মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৩ আশ্বিন ১৪২০
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উদ্যাপিত হবে ২০২০-২১ সাল
মুহম্মদ শফিকুর রহমান
২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী। ২০২১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতার অর্ধশত বার্ষিকী তথা সুবর্ণজয়ন্তী। চেতনায় কাছাকাছি দুটি বার্ষিকী। কাকতালীয় নয়, বরং বঙ্গবন্ধুর জন্মের সাথে স্বাধীনতার জন্ম এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বার্ষিকী দুটি যত কাছে আসছে ততই রোমাঞ্চ অনুভূত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের বিদেশী প্রভুরা স্বাধীনতা হরণ করতে চেয়েছিল, পারেনি। দিন যত যাচ্ছে স্বাধীনতার ভিত তত মজবুত হচ্ছে। মাঝে মাঝে অবশ্য মিলিটারি, হাফ-মিলিটারিরা স্বাধীনতার লাল-সবুজ শরীরে পাকি-জোব্বা পরাতে চেয়েছে, পারেনি। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা অতন্দ্র প্রহরীর মতো স্বাধীনতাকে রক্ষা করে চলেছেন। ভিশন ২০২০-২১ বাস্তবায়ন করে চলেছেন। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনার হাতেই পালিত হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন আর কন্যা তার সংরক্ষণ ও শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এমনকি স্বাধীনতার পর যে কিসিঞ্জার বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তের অংশ হিসেবে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি’ সেই কিসিঞ্জারদেরই ঢাকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা এখন বলছেন, ‘বাংলাদেশ এখন উপচে পড়া ঝুড়ি’; ‘যেখানে যাচ্ছি উন্নয়নের জোয়ার দেখছি।’ মজেনা তার পূর্বসূরির পাপমোচন করতে চাইছেন সম্ভবত। সেদিন বাংলাদেশ একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ এবং বঙ্গবন্ধু সরকার ভারত-রাশিয়ার সাহায্যে দেশের পুনর্গঠন-পুনর্বাসন করছিলেন। ঠিক ঐ সময়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উক্তি তাদেরই সুনাম ক্ষুণœ করেছিল। তাদের সেই চক্রান্তের মূলে বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করা। তবে স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে না পারলেও এখানে জিয়া-এরশাদ-খালেদার মতো তাদের শিখ-ি মিলিটারি-হাফ মিলিটারিরা দাঁড়াতে সক্ষম হয়। এই শিখ-িরাই নাকে-মুখে মিথ্যা বলে আজও দেশের অগ্রগতি ঠেকাতে চাইছে। এই ষড়যন্ত্রও নস্যাৎ হবে। আমরা যারা শেখ হাসিনার প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধিকার-স্বাধীনতার জন্য রাজপথে লড়াই করেছি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নির্দেশে নেতৃত্বে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি, সেইদিন আমরাও বেঁচে থাকতে চাই, এই দোয়াই আল্লাহর কাছে করছি। আমরাও দেখতে চাই কিভাবে ইমরান-লাকিদের প্রজন্ম ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে এগিয়ে যাচ্ছে লাল সবুজের পতাকা হাতে করে। আলোকিত বাংলাদেশের পথে।
আমাদের এই বাংলাদেশের দুঃখ হলো বিএনপি নামক দলটি। এরা জন্মের প্রথম দিন থেকেই দেশটাকে পেছনে টানছে। আগে ছিল মিলিটারি জিয়া আর এখন হাফ মিলিটারি খালেদা জিয়া। মাঝখানে মিলিটারি এরশাদ। এরা তিনজনই দেশকে পাকিস্তানী পশ্চাৎপদ ধারায় নিয়ে যাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। পারেনি। তবে অনেক ক্ষতি করেছে, দেশের অগ্রযাত্রা শ্লথ করেছে। এ অবস্থা থেকে শেখ হাসিনা দেশের অগ্রযাত্রাকে শানিত করে এগিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। এখন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আলবদর আর শান্তি কমিটির পাকি