমনই কয়েকটি খবর প্রকাশিত হয়েছে জনকণ্ঠে বৃহস্পতিবার। এক খবরে জানা গেল, এক গৃহবধূকে স্বামী শিকলে বেঁধে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। গৃহবধূর নাকি অপরাধ স্বামী পঞ্চমবার বিয়ে করার জন্য অনুমতি চাইলে স্ত্রী সে অনুমতি দেয়নি।
ওদিকে আরেকটি খবর হচ্ছে, এক স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে নাকি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, স্ত্রী তাকে ষষ্ঠবার বিয়ে করার অনুমতি দেয়নি বলে।
আরেকটি ঘটনা, এক গৃহবধূকে পনেরো দিন আটক করে রেখে দুর্বৃত্তরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। ঘটনাগুলো দেশের নানা এলাকার। এ ধরনের খবর মানুষ জানতে পারলে তার মধ্যে একটা প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন্ সমাজে বাস করছি! এসমাজ থেকে কি নারী নির্যাতন দূর হবে না?
দেশে নারীরা শিক্ষাদীক্ষায় কাজকর্মে এগিয়ে আসছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষার হার যেমন বাড়ছে তেমনি অর্থনৈতিক কর্মকা-েও তারা এগিয়ে আসছেন। নারীদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়লে, তাঁদের কর্মসংস্থান বাড়লে অর্থাৎ অর্থনৈতিকভাবে তাঁরা স্বাবলম্বী হলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যোগ্যতা তাঁদের হবে। দেশে এই কাজটি অনেকখানি হয়েছে। কাজটি এখনও এগিয়ে চলেছে। এর পাশাপাশি চাই সমাজে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সার্বিক সচেতনতা। এর বিরুদ্ধে সৃষ্টি করতে হবে ঘৃণা।
এ সমস্ত ঘটনার ক্ষেত্রে অর্থাৎ প্রতিটি নারী নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার প্রসারে, অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বাবলম্বিতা এবং অপরাধীদের আইনের শাস্তি যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করা জরুরী। এসব নারী নির্যাতন দ্রুত কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে।