মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১২ আশ্বিন ১৪২০
পেঁয়াজ সমাচার
টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করে যাবে আগামী কোরবানি ঈদের আগ পর্যন্ত। ফলে বাজারে দাম কমার আশা করা হচ্ছে। শীঘ্রই বাজারে পেঁয়াজ দাম কমে আসবে
ডিম ভাজিতে পেঁয়াজ না দেয়ায় এক রক্তারক্তি কা- ঘটে গেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের এক শহরে। বুধবার জনকণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে একথা। খবরটি হচ্ছে, এক ব্যক্তি সেখানে এক রেস্তরাঁয় ঢুকে ডিম ভাজার অর্ডার দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ডিম ভাজা এলো। খরিদ্দার ভাজা ডিম খেতে শুরু করলেন। একটু খেয়েই বুঝলেন মহাফাঁকিবাজি! ডিমে পেঁয়াজ নেই। প্রচ- মেজাজ খারাপ হলো তাঁর। ডিমে পেঁয়াজ কোথায়? কেন পেঁয়াজ দেয়া হয়নি। প্রথমে বচসা, তারপর স্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত কথাবার্তা। রাগে অগ্নিশর্মা তিনি। ডিম ভাজবে, পেঁয়াজ দেবে না! মাথায় যেন খুন চেপে গেল তাঁর। দোকানদারের সঙ্গে বচসা রাগারাগির এক পর্যায়ে পকেট থেকে পিস্তল বের করে ছুড়লেন গুলি। দোকানদার আহত। তারপর হাসপাতালে। খারিদ্দার পুলিশে সোপর্দ। পুলিশ বলেছে, খরিদ্দার লোকটি ভাল নয়, তার নামে আরও মামলা রয়েছে। এবারও হলো একটি মামলা। ঘটনার সারবস্তু এই। পেঁয়াজ ভারতেও আক্রা। দাম চড়ে গেছে অনেক। তাই টানাটানি চলছে। অনেকেই হয়ত কম কিনছে, হয়ত খাচ্ছেও কম। তবে ডিম ভাজিতে যে পেঁয়াজ না দিয়ে কাস্টমারের কাছে বিক্রিও করছে, সেটাই বোঝা গেল উপরের খবরে।
এখন আমাদের দেশেও পেঁয়াজ আক্রা। আমাদের কিছু পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এই আমদানির বেশিরভাগই ভারতের পেঁয়াজনির্ভর। ভারতে যেখানে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ হয় সেই এলাকায় অতিবৃষ্টি, বন্যা ইত্যাদি কারণে পিঁয়াজের ফলন মার খেয়েছে। তাই আমাদের আমদানিতে সঙ্কট। আমদানি হলেও দাম চড়া। ভারতেও দাম এক লাফে গাছে উঠেছে বলে জানা যায়।
আমাদের টিসিবি সামাল দিতে শুরু করেছে। কিছুদিন ধরে খোলা বাজারে ট্রাকে করে বিক্রি করছে পেঁয়াজ। কিছু আমদানি হয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আসছে বলে জানা গেছে। টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করে যাবে আগামী কোরবানি ঈদের আগ পর্যন্ত। ফলে বাজারে দাম কমার আশা করা হচ্ছে। শীঘ্রই বাজারে পেঁয়াজ দাম কমে আসবে। আমাদের বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে কি শুধু আমদানির সমস্যা আমদানি তো বেশ অনেকখানি হয়েছে যথেষ্ট দ্রুত। তাছাড়া কয়েকদিন ধরে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রিও শুরু করেছে; তাহলে এ সঙ্কট বাজারে কেন? এখানে কি কিছু অসাধু অতি মুনাফা লোভী সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজি কি নেই? বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।
কোন উৎসব বা পর্ব এলে একটা না একটা পণ্যের সঙ্কট সৃষ্টি লক্ষ্য করা যায়। একবার দেখা গেল চিনি নিয়ে সঙ্কেট। এবার সামনে কোরবানির ঈদ। এবার পেঁয়াজ নিয়ে সমস্যা।
কখনও দেখা যাবে আদা নিয়ে, রসুন নিয়ে বা অন্যকিছু নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা। এই চেষ্টাগুলোকে রুখতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তীক্ষè নজর রাখতে হবে। যাতে কেউ সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা না করে বা সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে সেটাকে আরও জটিল করে তুলতে না পারে।
পাশাপাশি দেশের অন্যত্রও পেঁয়াজ চাষ করা যায় কিনা, বিশেষ করে উর্বর পাহাড়ী পার্বত্য এলাকায় এর চাষ ব্যাপকভাবে করা সম্ভব কিনা, বিশেষজ্ঞদের সে ব্যাপারে পরামর্শ নিয়ে কাজে নামতে হবে। সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।