দালালদের বিচার। সেই দেশ আজ মধ্যম আয়ের পথে। এখন আমাদের জিডিপি প্রতি বছর ৬%-এর ওপরে এবং মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪০ মার্কিন ডলার। একজন দিনমজুরও দিনে ৪০০-৬০০ টাকা আয় করছে। আর এখানেই খালেদা জিয়ার যত ভয়। রাজাকার-আলবদরদের বিচার হয়ে গেলে তার পাশে আর কেউ থাকবে না। কেননা এখন তার এক পাশে জামায়াত (আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল যাকে বলেছে ক্রিমিনাল পলিটিক্যাল পার্টি), আরেক পাশে রয়েছে হেফাজত (তেঁতুল তত্ত্ব দিয়ে বিতর্কিত)। কাজেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়ে গেলে (বস্তুত হয়েই গেছে, এখন রায় কার্যকর করা বাকি) এবং তাদের পবিত্র ইসলামের উদ্দেশ্যমূলক প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যদিকে তারেককে দেশে আনতে পারছে না (ফৌজদারী মামলার আসামি তো)। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া কোনভাবেই সুখকর অবস্থায় নেই। (অশিক্ষিত-দুর্নীতিপরায়ণ) ছেলেকেও সামনে আনতে পারছেন না।
পক্ষান্তরে শেখ হাসিনার সামনে প্রশস্ত পথ এবং তিনি দাপটের সঙ্গে হেঁটে চলছেন সামনের সুখকর দিনগুলোতে। এই তো এই লেখা যখন লিখছি তখন জাতিসংঘের অধিবেশনে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তৃতা করেছেন, নিজের যুগান্তকারী চিন্তা তুলে ধরেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরস্ত্রীকরণ জরুরী এবং অস্ত্র বানানো ও অস্ত্র কেনার অর্থ শিক্ষা খাতে স্থানান্তর করা দরকার। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে’। শেখ হাসিনা বক্তব্যটি দিচ্ছেন যখন হেফাজতিরা নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং খালেদা জিয়া তাদের পক্ষ নিয়েছেন। শেখ হাসিনার এই বক্তব্য পাকিস্তানের নারী শিক্ষা আন্দোলনের নির্যাতিত নেত্রী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই সমর্থন করেছেন। মালালার সমর্থন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অবস্থান আরও দৃঢ় সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছে। মালালা এখন আর পাকিস্তানের নারী শিক্ষা আন্দোলনের নেত্রীই কেবল নন, নারী শিক্ষার অধিকার আন্দোলনে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে এই সফরেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউইয়র্কে ‘সাউথ সাউথ পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়েছে। এর আগেও (১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে) দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতিসংঘের সোয়স পুরস্কার লাভ করেন। এমনকি সে মেয়াদকালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সর্বক্ষেত্রে সাফল্যের সূচকগুলোকে এমনভাবে বৃদ্ধি করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক কমিউনিটিও অবাক হয়েছিল এবং ভারতের বিশ্বভারতী, জাপানের ওয়াসেদা, আমেরিকায় বোস্টন, ব্রিটেনের ম্যানসেন্টার, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের এক ডজনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে সম্মানিত করে।
এই মেয়াদে অর্থাৎ ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত এই ৪ বছর ৯ মাসের মেয়াদে এত কাজ করেছেন যে, বিশ্ববাসী বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে। ১৬ কোটি মানুষের একটি দেশ যেখানে অনেক ঝড়-ঝাপটা মোকাবেলা করেই তাকে এগোতে হচ্ছে। একটি দিনের জন্য সংসদীয় বিরোধী দলের সমর্থন দূরের কথা, তারা সংসদ কার্যক্রমেও অংশ নেননি। এই পরিস্থিতিতে কতগুলো যুগান্তকারী কাজ করেছেন।
