মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১২ আশ্বিন ১৪২০
রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে
সুন্দরবন বাঁচাতে, রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প বাতিল করতে এবং বিদ্যুত সঙ্কট সমাধানে ঘোষিত সাত দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত লংমার্চ শুরু হয়েছে। তেল-গ্যাস-খনিজসম্পাদ ও বিদ্যুত-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এই লংমার্চের ডাক দিয়েছে। এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হবে। তাঁরা অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান সরকার শুরু থেকেই জনকল্যাণের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সরকার ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালাতে হবে; তদন্ত করে দেখতে হবে, পরিকল্পিত এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রটি আসলেই সুন্দরবন ও পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে কিনা। তবে এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, বিদ্যুত উন্নয়নের চাবিকাঠি। বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এখানে সর্বস্তরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিইনই বাড়ছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিদ্যুতের অবস্থা আগের তুলনায় ভাল। লোডশেডিং আগের চেয়ে কমেছে। অবশ্য এতে আত্মসন্তুষ্টির কোন অবকাশ নেই। কারণ দেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদাও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। গ্রামীণ সামাজিক জীবন এখন অনেকাংশে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কিছু কিছু গ্রামে এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। দেশের বাকি গ্রামগুলোতে জনগণের অন্যতম প্রধান চাহিদা বিদ্যুত।
এ কারণে সরকার কিছু বড় বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র। কয়েকজন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদ মনে করেন, এর ফলে বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন বিনষ্ট হবে। সুন্দরবনের বেশ কিছু অংশ ভারতের মধ্যে পড়েছে। অবশ্য সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশ ও ভারতেরই নয়; তা একই সঙ্গে মানবঐতিহ্যের অন্যতম সম্পদ। সরকারের উচিত হবে, পৃথিবীর এই বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বা লোনাবনকে রক্ষা করতে উদ্যোগ নেয়া। সুন্দরবন শুধু অমূল্য সম্পদ নয়; বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে এটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও সামুদ্রিক প্লাবণ থেকে রক্ষা করে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য অনেকাংশে এই বনের স্থায়ীত্বের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং সুন্দরবনকে বাঁচাতে সম্ভাব্য যা কিছু কারণীয় সবই করতে হবে। কারণ ইতোমধ্যে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও লুটপাটের কারণে সুন্দরবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুত কেন্দ্র আমরা অবশ্যই চাই; তবে তা দেশের ক্ষতি করে নয়। সরকার ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জনস্বার্থে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেনÑ এটাই সবার প্রত্যাশা।