ক. প্রথমেই বলব খাদ্যোৎপাদন : পরীক্ষিত নেত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং ড. আবদুর রাজ্জাককে খাদ্য (নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে কেবল খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি করে (তিন কোটি ৮০ লাখ টন) দেশকে ‘আবারও’ খাদ্য-উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘আবারও’ শব্দটি এ জন্য ব্যবহার করলাম যে, শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদেও দেশ খাদ্যে-উদ্বৃত্ত হয়েছিল। তারপর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে আবারও খাদ্য ঘাটতিতে পরিণত হয়েছিল। ৪০ লাখ টন ঘাটতি ছিল। শেখ হাসিনা তা পূরণ করে আবারও উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন-পুনর্বাসন, ’৭৩-এ বিশ্বব্যাপী খরা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ’৭৪-এর ভয়াবহ বন্যা এবং বন্যা পরবর্তীতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ‘দুর্ভিক্ষ’ (গধহসধফব), এমনি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সরকার যখন সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করছিল তখনই শুরু হয় ষড়যন্ত্র। একটি উদাহরণ হলো উত্তরাঞ্চলের খাদ্যে ঘাটতি মোকাবেলার জন্য খাদ্যভর্তি একটি গুডস ট্রেন উত্তরবঙ্গে যাবার পথে পাকশীতে ২০ দিন আটকে দেয়া হয়েছিল। কেন আটকে দেয়া হয়েছিল তার কোন জবাব স্টেশন মাস্টার দিতে পারেননি। দৈনিক সংবাদের তৎকালীন রিপোর্টার বন্ধু আবু আল সাঈদ রিপোর্টটি করে খুব প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। এটি যে একটি স্যাবোটাস ছিল তাও তিনি পরিষ্কার করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত : আরেকটি ঘটনা হলো বঙ্গবন্ধু সরকার নগদ টাকা দিয়ে আমেরিকা থেকে খাদ্য ক্রয় করে জাহাজে করে আনছিলেন। সেই জাহাজ চট্টগ্রাম বা মঙলা বন্দরে না ভিড়িয়ে মুম্বাই বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। বলা হয় ভুল করে সেখানে যায়। পরে এই জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরে আসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর। এটি আরেকটি স্যাবোটাস।
তৃতীয়ত : ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের আগে বন্যার সময় ইত্তেফাক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা কবলিত এলাকা ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা এলাকায় আমাকে ও ফটোগ্রাফার রশীদ তালুকদারকে (মরহুম) এবং রংপুর এলাকায় সহকর্মী শফিকুল কবির ও ফটোগ্রাফার আফতাব আহমেদকে পাঠায়। আমার বন্ধুরা রংপুরে গিয়ে সেদিন ১০ টাকার বিনিময়ে জালপরা বাসন্তীর দুর্গতির উপাখ্যান রচনা করেছিলেন। পরে এই ঘটনাও যে একটি সাজানো ঘটনা ছিল এবং বাসন্তী দুর্গতিকে ১০ টাকা দিয়ে জাল পরিয়ে আফতাব আহমেদ ছবি তুলেছিলেন, তার একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছিল দৈনিক দেশ পত্রিকা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই রিপোর্টটি করেছিলেন আরেক বন্ধু রিপোর্টার উবায়দুল হক।
শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বাধ্যতামূলক প্রবাস জীবন থেকে দেশে ফিরে প্রথমে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি মিলিটারি জিয়া ও এরশাদের দেশকে পাকি ধারায় নিয়ে যাবার চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সফল করে ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর দলকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। এ সময়ের মধ্যে বার বার মন্দাপীড়িত মানুষকে সাহায্য করেন। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পর প্রথমেই রংপুরের চিলমারিতে বাসন্তী-দুর্গতিদের বাড়ি যান এবং বাসন্তীর জীবিকার নিশ্চয়তা প্রদান করেন (দুর্গতি তার আগেই ভারত চলে যায়)। পরে স্থানীয় ডাক-বাংলোয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কেবল এই চিলমারি নয়, আমি চাই চিলমারী-নীলফামারী-কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কোথাও ‘মঙ্গা’ ‘দুর্ভিক্ষ’ এসব শব্দ থাকবে না। কি করে করতে হবে, সে পথও আপনাদেরই বের করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হবে। এরপর উত্তরবঙ্গ মন্দামুক্ত হয়। ‘মঙ্গা’ ‘দুর্ভিক্ষ’ এই শব্দাবলীও বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছে।
অথচ সেই মঙ্গা নিয়ে আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সেই মন্তব্যÑ ‘বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি”Ñএটিকে বিএনপিসহ আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি বছরের পর বছর ঢেঁড়া পিটিয়েছে। অবশ্য এখন তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে। এখন সেই আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মজেনাই বলছেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। এখন বাংলাদেশ উপচে পড়া ঝুড়ি। যেদিকে তাকাই উন্নয়নের জোয়ার দেখতে পাই।’
শেখ হাসিনাকে যৌক্তিক পথে মোকাবেলা করতে না পারে বেগম খালেদা জিয়া ভিন্ন পথ ধরেছেন। তা হলো জামায়াত-শিবির-হেফাজতের ধর্মান্ধ-জঙ্গিবাদী পথ। একদিকে সশস্র জামায়াত-শিবিরকে মাঠে নামিয়ে পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাবের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে, জনগণের যানবাহন-দোকানপাট অগ্নিসংযোগ করানো হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতিদের মাঠে নামানো হয়েছে জঙ্গী চেহারা দিয়ে। ৫ মে হেফাজতের শাপলা চত্বরের জঙ্গী সমাবেশকে সমর্থন দিলেন। তাদের উচ্ছেদ করার পর এটাকে ‘গণহত্যা’ নাম দিয়ে একাত্তরের ‘পাকিস্তানী গণহত্যাকে’ ভুলিয়ে দিতে চাইলেন। বলা হয় দেড় লক্ষাধিক গুলি চালানো হয় এবং ২০০০-এরও বেশি লোককে হত্যা (?) করা হয়েছে। অথচ গত ৫ মাসেও মৃতের ব্যাপারটা কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। বরং হেফাজতের আমির শফীর তেঁতুল তত্ত্ব এবং ৫ মে বিজয়নগর-জিরোপয়েন্ট-বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিপিও ও বায়তুল মোকাররমের আশপাশে শত শত হকারের দোকান জ্বালিয়ে দেয়া হয়, বিশেষ করে বায়তুল মোকাররমের পাশের ধর্মীয় কিতাবের দোকানগুলোতে আগুন দিয়ে অসংখ্য পবিত্র কোরান ও হাদিস পুড়িয়ে দেয়া হয়। এটি এখন খালেদা জিয়ার গলার কাঁটা হয়ে গেছে। কেননা খালেদা জিয়া হেফাজতের সমাবেশকে সব রকম সহযোগিতা করার জন্যে তার দলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। দলীয় নেতা খন্দকার মোশাররফ, সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখকে সমাবেশ মঞ্চে পাঠান। এ সব কারণে খালেদা জিয়া ৫ মে’র ধ্বংসযজ্ঞের দায় এড়াতে পারেন না। জনগণ আজ তাকে সেই প্রশ্ন করছেন।
আরেকটি অবাক করার বিষয় হলো জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র জঙ্গীরা পুলিশ-র‌্যাবের ওপর হামলা বা যানবাহনের ওপর হামলার সময় প্রেস ফটোগ্রাফার, বিশেষ করে টেলিভিশনের মুভি-ক্যামেরা উপস্থিত থাকে। এমনও শোনা যাচ্ছে টিভি-ক্যামেরা না এলে তারা এ্যাকশনে যায় না। অপেক্ষা করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে একদল মুভি ক্যামেরাম্যান উপস্থিত হয় এবং শিবির জঙ্গীরা তখনি ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর তদন্ত হওয়া উচিত।
ঢাকা-২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
লেখক-ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক